• ই-পেপার

লেজার রিসারফেসিং ত্বকে তারুণ্যের জাদু

আধুনিক লেজার ও এসথেটিকস চিকিৎসা

সুন্দর ও সুস্থ ত্বকের নতুন দিগন্ত

সুন্দর ও সুস্থ ত্বকের নতুন দিগন্ত
ডা. ফাতেমাতুজ জোহরা অন্তরা , কনসালট্যান্ট ডার্মাটোলজিস্ট ও এসথেটিকস মেডিসিন বিভাগ, মেডিকস সিগনেচার ক্লিনিক

বর্তমান যুগে চর্মরোগ চিকিৎসা শুধু ত্বকের রোগ নিরাময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং সৌন্দর্য বৃদ্ধি, ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখা, চুল পড়া প্রতিরোধ এবং শরীরের সামগ্রিক সৌন্দর্য উন্নয়নেও আধুনিক ডার্মাটোলজি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে উন্নত লেজার ও এসথেটিকস চিকিৎসা এখন নিরাপদ, কার্যকর এবং তুলনামূলকভাবে কম সময়ে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল দিতে সক্ষম।

 

লেজার চিকিৎসা কী : লেজার হলো বিশেষ ধরনের আলোকরশ্মি, যা নির্দিষ্ট টিস্যুকে লক্ষ্য করে কাজ করে। ত্বকের অন্যান্য অংশের ক্ষতি না করে এটি বিভিন্ন সমস্যা যেমন—অবাঞ্ছিত লোম, ব্রণের দাগ, পিগমেন্টেশন, বলিরেখা ও ট্যাটু অপসারণে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

 

১. লেজার হেয়ার রিডাকশন : অবাঞ্ছিত (মুখমণ্ডল ও শরীরের ) লোম দূর করার জন্য লেজার হেয়ার রিডাকশন বর্তমানে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি চিকিৎসা। এই পদ্ধতিতে লোমের গোড়াকে লক্ষ্য করে লেজার প্রয়োগ করা হয়, ফলে ধীরে ধীরে লোমের বৃদ্ধি কমে যায়। নিয়মিত কয়েকটি সেশনের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল পাওয়া সম্ভব।

২. ফ্র্যাকশনাল CO2 লেজার : ব্রণের দাগ, অপারেশনের দাগ, বড় বড় রোমকূপ, সূক্ষ্ম বলিরেখা চিকিৎসায় ফ্র্যাকশনাল CO2 লেজার অত্যন্ত কার্যকর। এটি ত্বকের গভীরে কোলাজেন উৎপাদন বাড়িয়ে ত্বককে মসৃণ, টান টান ও উজ্জ্বল করে তোলে।

৩. কিউ-সুইচড Nd:YAG লেজার : মেছতা, ফ্রেকলস, সূর্য রশ্মির কারণে হওয়া দাগ, পোস্ট-ইনফ্ল্যামেটরি পিগমেন্টেশন এবং ট্যাটু অপসারণের জন্য এই লেজার প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়। এটি ত্বকের অতিরিক্ত মেলানিনকে ভেঙে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ত্বকের রং ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।

৪. কার্বন লেজার পিল : ‘হলিউড পিল’ নামেও পরিচিত এই চিকিৎসা ত্বককে গভীর থেকে পরিষ্কার, অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ, ব্রণ কমানো এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে কার্যকর। ব্যস্ত জীবনযাপনে যাদের দীর্ঘ বিশ্রামের সুযোগ নেই, তাদের জন্য এটি একটি আদর্শ চিকিৎসা।

 

ত্বকের তারুণ্য ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির আধুনিক চিকিৎসা : বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে বলিরেখা, শুষ্কতা ও উজ্জ্বলতা কমে যাওয়া স্বাভাবিক। আধুনিক এসথেটিকস চিকিৎসা এসব পরিবর্তনকে ধীর করতে এবং ত্বকের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করে।

১. হাইড্রাফেসিয়াল ও LED থেরাপি : হাইড্রাফেসিয়াল একটি নন-ইনভেসিভ চিকিৎসা, যা ত্বক পরিষ্কার, এক্সফোলিয়েশন, হাইড্রেশন এবং পুষ্টি প্রদান করে। LED থেরাপি ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে।

২. কেমিক্যাল পিল : ব্রণ, কালো দাগ, অসম ত্বকের রং ও নিস্তেজ ত্বকের চিকিৎসায় কেমিক্যাল পিল বহুল ব্যবহৃত একটি পদ্ধতি। এটি ত্বকের মৃত কোষ অপসারণ করে নতুন কোষ গঠনে সহায়তা করে, ফলে ত্বক হয় আরো উজ্জ্বল ও সতেজ।

৩. ডার্মাল ফিলার : বয়সজনিত কারণে মুখের ভলিউম কমে যায়, তা পুনরুদ্ধারে ডার্মাল ফিলার ব্যবহার করা হয়। ঠোঁট, গাল, চিবুক ও চোখের নিচের অংশে ফিলার প্রয়োগ করে মুখমণ্ডলে আরো তারুণ্যময় ও আকর্ষণীয় লুক আনা সম্ভব।

৪. মেসোবোটক্স ও মেসোথেরাপি : মেসোবোটক্স ত্বকের সূক্ষ্ম বলিরেখা কমাতে, রোমকূপ ছোট করতে এবং ত্বককে মসৃণ করতে সাহায্য করে। অন্যদিকে মেসোথেরাপির মাধ্যমে ত্বকের গভীরে ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করে ত্বককে পুনর্জীবিত করা হয়।

৫. থ্রেড লিফট : সার্জারি ছাড়াই মুখের ঝুলে যাওয়া ত্বক টান টান করার জন্য থ্রেড লিফট একটি জনপ্রিয় চিকিৎসা। এটি কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায় এবং মুখমণ্ডলে প্রাকৃতিক লিফটিং ইফেক্ট তৈরি করে।

চুল পড়া ও চুলের চিকিৎসা : চুল পড়া নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই একটি সাধারণ কিন্তু উদ্বেগজনক সমস্যা। আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই চুল পড়া নিয়ন্ত্রণ ও নতুন চুল গজানো সম্ভব।

১. PRP (Platelet Rich Plasma) থেরাপি : রোগীর নিজের রক্ত থেকে সংগৃহীত প্লেটলেটসমৃদ্ধ প্লাজমা মাথার ত্বকে প্রয়োগ করা হয়। এতে থাকা গ্রোথ ফ্যাক্টর চুলের গোড়াকে শক্তিশালী করে এবং নতুন চুল গজাতে সহায়তা করে।

২. হেয়ার মেসোথেরাপি : চুলের পুষ্টি বৃদ্ধির জন্য বিশেষ ভিটামিন, মিনারেল ও গ্রোথ স্টিমুলেটর সরাসরি স্ক্যাল্পে প্রয়োগ করা হয়। এটি চুলের ঘনত্ব বৃদ্ধি এবং চুল পড়া কমাতে কার্যকর।

অত্যাধুনিক বডি কনট্যুরিং ও ওয়েলনেস প্রযুক্তি : Medix Signature Clinic-এ বিশ্বখ্যাত BTL প্রযুক্তির মাধ্যমে নন-সার্জিক্যাল বডি কনট্যুরিং ও ওয়েলনেস চিকিৎসা প্রদান করা হয়।

১. EXION : EXION প্রযুক্তি রেডিওফ্রিকোয়েন্সি ও আল্ট্রাসাউন্ডের সমন্বয়ে ত্বকের কোলাজেন উৎপাদন বৃদ্ধি করে, ত্বক টান টান করে এবং মুখের বিভিন্ন অংশে তারুণ্য ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।

২. EMSCULPT NEO : এটি একই সঙ্গে শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমায় এবং পেশি গঠন করে। পেট, বাহু, উরু ও নিতম্বের আকৃতি উন্নয়নে এটি কার্যকর।

৩. EMSELLA : EMSELLA একটি আধুনিক নন-ইনভেসিভ চিকিৎসা, যা পেলভিক ফ্লোরের মাংসপেশি শক্তিশালী করতে এবং ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্স সমস্যার সমাধানে সাহায্য করে।

 

নিরাপদ ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসার গুরুত্ব : প্রতিটি রোগীর ত্বক ও শারীরিক অবস্থা ভিন্ন। তাই লেজার বা এসথেটিকস চিকিৎসার আগে সঠিক রোগ নির্ণয়, ত্বকের মূল্যায়ন এবং ব্যক্তিগত চাহিদা অনুযায়ী চিকিৎসা পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি রোগীকে বিস্তারিত পরামর্শ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে সর্বোত্তম চিকিৎসা প্রদান করাই একজন বিশেষজ্ঞ ডার্মাটোলোজিস্টের প্রধান লক্ষ্য।

আধুনিক লেজার ও এসথেটিকস চিকিৎসা আজ শুধু সৌন্দর্য বৃদ্ধির মাধ্যম নয়; বরং আত্মবিশ্বাস ও জীবনমান উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সঠিক প্রযুক্তি, দক্ষ চিকিৎসক এবং বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা পরিকল্পনার মাধ্যমে নিরাপদ ও কার্যকর ফলাফল অর্জন করা সম্ভব।

দ্রুত বিকশিত হচ্ছে দেশের এসথেটিক ডার্মাটোলজি শিল্প

বৈশ্বিক মেডিক্যাল ট্যুরিজম শিল্পও এসথেটিকস বাজারকে নতুন গতি দিচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এসথেটিকস বাজার যুক্তরাষ্ট্র

শরিফুল ইসলাম রনি
দ্রুত বিকশিত হচ্ছে দেশের এসথেটিক ডার্মাটোলজি শিল্প

দেশে এসথেটিক মেডিসিন শিল্প দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ফিলার থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক লেজার থেরাপিসহ বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসার চাহিদা বাড়ছে। তবে এই শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও সৌন্দর্যচর্চা নিয়ে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির মতো চ্যালেঞ্জও
সামনে আসছে।

স্ট্যাটিস্টার মার্কেট ফোরকাস্ট অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের স্কিন ট্রিটমেন্ট বাজারের আকার প্রায় ১৬ কোটি ৬৬ লাখ ডলারে পৌঁছবে। ক্রমবর্ধমান সৌন্দর্যসচেতনতা, ত্বকের চিকিৎসার চাহিদা বৃদ্ধি এবং উন্নত ডার্মাটোলজি সেবার প্রসারের কারণে আগামী বছরগুলোতেও এই বাজারের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক মেডিক্যাল এসথেটিকস বাজারের বর্তমান আকার ১৮ থেকে ২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে। আগামী পাঁচ থেকে সাত বছরে এই বাজার বার্ষিক গড়ে ১০ থেকে ১৩ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে ৩৫ থেকে ৪৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বাস্থ্যসেবা খাতের মধ্যে এটি অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল বিশেষায়িত সেগমেন্ট।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় এসথেটিকস বাজার যুক্তরাষ্ট্র। উচ্চ ক্রয়ক্ষমতা, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং দক্ষ চিকিৎসকের সহজলভ্যতার কারণে দেশটি এই খাতে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। ইউরোপও একটি পরিণত বাজার, যেখানে অ্যান্টি-এজিং চিকিৎসা ও স্কিন রিজুভেনেশনের চাহিদা উল্লেখযোগ্য। অন্যদিকে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল বর্তমানে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল বাজার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। চীন, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও থাইল্যান্ডে মধ্যবিত্তের আয় বৃদ্ধি, সৌন্দর্যসচেতনতা এবং মেডিক্যাল ট্যুরিজমের প্রসারের ফলে এই অঞ্চলে বিনিয়োগ ও বাজার সম্প্রসারণ দ্রুত হচ্ছে।

বিশ্বব্যাপী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও এই শিল্পের অন্যতম চালিকাশক্তি। ইনস্টাগ্রাম, টিকটক ও ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মে সৌন্দর্যবিষয়ক কনটেন্ট, বিফোর-আফটার ছবি, ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং এবং ডিজিটাল প্রচারণা মানুষের মধ্যে এসথেটিক চিকিৎসার গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে; বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ত্বকের যত্ন ও প্রতিরোধমূলক অ্যান্টি-এজিং চিকিৎসার প্রবণতা বাড়ছে।

একই সঙ্গে বৈশ্বিক মেডিক্যাল ট্যুরিজম শিল্পও এসথেটিকস বাজারকে নতুন গতি দিচ্ছে। তুলনামূলক কম খরচে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রতিবছর লাখো মানুষ দক্ষিণ কোরিয়া, তুরস্ক, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ভারতের মতো দেশে ভ্রমণ করছেন। এতে শুধু চিকিৎসা নয়, পর্যটন, হোটেল, পরিবহন ও সংশ্লিষ্ট সেবা খাতও লাভবান হচ্ছে।

ঢাকার বাসিন্দা চল্লিশোর্ধ্ব এক নারী পারভীন খান বিশ্বাস করেন, জীবনে কোনো আক্ষেপ নিয়ে বেঁচে থাকা উচিত নয়। সৌন্দর্যচর্চার প্রতি আগ্রহী এই নারী গত দুই বছরে আন্ডার-আই ফিলার, লিপ ফিলার এবং ডবল চিন রিমুভালের মতো একাধিক কসমেটিক প্রক্রিয়া করিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘চেহারা নিয়ে সবারই কিছু না কিছু অনিরাপত্তা থাকে। কেউ সেটাকে মেনে নেয়, কেউ আবার পরিবর্তনের চেষ্টা করে। আমি দ্বিতীয় পথটি বেছে নিয়েছি এবং এতে আমার কোনো অনুশোচনা নেই।’

একসময় বাংলাদেশে এসথেটিক মেডিসিন ও কসমেটিক ডার্মাটোলজি মূলত লেজার চিকিৎসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। ২০০৪ সালে ডা. ঝুমু খান লেজার মেডিক্যাল সেন্টার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশে লেজারভিত্তিক চিকিৎসার পথিকৃৎ হিসেবে যাত্রা শুরু করেন। শুরুতে দাগ, তিল অপসারণ এবং লেজার হেয়ার রিমুভালের মতো মৌলিক সেবা দেওয়া হলেও এখন সেই পরিসর অনেক বিস্তৃত। বর্তমানে বোটক্স, ফিলার, লেজার গ্লো থেরাপি, পিআরপিসহ পাওয়ার থ্রেড লিফট এবং আধুনিক অ্যাকনে স্কার ট্রিটমেন্টসহ নানা উন্নত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ঢাকায় প্রতিষ্ঠানটির দুটি শাখা রয়েছে, যা ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ করছে। ডা. ঝুমু জাহানারা খান বলেন, ‘আজ থেকে দুই দশক আগে, ২০০৪ সালে যখন বাংলাদেশে প্রথম এসথেটিক লেজার ক্লিনিক গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিই, তখন চারপাশ থেকে শুধুই প্রশ্ন আসত। লেজার চিকিৎসা কী? এটি কি আদৌ নিরাপদ? ত্বক বা চুলের চিকিৎসায় এটি কিভাবে কাজ করবে? নতুন এই প্রযুক্তি নিয়ে মানুষের মনে যেমন ছিল অপার কৌতূহল, তেমনি ছিল এক ধরনের ভয় আর সংশয়। কিন্তু আমি জানতাম, যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকেও এগিয়ে যেতে হবে। উন্নত বিশ্বের আধুনিক চিকিৎসার সুফল আমাদের দেশের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই ছিল
আমার লক্ষ্য।’

চিকিৎসায় নতুন প্রযুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মেডিক্যাল সায়েন্সের আধুনিক অগ্রযাত্রার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরা বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো অন্তর্ভুক্ত করেছি এআই মোড লেজার হেয়ার রিমুভাল প্রযুক্তি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এই সিস্টেমটি প্রতিটি রোগীর ত্বকের ধরন অনুযায়ী অত্যন্ত নির্ভুল, দ্রুত ও নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত করে। বিশ্বমানের প্রযুক্তি দেশেই সাশ্রয়ী মূল্যে পৌঁছে দিতে আমরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের চিকিৎসাসেবা এখন আরো বিস্তৃত
ও সুসংহত।’

তবে এসথেটিক চিকিৎসার ব্যয় তুলনামূলকভাবে বেশি। উন্নতমানের ১ মিলিলিটার বোটক্স বা ফিলারের দাম ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা। মাইক্রোব্লেডিং শুরু হয় আট হাজার টাকা থেকে। ফেস লিফটিংয়ের খরচ ২০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। প্রযুক্তি, ক্লিনিক এবং ফলোআপ সেবার ওপর এই ব্যয় নির্ভর করে। অন্যদিকে ফেস ভি-শেপিংয়ের প্রাথমিক খরচ প্রায় এক লাখ টাকা।

বিশ্লেষকদের মতে, এগুলো অপরিহার্য চিকিৎসা নয়, বরং বিলাসী সেবা। তাই এসব চিকিৎসা গ্রহণ অনেকটাই আর্থিক সক্ষমতা, ক্রয়ক্ষমতা এবং ব্যক্তির মানসিকতার ওপর নির্ভর করে। বেশির ভাগ ক্লিনিক চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি অনুমোদিত ডার্মাটোলজিক্যাল পণ্যও বিক্রি করে, যেগুলোর দামও তুলনামূলক বেশি।

মেডিক্স সিগনেচার ক্লিনিকের কনসালট্যান্ট ডা. ফাতেমাতুজ জোহরা অন্তরা জানান, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে বলিরেখা, শুষ্কতা এবং উজ্জ্বলতা কমে যাওয়া স্বাভাবিক। আধুনিক এসথেটিক চিকিৎসা এসব পরিবর্তনকে ধীর করতে এবং ত্বকের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করে।

তিনি বলেন, ‘বয়সজনিত কারণে মুখের ভলিউম কমে যায়, তা পুনরুদ্ধারে ডার্মাল ফিলার ব্যবহার করা হয়। ঠোঁট, গাল, চিবুক ও চোখের নিচের অংশে ফিলার প্রয়োগ করে মুখমণ্ডলে আরো তারুণ্যময় ও আকর্ষণীয় লুক আনা সম্ভব।’

লেজার চিকিৎসায় ২২ বছরের অভিজ্ঞতা ও সাফল্য

লেজার চিকিৎসায় ২২ বছরের অভিজ্ঞতা ও সাফল্য
ডা. ঝুমু জাহানারা খান, এমডি ও চিফ কনসালট্যান্ট এসথেটিক এবং ক্লিনিক্যাল ডার্মাটোলজিস্ট অ্যান্টি এজিং, রিজেনারেটিভ মেডিসিন এবং লেজার স্পেশালিস

এখন মানুষ শুধু সুন্দর ত্বক নয়; বরং তার সামগ্রিক সুস্থতা, হারিয়ে যাওয়া আত্মবিশ্বাস এবং একটি স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খোঁজেন

আজ থেকে দুই দশক আগে, ২০০৪ সালে যখন বাংলাদেশে প্রথম এস্থেটিক লেজার ক্লিনিক গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিই, তখন চারপাশ থেকে শুধুই প্রশ্ন আসত। লেজার চিকিৎসা কী? এটি কি আদৌ নিরাপদ? ত্বক বা চুলের চিকিৎসায় এটি কিভাবে কাজ করবে? নতুন এই প্রযুক্তি নিয়ে মানুষের মনে যেমন ছিল অপার কৌতূহল, তেমনি ছিল এক ধরনের ভয় আর সংশয়। কিন্তু আমি জানতাম, যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকেও এগিয়ে যেতে হবে। উন্নত বিশ্বের আধুনিক চিকিৎসার সুফল আমাদের দেশের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই ছিল আমার লক্ষ্য।

আর সেই লক্ষ্য পূরণের নামই “ডা. ঝুমু খান’স লেজার মেডিক্যাল”। একজন নারী উদ্যোক্তা হিসেবে এই দীর্ঘ পথচলায় প্রতি পদে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। নতুন প্রযুক্তিকে পরিচিত করা থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক মানের সেবা বজায় রাখা-সবকিছুই ছিল এক কঠিন পরীক্ষা। তবে আজ আমি গর্বিত। রোগীদের ভালোবাসা ও ভরসা, আমার টিমের দিন-রাত পরিশ্রম এবং বুকে লুকিয়ে থাকা সাহসই আমাকে কখনো থামতে দেয়নি। আপনাদের এই আস্থাই আমার পথচলার সবচেয়ে বড় শক্তি।

দেখতে দেখতে ২২টি বছর পার হয়ে গেল। এই দীর্ঘ সময়ে বাংলাদেশের লেজার ও এস্থেটিক চিকিৎসার প্রতিটি মোড় এবং এর বিবর্তনকে আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। শুরুর দিনগুলোতে মানুষ যেখানে শুধু ত্বকের ওপরের কিছু সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান চাইতেন, আজ সেখানে চিকিৎসার ধরন অনেক বদলে গেছে। এখন মানুষ শুধু সুন্দর ত্বক নয়; বরং তার সামগ্রিক সুস্থতা, হারিয়ে যাওয়া আত্মবিশ্বাস এবং একটি স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খোঁজেন। রোগীদের এই সচেতনতা আর যুগের চাহিদার সঙ্গে সুর মিলিয়ে, আমরাও থেমে থাকিনি। ডা. ঝুমু খান’স লেজার মেডিক্যালে আমরা আমাদের সেবাকে প্রতিনিয়ত করেছি আরো আধুনিক, উন্নত ও বিশ্বমানের।

মেডিক্যাল সায়েন্সের আধুনিক অগ্রযাত্রার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরা বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো অন্তর্ভুক্ত করেছি ‘এআই মোড লেজার হেয়ার রিমুভাল’ প্রযুক্তি। এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সিস্টেমটি প্রতিটি রোগীর ত্বকের ধরন অনুযায়ী অত্যন্ত নির্ভুল, দ্রুত ও নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত করে। বিশ্বমানের প্রযুক্তি দেশেই সাশ্রয়ী মূল্যে পৌঁছে দিতে আমরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের চিকিৎসাসেবা এখন আরো বিস্তৃত ও সুসংহত। আমরা চালু করেছি পিসিওএস কেয়ার প্রোগ্রাম, যা নারীদের প্রিভেনটিভ মেডিসিন দিয়ে হরমোনজনিত ভারসাম্যহীনতা, অনাকাঙ্ক্ষিত ওজন বৃদ্ধি, ব্রণ ও মেটাবলিক সমস্যার মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি সমাধান প্রদান করে। এর পাশাপাশি অ্যাডভান্সড পিগমেন্টেশন ট্রিটমেন্ট, মেছতা নির্মূল, অ্যান্টি-এজিং থেরাপি এবং নন-ইনভেসিভ বডি শেপিং আমাদের মূল ক্লিনিক্যাল সেবার অন্তর্ভুক্ত। ক্রনিক বা জটিল ব্রণের দাগ দূর করতে আমরা ব্যবহার করছি বিশ্বসেরা ‘পিআইসিও ৭ এবং ফোটোনা ৪ডি’ লেজার টেকনোলজি, যা ত্বকের গভীর থেকে কোলাজেন পুনর্গঠন করে কোনো রকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই তারুণ্য ফিরিয়ে আনে। এর বাইরেও আমাদের ক্লিনিকে নন-সার্জিক্যাল ফেস লিফটিং, ভাস্কুলার বা স্পাইডার ভেইন ট্রিটমেন্ট, সাদা চুলের স্থায়ী ব্যবস্থাপনা এবং কেলয়েড স্কার থেরাপি নিয়মিত পরিচালনা করা হচ্ছে। অ্যালোপেশিয়া বা চুল পড়ার সমস্যায় আমরা প্রবর্তন করেছি সর্বাধুনিক পিআরপি এবং সেলুলার লেভেলের এক্সোজম থেরাপি। একই সঙ্গে মাইনর লেজার প্রসিডিউর যেমন—তিল, আঁচিল ও স্কিন ট্যাগ রিমুভাল, নিখুঁত ট্যাটু রিমুভাল এবং অ্যালার্জির সঠিক উৎস নির্ণয়ে বায়োরিজোনেন্স অ্যালার্জি টেস্ট অ্যান্ড থেরাপির মতো উন্নত ডায়াগনস্টিক ও থেরাপিউটিক সেবা আমরা সুনামের সঙ্গে প্রদান করে আসছি।

এই দীর্ঘ ও গৌরবময় পথচলায় হাজার হাজার মানুষের ত্বকের যত্ন নেওয়ার সুযোগ হয়েছে আমার। মুখোমুখি হয়েছি অসংখ্য চ্যালেঞ্জিং ও জটিল ক্লিনিক্যাল কেসের, যার প্রতিটিই আমাকে শিখিয়েছে নতুন নতুন অভিজ্ঞতা। আসলে আমার কাছে চিকিৎসা কেবল একটা পেশা বা কাজ নয়; এটি মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার, তাদের মুখে হাসি ফোটানোর এক পরম সুযোগ।

সৌন্দর্যসেবায় লেজারের জয়যাত্রা

আতিফ আতাউর
সৌন্দর্যসেবায় লেজারের জয়যাত্রা

দৈহিক সৌন্দর্যের জন্য সুন্দর ত্বক গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক। সৌন্দর্যচর্চায় ত্বক ও চুলের যত্নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকেন প্রায় প্রত্যেকেই। তবে জিনগত, পরিবেশগত বা হরমোনের কারণে এবং সঠিক যত্নের অভাবে অনেক সময় ত্বকে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। ত্বকের চিকিৎসা ও ত্বকচর্চার জন্য প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ নানা রকম পদ্ধতি অবলম্বন করেছে। এর সবচেয়ে আধুনিক ও জনপ্রিয় পদ্ধতি হচ্ছে লেজার স্কিন ট্রিটমেন্ট।

চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আনজিরুন নাহার আসমা জানান, লেজার হচ্ছে এক ধরনের লাইট বা আলো। নিয়ন্ত্রিত উপায়ে এই লেজার বা লাইট ত্বকের ওপর প্রয়োগ করা হয়। ত্বকের বিভিন্ন উপাদান যেমন রক্ত, মেলানিন ও পানি এই আলোকরশ্মিকে শোষণ করে তাপ উৎপাদন করে। লেজার মেশিনের সাহায্যে এই তাপকে নিয়ন্ত্রণ করে যেখানে যতটুকু দরকার ততটুকু তাপপ্রয়োগ করে কাঙ্ক্ষিত ফল তুলে
আনা হয়। 

লেজার ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে মূলত নতুন ত্বক প্রতিস্থাপন করা হয়ে থাকে। লেজারের রশ্মি ত্বকের ওপরের স্তর ধ্বংস করে ফেলে। একই সঙ্গে এটি ত্বকের ভেতরের স্তরটিকে উত্তপ্ত করে তোলে। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে কোলাজেনের মাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং স্কিনটোন ও টেক্সচার ভালো হয়। কাটাছেঁড়া ও ব্যথা ছাড়াই কৃত্রিমভাবে সুন্দর হওয়ার এই পদ্ধতির জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। মূলত দুটি পদ্ধতিতে লেজার ট্রিটমেন্ট করানো হয়—অ্যাবলেটিভ এবং নন-অ্যাবলেটিভ। চিকিৎসক ত্বকের ধরন অনুযায়ী সঠিক উপায়ের পরামর্শ দিয়ে থাকেন গ্রাহকদের। অ্যাবলেটিভ লেজারে স্কারস, মোল, ফাইন লাইনস এবং রিঙ্কেলস দূর করা হয়। রোসেসিয়া, ব্রণ-সম্পর্কিত সমস্যায় নন-অ্যাবলেটিভ লেজার ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

লেজারের মাধ্যমে ব্রণের দাগ, ত্বকের অবাঞ্ছিত লোম, মেছতা, বসন্তের দাগ, চোটের আঘাতের দাগ, পোড়ার দাগ, সার্জারির ক্ষত, কালো দাগ, সূক্ষ্ম লাইন, পিগমেন্টেশন, অবাঞ্ছিত লোম, ট্যাটু, বয়সের ছাপ, বলিরেখা, তিল দূর করা এবং কিছু জন্মদাগের চিকিৎসা করা হয়। যাঁরা ট্যাটু করেন, তাঁরা অনেক সময় ট্যাটু তুলে ফেলতে চান। ট্যাটু তুলে ফেলতেও লেজার ট্রিটমেন্ট ব্যবহার করা হয়।

মাথার চুল বৃদ্ধির জন্যও লেজার ট্রিটমেন্ট ব্যবহৃত হচ্ছে। এ জন্য লো লাইট লেজার থেরাপি ব্যবহার করা হয়। এটা হেয়ার ফলিকলগুলোকে স্টিমুলেট করে। এতে চুল বৃদ্ধি পায়। আর যাদের অবাঞ্ছিত লোমের সমস্যা রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে ডায়ার লেজার ব্যবহার করা হয়। মুখে অতিরিক্ত লোমের সমস্যায় ঘন ঘন পার্লারে যেতেন উত্তরার বাসিন্দা রুখসানা ইসলাম। সম্প্রতি একটি লেজার প্রতিষ্ঠান থেকে মুখের অতিরিক্ত লোম তুলে ফেলেছেন তিনি। বললেন, এখন সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান পেয়েছি। আর বারবার পার্লারে যেতে হয় না। অতিরিক্ত অর্থ খরচ থেকেও বেঁচে গেছি।

লেজার ট্রিটমেন্ট ত্বকের যত্নকে আরো সহজ ও কার্যকর করে তুলেছে। এর মাধ্যমে বলিরেখা, কালো দাগ, অসম ত্বকের রং এবং দৃশ্যমান শিরার মতো অনেক সাধারণ সমস্যার অস্ত্রোপচার ছাড়াই সমাধান করা যায়। এ কারণে অনেক মানুষ মসৃণ, উজ্জ্বল ও তারুণ্যময় ত্বক পাওয়ার জন্য লেজার চিকিৎসা বেছে নিচ্ছেন। আগে মুখে ব্রণের বড় বড় গর্ত থাকার কারণে লোকলজ্জায় ভুগতেন মালিবাগের ব্যবসায়ী সুহাদ সাইফ। অনেক ক্রিম ও ওষুধ সেবন করেও এই সমস্যার সমাধান পাননি। শেষমেশ লেজার ট্রিটমেন্ট নিয়ে রুখসানা ইসলামের মতো তিনিও পেয়েছেন স্থায়ী সমাধান।

সুহাদ সাইফ বলেন, ‘এক বন্ধুর কাছ থেকে লেজার ট্রিটমেন্ট সম্পর্কে জানতে পারি। এরপর শান্তিনগরের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে লেজার ট্রিটমেন্ট করিয়েছি। চিকিৎসক মুখের ত্বকের গর্ত, ত্বকের ধরন দেখে বেশ কয়েকটি সেশন করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। আমার কাছে কিছুটা ব্যয়বহুল মনে হয়েছে। তবে ট্রিটমেন্ট শেষ হওয়ার পর রেজাল্ট দেখে ব্যয়ের চেয়ে খুশিই বেশি লেগেছে। এখন আগের চেয়ে আত্মবিশ্বাসও বেড়ে গেছে।’

এই চিকিৎসা গ্রহণের পর নির্দিষ্ট কিছু দিন একটি রুটিন মেনে চলতে হয় বলে জানালেন ক্লিনিক্যাল ডার্মাটোলজি অ্যান্ড এসথেটিকস মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. ফাতেমাতুজ জোহরা অন্তরা। এর মধ্যে রয়েছে নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার, রোদ পরিহার করা, বেশি বেশি পানি পান, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ত্বকে কোনো প্রসাধনী ব্যবহার না করা ইত্যাদি।