আয়াতের অর্থ
‘মুমিনরা বলে, একটি সুরা অবতীর্ণ হয় না কেন? অতঃপর যদি দ্ব্যর্থহীন কোনো সুরা অবতীর্ণ হয় এবং তাতে যুদ্ধের কোনো নির্দেশ থাকে, তুমি দেখবে, যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে তারা মৃত্যুভয়ে বিহ্বল মানুষের মতো তোমার দিকে তাকাচ্ছে। শোচনীয় পরিণাম তাদের। আনুগত্য ও ন্যায়সংগত বাক্য তাদের জন্য উত্তম ছিল। সুতরাং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে, যদি তারা আল্লাহর প্রতি প্রদত্ত অঙ্গীকার পূরণ করত, তবে তাদের জন্য তা অবশ্যই মঙ্গলজনক হতো।’ (সুরা : মুহাম্মদ, আয়াত : ২০-২১)
আয়াতগুলোতে যুদ্ধের ব্যাপারে মুনাফিকদের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।
শিক্ষা ও বিধান
১. মদিনায় হিজরত করার পর মুমিন ও মুনাফিক সবাই যুদ্ধের অনুমতি ও বিধান কামনা করত। কিন্তু অনুমতি আসার পর মুমিনরা খুশি হলেও মুনাফিকরা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে।
২. মুনাফিকরা যুদ্ধ ভয় পেত। কারণ তারা জানত, যুদ্ধের ময়দানে মারা গেলে অন্তরের গোপন কুফরির কারণে তারা পরকালীন প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হবে।
৩. কাতাদা (রহ.) বলেছেন, প্রত্যেক এমন সুরা যাতে যুদ্ধের আলোচনা আছে তা মুহকাম (সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন)।
৪. মুনাফিকরা পবিত্র কোরআনের যুদ্ধসংক্রান্ত আয়াতগুলোকে সবচেয়ে বেশি অপছন্দ করত। জীবনের মায়া ও মৃত্যুর ভয়ে তারা তা অপছন্দ করত।
৫. নেক আমলের আকাঙ্ক্ষা সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর বৈশিষ্ট্য, বিশেষত আল্লাহর পথে যুদ্ধ করা।
(তাফসিরে কুরতুবি : ১৯/২৬৯)


