• ই-পেপার

সমঝোতা চুক্তি ঝুলছে ইরানিরা চূড়ান্ত সম্মতি দেয়নি

কুরাসাওকে ৭ গোলে উড়িয়ে শুরু জার্মানদের

মামুন উর রশীদ
কুরাসাওকে ৭ গোলে উড়িয়ে শুরু জার্মানদের
নবাগত কুরাসাওয়ের বিপক্ষে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির গোলোৎসব। ছবি : রয়টার্স

এক যুগ আগের বেলো হরাইজন্তের ইতিহাস ফিরেছে হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে। সেবার অন্যতম শক্তিধর ও হট ফেভারিট ব্রাজিলকে ৭-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠা জার্মানরা চ্যাম্পিয়ন হয় শেষ পর্যন্ত। গত দুই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বেই ছিটকে পড়ে শিরোপা ক্ষুধায় যেন কাতর দলটি। সে জন্যই এবার ৭-১ গোলে নবাগত কুরাসাওকে উড়িয়ে নতুন করেই যেন শুরু করেছে জার্মানি। প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে আসা কুরাসাও তাদের অভিষেকেই হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে এই মর্যাদার মঞ্চে লড়াইয়ের চ্যালেঞ্জটা কত কঠিন। আর এমন শুরুর পর অন্য ফেভারিটদের জার্মানরা বার্তা দিয়েছে এবার বিশ্বকাপে ট্রফির অন্যতম দাবিদার তারাও।

কুরাসাওকে ৭ গোলে উড়িয়ে শুরু জার্মানদেরডাচ অধ্যুষিত মাত্র দেড় লাখের কিছু বেশি  বেশি মানুষের দেশ কুরাসাও এবার বিশ্বকাপের টিকিট পেয়েই গড়ে রেকর্ড। কারণ মর্যাদার এই আসরের ইতিহাসে এত কম জনসংখ্যা ও এত ক্ষুদ্র কোনো দেশ খেলার সুযোগ পায়নি আগে। সেই দলটি প্রথম ম্যাচেই জার্মানির মতো সফলতম এবং বড় দলের মুখোমুখি হয়ে শুরুতে বেশ ভালোই খেলেছে। দলের বেশির ভাগই ইউরোপের বিভিন্ন লিগে খেলার কারণে তাদের ইউরোপিয়ান ফুটবলের সঙ্গেও পরিচিতিটা ভালোভাবেই আছে। সেটিই তাদের খেলোয়াড়দের মধ্যে তৈরি করেছে বেশ লড়াকু মনোভাব। জার্মানির বিপক্ষে নিজেদের ঐতিহাসিক ম্যাচে তাই ২১ মিনিটেই একটি গোল আদায় করে নেয় তারা। হাইড্রেশন ব্রেকের ঠিক আগ মুহূর্তে লিভানো কোমেনেনসিয়া গোল করে ক্যারিবিয়ান দ্বীপ দেশটির ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই করে নেন। অবশ্য এর আগেই জার্মানরা এগিয়ে যায় ফেলিক্স এনমেচার গোলে। মাত্র ছয় মিনিটের সময় তিনি ফ্লোরিয়ান ভির্টজের বাড়ানো বল থেকে লক্ষ্যভেদ করেন। লিড পেতেও দেরি হয়নি নিজেদের গুছিয়ে নেওয়া চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের। ৩৮ মিনিটে নাথানিয়েল ব্রাউনের কাছ থেকে বল পেয়ে গোল করেন নিকো শ্লটারবেক (২-১)।

এরপর আক্রমণ ধারালো হতে থাকে জার্মানির। দুই দলের মধ্যে র‌্যাংকিংয়ের ব্যবধান ৭২, সেটিই মাঠে ফুটিয়ে তোলে শক্তিমত্তার পার্থক্য। একের পর এক আক্রমণে কোণঠাসা কুরাসাও প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ভুল করে বসে। পেনাল্টি থেকে গোল করেন চৌকস ফরোয়ার্ড কাই হাভার্টজ। প্রথমার্ধে ৩-১ গোলে এগিয়ে থাকার স্বস্তি নিয়ে বিরতিতে যায় তারা। দ্বিতীয়ার্ধেই কার্যকর মিডফিল্ডার জামাল মুসিয়ালা গোল করে ব্যবধান বাড়িয়েছেন জশুয়া কিমিখের কাছ থেকে বল পেয়ে। এত গোল হজম করার পর আর মাঠে খুঁজেই পাওয়া যায়নি বিপর্যস্ত কুরাসাওকে। ৬৮ মিনিটে তাই ব্যবধান বাড়িয়ে ৫-১ করেছেন ডিফেন্ডার নাথানিয়েল ব্রাউন। এই গোলের উৎস ছিলেন ডেনিজ উনদাভ। তিনিই ১০ মিনিট পর করেছেন পরের গোলটি। কিমিখের কাছ থেকে বল পেয়ে জালের দেখা পান এই স্ট্রাইকার। সেখানেই দুর্দশা কাটেনি কুরাসাওয়ের, ৮৮ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে ৭-১ গোলের বড় জয় নিশ্চিত করেছেন হাভার্টজ। গত ১২ বছরে বিশ্বকাপে এটিই কোনো দলের দ্বিতীয় সর্বাধিক ব্যবধানের জয়। গত আসরে গ্রুপ পর্বে স্পেন ৭-০ গোলে কোস্টারিকাকে হারিয়েছিল।

খুলনায় এবার মসজিদে ঢুকে গুলি, দুজন গুলিবিদ্ধ

খুলনা অফিস
খুলনায় এবার মসজিদে ঢুকে গুলি, দুজন গুলিবিদ্ধ

এবার মসজিদে গুলির ঘটনা ঘটল খুলনায়। এতে মসজিদ কমিটির সেক্রেটারিসহ দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গুলিবিদ্ধরা হলেন মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি লোকমান হাকিম (৪৫) ও মুসল্লি আলম মণ্ডল (৫৫)। গতকাল রবিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নগরীর দৌলতপুর থানাধীন পশ্চিম কাশিপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র জামে মসজিদে ফজরের নামাজের পর এ ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধ লোকমান হাকিম উত্তর কাশিপুরের মৃত আব্দুল জব্বার শেখের ছেলে ও আলম মণ্ডল একই এলাকার মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফজরের নামাজের পরপরই কয়েকজন অস্ত্রধারী মসজিদে ঢুকে লোকমান হাকিমকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। ওই সময় পাশে থাকা আলম মণ্ডলও গুলিবিদ্ধ হন। গুলিটি লোকমানের মাথায় লাগে। তিনি গুরুতর আহত হন। প্রথমে তাঁদের দুজনকেই খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। লোকমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হয়।

অন্যদিকে আলম মণ্ডলের মাথা, গলার বাঁ পাশ এবং ডান হাতের বাহুতে গুলি লাগে। তাঁকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা  দেওয়া হচ্ছে। তিনি আশঙ্কামুক্ত বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। খবর পেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) সহকারী কমিশনার মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। হামলার কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এ ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

 

কুড়িগ্রাম ও চুয়াডাঙ্গা দিয়ে পুশ ইনের চেষ্টা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
কুড়িগ্রাম ও চুয়াডাঙ্গা দিয়ে পুশ ইনের চেষ্টা

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফ বাংলাদেশের কয়েকটি সীমান্তপথে পুশ ইনের চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয়রা তা ঠেকাতে সতর্ক রয়েছে। জানা গেছে, বিএসএফ চুয়াডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে ১১ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা করেছে। ছয়জনকে পুশ ইনের চেষ্টা করেছে কুড়িগ্রাম সীমান্তে। অন্যদিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে শূন্যরেখায় ১২ জনই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

 

চুয়াডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে ১১ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা : চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি জানান, চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা জয়নগর চেকপোস্ট সীমান্ত দিয়ে শিশুসহ ১১ জনকে পুশ ইন করার সময় বিজিবি ও গ্রামবাসী তা প্রতিহত করে। গত রবিবার ভোররাত ৩টা ৫৫ মিনিটে সীমান্তের ৭৬-৭৭ নম্বর মেইন পিলারের কাছে এ ঘটনা ঘটে। বিজিবি ও গ্রামবাসী সূত্রে জানা যায়, ওই সময় চুয়াডাঙ্গা-৬ ব্যাটালিয়নের দর্শনা চেকপোস্ট বিজিবি ক্যাম্পের টহলরত সদস্যরা গ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে বিএসএফের চেষ্টা প্রতিহত করেন। বিজিবির চুয়াডাঙ্গা-৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সীমান্তে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

 

কুড়িগ্রাম সীমান্তে ছয়জনকে পুশ ইনের চেষ্টা : কুড়িগ্রাম থেকে আঞ্চলিক প্রতিনিধি জানান, কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের গয়টাপাড়া সীমান্তে নারী ও শিশুসহ ছয়জনকে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। গত শনিবার দিবাগত রাতে ভারতের ঝালুরচর বিএসএফ ক্যাম্প থেকে তাঁদের সীমান্ত এলাকায় নিয়ে আসা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুশ ইনের জন্য আনা ওই ছয়জন বর্তমানে ভারতীয় ভূখণ্ডের প্রায় ৫০ গজ ভেতরে অবস্থান করছেন।

বিজিবি সূত্র আরো জানিয়েছে, রৌমারীর ভন্দুরচর সীমান্ত দিয়েও বাংলা ভাষাভাষী তিনজন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করেছে বিএসএফ।

অন্যদিকে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার দক্ষিণ অনন্তপুর-নাজিরহাট সীমান্তে দিনভর পুশ ইন-পুশ ব্যাক নাটকীয়তার পর এক বাংলাদেশি শিশুকে ফেরত নিয়েছে বিজিবি। শনিবার দিবাগত রাতে মেইন পিলার ৯৪৩-এর ৩এস সংলগ্ন এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকের পর শিশুটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিজিবি গয়টাপাড়া বিওপির সদস্যরা সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। গয়টাপাড়া বিওপির হাবিলদার মাসুদ রানা বলেন, যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে।

 

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে শূন্যরেখায় ১২ জনই অসুস্থ : কুষ্টিয়া থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে পুশ ইনের চেষ্টার শিকার শিশুসহ ১২ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁদের মধ্যে আড়াই বছরের শিশু সামাদসহ চার শিশু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে গতকাল সোমবার পর্যন্ত তাঁরা সীমান্তের শূন্যরেখায় পাটক্ষেতে খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টি ও গরমের মধ্যে এক কাপড়ে অবস্থান করছিলেন।

নতুন করে আরো তিনটি পৃথক সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে বিএসএফের বিরুদ্ধে আবারও পুশ ইনের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার দিবাগত রাতে চর বিলগাথুয়া সীমান্ত দিয়ে চারজন এবং জয়পুর সীমান্ত দিয়ে আরো আটজনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়। এ ছাড়া গতকাল সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চল্লিশপাড়া সীমান্তপথে এক ব্যক্তিকে পুশ ইনের চেষ্টা করলে বিজিবি তাঁকে ভারতে ফেরত পাঠায়। বিজিবি জানায়, তাদের কড়া নজরদারি ও টহলের কারণে এসব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

আজ আষাঢ়ের প্রথম দিন

নওশাদ জামিল
আজ আষাঢ়ের প্রথম দিন
বর্ষার ফুল কদম। গতকাল নারায়ণগঞ্জ থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ভাষা ধার করে বলা যায়, এই মনোরম মনোটনাস শহরে আবারও এসেছে সুন্দর বৃষ্টির দিন। গাছের পাতায়, ছাদের রেলিংয়ে, জানালার কাচে কিংবা দূর দিগন্তের খোলা প্রান্তরে ঝমঝমিয়ে ঝরে পড়বে অঝোর ধারার সুরেলা সংগীত। ভেজা মাটির সোঁদা গন্ধে, মেঘের গর্জনে আর বৃষ্টির ছন্দে প্রকৃতি ফিরে পাবে তার আপন প্রাণ। আজ সোমবার, আষাঢ়ের প্রথম দিন। শুরু হলো বর্ষা ঋতু। আষাঢ়, তোমায় স্বাগত।

বাংলার ছয় ঋতুর মধ্যে বর্ষার আবেদন ভিন্নধর্মী। গ্রীষ্মের তাপদাহ ও রুক্ষতার পর বর্ষা প্রকৃতির বুকে নিয়ে আসে নতুন প্রাণের স্পন্দন। আকাশজুড়ে জমে ওঠা কালো মেঘ, দূরে মেঘের গর্জন, ঝুম বৃষ্টির শব্দ আর ভেজা মাটির সোঁদা গন্ধ যেন নতুন করে অনুভব করতে শেখায় জীবন ও প্রকৃতি।

বর্ষাকাল বাংলার প্রকৃতি, কৃষি, সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ। আষাঢ়-শ্রাবণের বৃষ্টিতে তপ্ত মাটি ফিরে পায় সজীবতা। শুকিয়ে যাওয়া গাছপালা সবুজ হয়ে ওঠে, নদী-খাল-বিল ভরে ওঠে পানিতে। কৃষকের মাঠে জাগে নতুন আশার আলো। কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জীবনের সঙ্গে বর্ষার সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর।

বর্ষা বাঙালির সাহিত্য, সংগীত ও শিল্পকলারও চিরন্তন অনুষঙ্গ। কদম ফুল, মেঘলা আকাশ, নদীর উচ্ছ্বাস, ব্যাঙের ডাক কিংবা বৃষ্টিভেজা বিকেলসব মিলিয়ে বর্ষা হয়ে ওঠে আবেগময় এক অনন্য অনুভূতি। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জীবনানন্দ, জসীমউদ্দীনসহ বাংলা সাহিত্যের প্রায় সব বড় কবি-সাহিত্যিক তাঁদের সৃষ্টিতে বর্ষাকে নানা রূপে তুলে ধরেছেন। রবীন্দ্রনাথের বর্ষার গান বৃষ্টির দিনে বাঙালির মনকে আলোড়িত করবেই।

বর্ষা শুধু আনন্দের নয়, কিছু বিড়ম্বনাও নিয়ে আসে জীবনে ও প্রকৃতিতে। বিশেষ করে নগরজীবনে। রাজধানীসহ দেশের বড় শহরগুলোয় ভারি বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, যানজট ও ভোগান্তি বেড়ে যায়। আর অতি বৃষ্টি নিয়ে আসে বন্যা, নদীভাঙনের মতো বিপর্যয়।

সবকিছুর পরও বর্ষা বাঙালির অন্যতম প্রিয় ঋতু। কারণ এই ঋতু প্রকৃতিকে নতুন জীবন দেয়, মানুষের মনে জাগায় স্বপ্ন ও সৃজনশীলতার নতুন আলো।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বর্ষাকে বরণ করে নিতে নেওয়া হয়েছে নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন। গান, কবিতা, আবৃত্তি ও নৃত্যানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হবে আষাঢ়স্য প্রথম দিন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বর্ষার স্মৃতি, অনুভূতি ও শুভেচ্ছায় মুখর থাকবেন অনেকে।

বর্ষা উৎসব উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে গত ১৮ বছর ধরে আষাঢ়স্য প্রথম দিবসে বর্ষা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এর ধারাবাহিকতায় এবারও আয়োজিত হচ্ছে বর্ষা উৎসব-১৪৩৩। আজ সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশের দক্ষিণ পাশের চত্বরে সকাল ৭টা ২০ মিনিটে শিল্পী মো. মিনহাজুল হাসান ইমনের রাগসংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে উৎসবের শুভ সূচনা হবে।

বর্ষা কথন পর্বে সভাপতিত্ব করবেন লেখক, গবেষক ও নৃত্যশিল্পী অধ্যাপক ড. নিগার চৌধুরী। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বরেণ্য আবৃত্তিশিল্পী ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা আশরাফুল আলম এবং বাংলাদেশ গণসংগীত সমন্বয় পরিষদের সভাপতি কাজী মিজানুর রহমান। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেবেন বর্ষা উৎসব উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী সুইট।

অন্যদিকে আজ সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে বর্ষা উৎসব-১৪৩৩। ওস্তাদ জাবীর ইমাম খান শাহী রাগ মিয়া কি মল্লার পরিবেশনের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। দিনব্যাপী এ আয়োজনে পরিবেশিত হবে বর্ষার গান, কবিতা ও নৃত্যের নানা পর্ব। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উদীচীর কেন্দ্রীয় সংগীত বিভাগের পাশাপাশি সমবেত সংগীত পরিবেশন করবে উদীচীর উত্তরা ও ডেমরা শাখা।