তথ্য-প্রযুক্তিতে দেশ দ্রুত এগিয়ে চলছে এবং এটিই কাঙ্ক্ষিত। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজই এখন ডিজিটাইজ হয়ে পড়েছে। ব্যক্তিজীবনেও মানুষ অনেক বেশি ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর। শুধু শহর এলাকায় নয়, প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও মানুষ ইন্টারনেটে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। দেশে কিংবা বিদেশে থাকা স্বজন ও সুহৃদদের সঙ্গে আলাপচারিতা হোক, দেশ-বিদেশের খবরাখবর কিংবা ব্যবসা-বাণিজ্যের যোগাযোগ—নানা ক্ষেত্রেই বর্তমানে নেট অপরিহার্য। কিন্তু প্রদীপের নিচে যেমন অন্ধকার থাকে, তেমনি ভালোর বিপরীতে মন্দও থাকে। তথ্য-প্রযুক্তির দ্রুত সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে সাইবার ক্রাইম বা তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের পরিমাণও। ক্রমেই অধিক হারে মানুষ এ ধরনের অপরাধের শিকার হচ্ছে। অতীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মতো ঘটনাও ঘটছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বেই রাষ্ট্রীয় কিংবা ব্যক্তিগত অনেক গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ড হ্যাকিংয়ের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই সারা পৃথিবী আজ সাইবার নিরাপত্তাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ যথার্থই বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার ও সাইবার অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর ভাষ্য, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা হবে।
গত বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসেফ এস ওয়াই রামাদানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের যেকোনো অপচেষ্টা বা অপপ্রচার কঠোর হাতে দমন করা হবে। এর আগে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনও অনুরূপ সতর্কবার্তা তুলে ধরেন। গত বুধবার বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজ ‘প্রান্তিক কণ্ঠস্বর’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, হাজার কিলোমিটার সীমান্ত পাহারা দেওয়া থেকেও বর্তমানে সাইবার নিরাপত্তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সাইবারজগতের সুবিধার অপব্যবহার করে অনেক ধরনের অপরাধই ঘটে থাকে। এর মধ্যে অন্যতম নানা ধরনের প্রতারণা। বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরাখবর থেকে দেখা যায়, বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান—এই তিন দেশের প্রতারকদের একটি চক্র মানুষের সঙ্গে নানাভাবে প্রতারণা করছে। আর এ কাজে ব্যবহার করছে ফেসবুকসহ নানা সামাজিক মাধ্যমকে। গোয়েন্দা পুলিশ বিভিন্ন সময় এমন অনেককে আটকও করেছে, কিন্তু তা সত্ত্বেও এদের দৌরাত্ম্য কমছে না। অনেক নিরীহ মানুষ এদের ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারাচ্ছে। ঋণ প্রদান, চাকরি প্রদান কিংবা আরো অনেক প্রলোভন তৈরি করে প্রতারকরা মানুষের সর্বনাশ করে থাকে। সামাজিক মাধ্যমে বিকৃত অশ্লীল ছবি ছড়িয়ে ব্ল্যাকমেইল করা হয়। এদের হাত থেকে মানুষকে রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। আবার জঙ্গিবাদ বা সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডেও সাইবারজগতের ব্যবহার রয়েছে। রয়েছে রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ড কিংবা রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যে পরিচালিত নানা ধরনের অপচেষ্টা।
সাইবার নিরাপত্তার অর্থ হলো, ক্ষতিকর আক্রমণ এবং অনুমোদনহীন অনুপ্রবেশ থেকে ডিজিটাল সম্পদ, নেটওয়ার্ক ও সিস্টেমকে রক্ষা করার সক্রিয় ব্যবস্থা। এতে প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত সাইবার ঝুঁকি প্রশমনের জন্য নানা ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পাশাপাশি সাইবার অপরাধ দমনে রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থারও সতর্ক প্রয়োগ থাকা জরুরি।
আমরা মনে করি, সাইবার অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে এবং শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তথ্যের গোপনীয়তা, অখণ্ডতা ও প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

