• ই-পেপার

টিকা কার্যক্রমের আওতা বাড়ান

  • জরায়ুমুখের ক্যান্সার

দুর্ভোগ কমাতে হবে

এনআইডির তথ্য সংশোধন

দুর্ভোগ কমাতে হবে

জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি এখন নানা জরুরি কাজে ব্যবহৃত হয়। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, পাসপোর্ট তৈরি, জমি কেনাবেচা, সরকারি ভাতা গ্রহণ থেকে শুরু করে মোবাইল সিম কার্ড কেনা পর্যন্ত জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এনআইডি অপরিহার্য। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, কোটি কোটি নাগরিকের এই গুরুত্বপূর্ণ সনদে রয়ে গেছে অসংখ্য তথ্যবিভ্রাট। আর এই ভুলের খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। একটি তথ্য সংশোধন করতে গেলে নাগরিকদের মাসের পর মাস, বছরের পর বছর দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এ ছাড়া রয়েছে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য। অভিযোগ রয়েছে, সুযোগ বুঝে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি করেন।

কালের কণ্ঠের খবরে জানা গেছে, এনআইডিতে একটি ভুল তথ্য সংশোধন করতে গিয়ে এক ব্রিটিশ-বাংলাদেশির পাঁচ বছর লেগেছে। ভুক্তভোগী সাবুল মিয়া এক-দুবার নয়, মোট চারবার আবেদন করেছেন। প্রতিবারই নতুন নতুন নথিপত্র চাওয়া হয়েছে। বারবার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, ‘কাজ হয়ে যাবে’; কিন্তু কাজ হয়নি। এ জন্য তাঁকে বারবার যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশে ছোটাছুটি করতে হয়েছে। অথচ তাঁর এনআইডিতে ভুল ছিল মাত্র একটি। তাঁর প্রকৃত বয়স ৮৭, কিন্তু এনআইডিতে লেখা হয় ৭৮। এতে তাঁর বয়স ৯ বছর কমে যায়। এই ভুল সংশোধনের জন্য তিনি প্রথমে যান সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ে। সেখানেই তাঁকে পাঁচ বছর নাকানিচুবানি খেতে হয়েছে। অবশেষে চলতি বছর ২৪ মে নির্বাচন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে তাঁর কাজ সম্পন্ন হয়। খোঁজ নিলে দেখা যাবে, সাবুল মিয়ার মতো তিক্ত অভিজ্ঞতা অনেকেরই।

এখন ডিজিটাল যুগ। নানা ক্ষেত্রে আগের তুলনায় গতি এসেছে। সঠিক তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের অনেক সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই সময়ে এসে জাতীয় নাগরিকত্ব সনদ সংশোধনের প্রক্রিয়ায় এত অব্যবস্থাপনা, এত মন্থরগতি মেনে নেওয়া যায় না। এনআইডি সংশোধনের পুরো প্রক্রিয়াকে আরো সহজ, স্বচ্ছ এবং সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক করা এখন সময়ের দাবি। ভুলের ধরন অনুযায়ী ক্যাটাগরি ভাগ করে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা ১৫ বা ৩০ দিন বেঁধে দেওয়া যেতে পারে। এই সময়ের মধ্যে আবেদনটি নিষ্পত্তি করতে কর্মকর্তারা বাধ্য থাকবেন। ওয়াকিফহাল মহলের অভিমত, এমন পদক্ষেপ ছাড়া সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে না।

আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনে একটি কার্যকর ও নাগরিকবান্ধব ব্যবস্থা গড়ে তুলবে।

কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি

স্বাস্থ্যসেবার ভগ্ন দশা

কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি

মানুষের মৌলিক অধিকারগুলোর মধ্যে চিকিৎসা অন্যতম হলেও আমাদের দেশে স্বাস্থ্য খাতের সামগ্রিক চিত্র অত্যন্ত হতাশাজনক। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ চিকিৎসাসেবা পায় না বললেই চলে। হাসপাতালের ভবন থাকলে চিকিৎসক নেই, আবার চিকিৎসক থাকলে ওষুধ থাকে না। আবার কোথাও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হচ্ছে কোটি কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম। এমন বহুবিধ সংকটে জর্জরিত দেশের স্বাস্থ্য খাত।

দেশের বিভিন্ন এলাকার হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা নিয়ে চলতি মাসে কালের কণ্ঠ বেশ কিছু সরেজমিন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে আমাদের স্বাস্থ্য খাতের ভগ্ন দশার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আন্তরিকতার অভাবও সামনে এসেছে। ১৮ জুন প্রকাশিত ভোলা জেনারেল হাসপাতাল নিয়ে প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সেখানকার ছয় বেডের আইসিইউ কক্ষ পাঁচ বছর ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। ২০২১ সালে যন্ত্রপাতি সবই কেনা হয়েছে, কিন্তু সেখানে দক্ষ জনবল নেই। ২৩ জুন রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে ‘হাসপাতাল নিজেই রোগীশীর্ষক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ৬০০ শয্যার হাসপাতালটিতে প্রতিদিন গড়ে আড়াই হাজারের বেশি রোগী ভর্তি থাকছে। বারান্দা, করিডর, এমনকি সিঁড়ির পাশেও রোগীদের চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। হাসপাতালটির যে অবকাঠামো ও জনবল থাকা প্রয়োজন, তার কোনোটিই নেই। সর্বশেষ গতকাল প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে, গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার তালিয়া ২০ শয্যার হাসপাতাল ভবনটি পরিত্যক্ত হয়ে সাপ-শিয়ালের আস্তানায় পরিণত হয়েছে। সেখানে যে কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ পেয়েছিলেন, তাঁরাও এলাকা ছেড়েছেন। অথচ ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২০ সালে হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজওয়ানা রশীদ বলেন, ‘অর্থনৈতিক কোড না থাকায় এই হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না।’ তাই বলে এত দামি ভবন পরিত্যক্ত হয়ে যাবে? এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কারো নেই? দেখা যাচ্ছে, এ ধরনের চরম অব্যবস্থাপনার কারণে কোটি কোটি টাকা ঠিকই খরচ হচ্ছে, কিন্তু সাধারণ মানুষ প্রাপ্য সেবা পাচ্ছে না।

এদিকে গত রবিবার স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত সংসদে বলেছেন, ‘দেশে চিকিৎসা ব্যয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ রোগীদের পকেট থেকেই পরিশোধ করতে হয়, যেখানে থাইল্যান্ডে এই হার মাত্র ১০ শতাংশ এবং মালদ্বীপে প্রায় ১৮ শতাংশ।’ তিনি যথার্থই বলেছেন। কত মানুষ যে চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে নিঃস্ব হচ্ছে, তার হিসাব নেই।

আমরা মনে করি, দেশের ভঙ্গুর স্বাস্থ্য খাত ঠিক করতে হলে এই খাতের আমূল সংস্কার দরকার। প্রথমত, অর্থের অপচয় বন্ধ করতে হবে। এবার বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক। কিন্তু এর সুফল যেন সাধারণ মানুষ পায় তার জন্য স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি অপরিহার্য।

যথাযথ তদন্ত হোক

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দুর্নীতি

যথাযথ তদন্ত হোক

বাংলাদেশ পাঁচবার দুর্নীতিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে। বর্তমানে চ্যাম্পিয়ন না হলেও বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত ১৫টি দেশের মধ্যেই থাকছে। আর এর অন্যতম কারণ, রাষ্ট্রের দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থার দুর্বলতা। তাই বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাংলাদেশে সুশাসন, গণতন্ত্র ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। দুর্নীতিবিরোধী আইনগুলো কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। জাতীয় সংসদে সেই দাবিই তুলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। কয়েক দিন আগে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছরে দুর্নীতির যে বাড়বাড়ন্ত চিত্র তুলে ধরেছে, তার উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতীয় সংসদে বলেন, ‘আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করছি, অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের সব কার্যক্রম দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে তদন্তের নির্দেশ দিন।’

অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে প্রণীত শ্বেতপত্রের তথ্য তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে গণতান্ত্রিক জবাবদিহির অভাবে দেশেলুটেরা অর্থনীতি’ ওক্রনি ক্যাপিটালিজম’ গড়ে ওঠে। এ সময় বছরে গড়ে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ১৫ বছরে প্রায় ২৯ থেকে ৩০ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। ব্যাংকঋণ কেলেঙ্কারি, রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ, মেগাপ্রকল্পে ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো এবং আইনের মাধ্যমে দুর্নীতিকে বৈধতা দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে।”

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আওয়ামী লীগ সরকার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দুর্নীতি তদন্ত করছে। অনেক মামলা বিচারাধীন। দেশে যেহেতু দুর্নীতিবিরোধী প্রতিষ্ঠানসহ আইন-কানুন একই আছে, তাই সেই আইনের আওতায় অন্তর্বর্তী সরকার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। সেই প্রয়োজন থেকেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে কোথায় দুর্নীতি হয়েছে, কিভাবে হয়েছে, কারা করেছে—সবকিছু খুঁজে বের করা হোক। তিনি বলেন, ‘তাই তারা (অন্তর্বর্তী সরকার) কোনো ধরনের দায়মুক্তি পেতে পারে না।’

টিআইবি সম্প্রতি ‘সেবা খাতে দুর্নীতি : জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫’ শীর্ষক যে গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে তাতে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এক বছরে সেবা খাতে প্রায় ১২ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকার ঘুষ লেনদেন হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, ২০২৫ সালে সেবাগ্রহীতাদের ৮১.৬ শতাংশ কোনো না কোনো খাতে দুর্নীতির শিকার হয়েছে, যা ২০২৩ সালের জরিপে ছিল ৭০.৯ শতাংশ। টিআইবির এই প্রতিবেদন ছাড়াও বিভিন্ন সময় অন্তর্বর্তী সরকার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নানা ধরনের দুর্নীতির অনেক খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। স্বচ্ছতা ও ন্যয়বিচারের স্বার্থেই সেগুলো যথাযথ তদন্তের দাবি রাখে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও বলেন, ‘বর্তমান সরকারের ভিত্তি স্বচ্ছতা। তাই যেকোনো ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া উচিত।’

আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ থেকে যে গণ-অভ্যুত্থান হয়, তারও অন্যতম কারণ ছিল দেড় দশকের সীমাহীন দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা। আমরা আশা করি, বর্তমান সরকার দুর্নীতিবিরোধী সেই জনপ্রত্যাশাকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করবে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স প্রদর্শন করবে, সেই দুর্নীতি যেভাবেই হোক না কেন কিংবা যে-ই করুক না কেন। আমরা চাই, বাংলাদেশ দুর্নীতির রাহুগ্রাস থেকে মুক্তি পাক। সর্বত্র স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠিত হোক। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের প্রতিটি দুর্নীতির ঘটনা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে বিচারের মুখোমুখি করা হোক।

প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন

জ্বালানিসংকটে পোশাকশিল্প

প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন

তৈরি পোশাক শিল্পকে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণভোমরা বলা হলেও এই খাতে সংকটের শেষ নেই। অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক উভয়মুখী সংকটে দেশের বিপুল সম্ভাবনাময় খাতটির জেরবার অবস্থা। করোনা মহামারির ধাক্কা সামলে উঠতে না উঠতেই ইউক্রেন যুদ্ধের দামামা। সর্বশেষ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে তৈরি পোশাক খাত একেবারে মুমূর্ষু হয়ে পড়েছে। দেশের ৯৫ শতাংশ তেল ও গ্যাস যেহেতু উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আসে, সে কারণে এবার জ্বালানিসংকটই তীব্র হয়ে দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া বিশ্ববাজারে অর্ডারে খরা, উৎপাদন ব্যয় অনেকাংশে বৃদ্ধি—এমন পরিস্থিতিতে ছাঁটাইয়ের খড়্গ নেমে এসেছে হাজারো শ্রমিকের ওপর।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দি ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে কালের কণ্ঠ জানিয়েছে, ইরান-মার্কিন যুদ্ধের কারণে ভয়াবহ জ্বালানিসংকটে ভুগছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প। জ্বালানির বাড়তি দাম ব্যবসায়ীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে। এমন চাপের মুখে গত ৬ জুন আল-মুসলিম গ্রুপ ঢাকায় তাদের নিটওয়্যার ও ডেনিম কারখানা থেকে প্রায় এক হাজার ৯০০ শ্রমিক ছাঁটাই করেছে। একই পরিস্থিতি আরো অনেক কারখানায়।

খবরে বলা হয়েছে, গত মে মাসে সরকার ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় গড়ে প্রতিদিন দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর চট্টগ্রামে কখনো কখনো তা দিনে আট ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মে মাস পর্যন্ত উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ কমেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মে মাসে টানা দশম মাসের মতো পোশাক রপ্তানি কমেছে।

এদিকে মে মাসে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংকটে থাকা ব্যবসাগুলোর জন্য ৬০০ বিলিয়ন টাকা প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, যার সবচেয়ে বড় অংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে পোশাকশিল্পের জন্য। কিন্তু এসব ঋণের সুদের হার প্রায় ৭ শতাংশ, যা আর্থিক চাপে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বহন করা কঠিন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পোশাকশিল্পে ৪০ লাখের বেশি মানুষ কাজ করে, যাদের বেশির ভাগই নারী। গত বছর বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশই এসেছে এই খাত থেকে। আমরা মনে করি, দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে হলে তৈরি পোশাক শিল্পে চলমান সংকট দূর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শিল্পাঞ্চলে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া খাতটি টিকিয়ে রাখতে এবং লক্ষ্য অর্জনে সরকার, মালিক ও শ্রমিক—এই তিন পক্ষেরই দায়িত্বশীল ও সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন।