• ই-পেপার

একাধিক উপায়ে ফেরত আনা সম্ভব

  • স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দ্রুতই আবেদনের প্রস্তুতি

উক্তি

উক্তি

গত দুই দশকের অব্যবস্থাপনার কারণে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে বাংলাদেশের উচ্চ মাধ্যমিক স্তরকে সিঙ্গাপুরের ষষ্ঠ শ্রেণির সমমান বিবেচনা করা হয়।

ববি হাজ্জাজ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

আজকের খেলা

আজকের খেলা

সুইডেন-তিউনিশিয়া (সকাল ৮টা)

স্পেন-কেপ ভার্দে (রাত ১০টা)

বেলজিয়াম-মিসর (রাত ১টা)

উরুগুয়ে-সৌদি আরব (কাল ভোর ৪টা)

ইরান-নিউজিল্যান্ড (কাল সকাল ৭টা)

নীল হাঙরের মুখে ফেভারিট স্পেন

মাজহারুল ইসলাম
নীল হাঙরের মুখে ফেভারিট স্পেন

স্ফটিক স্বচ্ছ পানি আর বালুকাময় সাদা সৈকতের জন্য সুপরিচিত আটলান্টিক মহাসাগরের ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে। বিশ্বব্যাপী নতুন করে তারা আলোচনায় এসেছে ফুটবলে রূপকথার গল্প লিখে। জাতীয় ফুটবল দলটির আদুরে নাম শার্কস (নীল হাঙর)। যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় আজ রাতে নিজেদের ইতিহাসে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচটি খেলতে নামবে জনসংখ্যার নিরিখে ফুটবল মহাযজ্ঞে জায়গা পাওয়া তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ কেপ ভার্দে। প্রতিপক্ষ ইউরোপিয়ান পরাশক্তি ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়ন স্পেন।

২০২৬ বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ে যাদের ভাবা হচ্ছে হট ফেভারিট! অপ্টার সুপারকম্পিউটার লা রোজাদের ট্রফি জেতার সম্ভাবনা দেখিয়েছে সর্বোচ্চ ১৫.৯৪ শতাংশ। আর আজ রাতে আফ্রিকান প্রতিপক্ষের বিপক্ষে স্প্যানিয়ার্ডদের ৩ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ার সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে ৮৭.২ শতাংশ। কেপ ভার্দের জয়ের ক্ষীণ সম্ভাবনাও দেখানো হয়েছে, তা মাত্র ৪.৮ শতাংশ। সার্বিক চিত্রে সৌদি আরব এবং উরুগুয়েকে নিয়ে গড়া গ্রুপ এইচে স্পেনের শীর্ষ স্থান পাওয়ার সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে ৭৬.৫৩ শতাংশ। কেপ ভার্দে কি পারবে স্প্যানিশদের চমকে দিয়ে সব হিসাব-নিকাশ ওলট-পালট করে দিতে এবং নিজেদের অভিষেকটা স্মৃতির পাতায় চির অম্লান করে রাখতে? এমনটা হলে তা হবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটন!

আক্রমণাত্মক এবং তিকি-তাকার আকর্ষণীয় ফুটবল শৈলীতে বিমোহিত করা স্পেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অন্যতম সফল দলও।  নিজেদের স্বর্ণালি সময়ে দুইবার মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট জয়ের মাঝে দেশকে বিশ্বজয়ের আনন্দেও ভাসিয়েছিলেন জাভি-ইনিয়েস্তা-ক্যাসিয়াসরা। কিন্তু ২০১০ সালে কালজয়ী এই খেলোয়াড়রা বিশ্বকাপ জেতানোর পর ফুটবল মহাযজ্ঞে লা রোজাদের পথচলা থেমে যাচ্ছিল অনেকটা মাঝপথে। ২০১৪ সালে ব্রাজিলে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের পর ২০১৮ এবং ২০২২ সালে তাদের বিদায়ঘণ্টা বেজে যায় শেষ ষোলোতে। তবে তরুণ সেনসেশন লামিন ইয়ামাল, পেদ্রি, গাভিদের নিয়ে গড়া নতুন সোনালি প্রজন্মের এক ঝাঁক খেলোয়াড় আবারও বিশ্বজয়ের রঙিন স্বপ্ন দেখাচ্ছেন স্প্যানিয়ার্ডদের। তাঁদের ওপর দায়িত্ব বিশ্বকাপে জাবি-ইনিয়েস্তা-ক্যাসিয়াসদের বীরত্বের গল্পটা ফিরিয়ে এনে আবারও দেশবাসীকে বিশ্বজয়ের আনন্দে ভাসানো।

দুই বছর আগে স্পেনকে ইউরোর মুকুট এনে দিয়েছিলেন ইয়ামাল-পেদ্রিরা। স্প্যানিশদের ওই বীরত্বের গল্পের নায়ক ছিলেন বার্সা তারকা ইয়ামাল। বিশ্বকাপেও তাঁর কাছে অমন দুর্দান্ত কিছুর প্রত্যাশা ভক্ত-সমর্থকদের। কিন্তু ফুটবল মহাযজ্ঞে নিজের প্রথম ম্যাচে খেলার জন্য আরো কয়েকটা দিন হয়তো অপেক্ষা করতে হতে পারে বিস্ময়কর প্রতিভা ইয়ামালকে! গত এপ্রিলে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়েছিলেন তিনি। সুখবর হচ্ছে, এই উইঙ্গারের সঙ্গে অনুশীলনে ফিরেছেন আরেক তরুণ তুর্কি নিকো উইলিয়ামসও। তবে কেপ ভার্দের বিপক্ষে তাদের খেলানোর ঝুঁকি না-ও নিতে পারেন স্প্যানিশ কোচ দে লা ফুয়েন্তে। আর খেলালেও হয়তো খানিকটা সময়ের জন্য মাঠে নামাতে পারেন ইয়ামাল-নিকোকে। 

স্বপ্নিল পথচলায় ধীরে ধীরে স্বপ্নের বন্দরে তরি ভিড়িয়েছে কেপ ভার্দে। ২০১৩ সাল আফ্রিকান নেশনস কাপে শেষ আটে খেলে নিজেদের জানান দিয়েছিল নীল হাঙররা। উন্নতির ধারাবাহিকতায় পর্তুগালের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পঞ্চাশ বছর পূর্তিতে আরো বড় গল্প লিখে তারা টিকিট কাটে বিশ্বকাপের। আটলান্টিক মহাসাগরে ১০টি দ্বীপের ছয় লাখ জনসংখ্যার এই ছোট্ট দেশ ক্যামেরুনকে পেছনে ফেলে আফ্রিকান অঞ্চলের বাছাইয়ের গণ্ডি পেরিয়ে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে ২০২৬ সালের ফুটবল মহাযজ্ঞে। উপলক্ষটা আরো স্মরণীয় করে রাখতে তারা পা রেখেছে মার্কিন মুলুকে। বর্তমান ফর্মও তাদের দুর্দান্ত। নিজেদের সর্বশেষ তিন ম্যাচ জেতার সুখস্মৃতি সঙ্গী করে তারা মুখোমুখি হচ্ছে পরাশক্তি স্পেনের। কাগজে-কলমে তাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকা স্পেনও হারেনি নিজেদের সর্বশেষ ১০ ম্যাচের একটিতেও। এ সময়ে তিনটি ড্র করে তারা জিতেছে বাকি সাতটিতে। সংখ্যাটি আটে উন্নীত করার সংকল্প নিয়েই তারা মুখোমুখি হচ্ছে নীল হাঙরদের।

ডাচদের হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু বাংলাদেশের

ক্রীড়া প্রতিবেদক
ডাচদের হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু বাংলাদেশের
নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে জয় উদযাপন বাংলাদেশের দুই ব্যাটার শারমিন আক্তার ও স্বর্ণা আক্তারের

নেদারল্যান্ডসের মেয়েদের বিপক্ষে জয়টা হিসাবের মধ্যেই ছিল বাংলাদেশের। তবে গতকাল বার্মিংহামে বাংলাদেশকে ছেড়ে কথা বলেনি ডাচরাও। আগে ব্যাটিং করে নেদারল্যান্ডসের ইনিংস থামে ৮ উইকেটে ১৩৯ রানে। লক্ষ্য তাড়ায় ওপেনার জুয়াইরিয়া ফেরদৌসের ঝোড়ো ফিফটির পরও ম্যাচ জিততে শেষ ওভার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় বাংলাদেশকে। পঞ্চম উইকেটে শারমিন আক্তার ও স্বর্ণা আক্তারের অবিচ্ছিন্ন ৫৬ রানের জুটিতে নিজেদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অভিযান ৬ উইকেটের জয় দিয়েই শুরু করেছে বাংলাদেশ।

বিশ্বকাপে সব মিলিয়ে এটি চতুর্থ জয় বাংলাদেশের। ইংল্যান্ডের মাটিতে প্রথম। দারুণ মুহূর্তটি দল ও নিজের জন্য রাঙান জুয়াইরিয়া। আক্রমণাত্মক ব্যাটার হিসেবেই পরিচিত ২০ বছর বয়সী এই ওপেনার। বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচেই ব্যাট হাতে নিজের সেই রূপ দেখিয়েছেন তিনি। তাঁর ব্যাটেই পাওয়ার প্লেতে দারুণ শুরু পায় বাংলাদেশ। তাঁকে সঙ্গ দেন আরেক ওপেনার দিলারা আক্তার। দুজনের ৭.৫ ওভার স্থায়ী জুটিতে বাংলাদেশ পেয়ে যায় ৬৭ রান। ফিফটি পূর্ণ করেই আউট হন জুয়াইরিয়া। ফেরার আগে ৩৩ বলে ৫০ রান আসে তাঁর ব্যাট থেকে। তাঁর ইনিংসটি সাজানো ছিল ৭ চার ও ২ ছক্কায়। জুয়াইরিয়ার আউটের পর ১৮ রানের মধ্যে আরো ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। শুরুটা হয় নিগার সুলতানাকে দিয়ে। জুয়াইরিয়ার আউটের পরের বলেই শূন্য রানে ফেরেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

নিগারের পথ অনুসরণ করতে সময় নেননি দিলারা (২৬) এবং  সোবহানা মোস্তারিও (০)। বিশেষ করে ফর্মে থাকা সোবহানার রান আউট বড় ধাক্কা ছিল বাংলাদেশের জন্য। এখান থেকে দলকে উদ্ধার করেন অভিজ্ঞ শারমিন। তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দেন স্বর্ণা। দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে পাঁচ বল হাতে রেখে ম্যাচ শেষ করে বাংলাদেশ। শারমিন ৩২ বলে ৩৭ রানে অপরাজিত থাকেন। স্বর্ণার ব্যাট থেকে আসে অপরাজিত ১৮ রান। বোলিংয়ে ম্যাচটি জমিয়ে তোলার সুযোগ তৈরি করার আগে ব্যাটিংয়ে নেদারল্যান্ডসের প্রাণভোমরা ছিলেন অধিনায়ক ব্যাবেট ডি লিড। তাঁর রান আউটেই গতি হারায় ডাচদের ইনিংস। ৪৫ বলে ৫ চারে ৫০ রান করেন ডি লিড। বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে নেদারল্যান্ডসের অন্য ব্যাটাররা খুব বেশি সুবিধা করতে পারেননি। পেসার মারুফা আক্তার সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নেন। তবু ছোট ছোট কয়েকটি ইনিংসের সৌজন্যে ১৪০ রানের লক্ষ্য পেয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। যদিও সেটি জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি।