• ই-পেপার

মশার উপদ্রব বন্ধ হোক

লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত তাঁতশিল্প

লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত তাঁতশিল্প

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলার বল্লা গ্রাম তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে ভুগছে। এই এলাকা দীর্ঘদিন ধরে তাঁতশিল্পের জন্য সুপরিচিত। আধুনিক তাঁতশিল্পের বেশির ভাগ কার্যক্রম বিদ্যুিনর্ভর হওয়ায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বল্লাসহ আশপাশের তাঁতশিল্প অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ঘন ঘন লোডশেডিং থাকায় তাঁতশিল্পের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে তাঁত মালিক, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এ অবস্থা চলমান থাকলে ঐতিহ্যবাহী এই তাঁতশিল্প আরো বড় ঝুঁকির মুখে পড়বে এবং একসময় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিদ্যুতের এই সংকট শুধু তাঁতশিল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থী, কর্মজীবী ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও।

একবিংশ শতাব্দীতে এসে এবং উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার এই সময়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার এমন নাজুক দশা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি, বল্লাসহ আশপাশের তাঁতশিল্পনির্ভর গ্রামগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।

সোনিয়া ক্যাথি

গভ. কলেজ অব অ্যাপ্লায়েড হিউম্যান সায়েন্স

মাদকমুক্ত সমাজ চাই

মাদকমুক্ত সমাজ চাই

যুবসমাজের অবক্ষয় রোধে সব থেকে বড় অন্তরায় হচ্ছে মাদক। বর্তমান সমাজ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বেশির ভাগ লোক মাদকাসক্ত। মাদক শুধু যুবসমাজের মধ্যে আবদ্ধ এমনটা নয়, আজকের শিক্ষিত নারীসমাজের বড় একটি অংশ মাদকে আসক্ত। এই আসক্তির পেছনে রয়েছে হতাশা, পারিবারিক কারণ, অসৎসঙ্গ কিংবা একাকিত্ব। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন পরিবারের সঠিক গাইডলাইন। ছেলেবেলা থেকেই বাচ্চাদের নৈতিক মূল্যবোধ, ভালো-মন্দের পার্থক্য এবং ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে জ্ঞান দান করতে হবে। এ ছাড়া পারিবারিক অশান্তির কারণে তারা দিকশূন্য হয়ে পড়ে। মা-বাবা বা পরিবারের বড়দের মধ্যকার অশান্তি যেন বাচ্চার মাঝে প্রভাব ফেলতে না পারে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।

মাদকাসক্তির আরেকটি বড় কারণ হচ্ছে এটির সহজলভ্যতা। বর্তমান সমাজে মাদক একটি মারাত্মক ব্যাধিরূপে প্রচারিত হলেও আশপাশের বাজারে কিংবা নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় বিক্রি হচ্ছে প্রকাশ্যেই, যার বিরুদ্ধে নেই কোনো আইনের পদক্ষেপ। গ্রামে গিয়ে বেশির ভাগ ছেলেকে একসঙ্গে দেখা মেলে ঠিক সেসব জায়গায়, যেখানে মাদক সহজলভ্য। সমাজকে এই অবক্ষয়ের হাত থেকে বাঁচাতে পারে সঠিক জ্ঞানদান, পরিবারের গাইডলাইন এবং সুষ্ঠু আইনের পদক্ষেপ।

ঈশিতা হক

শিক্ষার্থী, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি

পরিবেশ বাঁচাতে হবে

পরিবেশ বাঁচাতে হবে

৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস এলেই আমরা বৃক্ষরোপণ আর সেমিনারে মেতে উঠি। কিন্তু বাস্তবে আমাদের চারপাশের পরিবেশ আজ ধুঁকছে। দূষিত বাতাসে শিশুরা শ্বাসকষ্টে ভুগছে। কারখানার বর্জ্যে কালো হওয়া শীতলক্ষ্যায় জাল ফেলার জায়গা নেই। অপরিকল্পিত উন্নয়নে আমরা যেন নিজেদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একখণ্ড বধ্যভূমি বানাচ্ছি।

অথচ বাংলাদেশে আইনি কাঠামোর অভাব নেই। সংবিধানের ১৮(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুস্থ পরিবেশ আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫, দণ্ডবিধির (চবহধষ ঈড়ফব) ধারা এবং ফৌজদারি কার্যবিধির (ঈত্চঈ) ১৩৩ ধারায় দূষণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার কথা রয়েছে। এমনকি উচ্চ আদালত নদীকে জীবন্ত সত্তা স্বীকৃতি দিয়েছেন। কিন্তু প্রভাবশালীদের দৌরাত্ম্য ও আইনের প্রয়োগহীনতায় এসব আজ শুধুই কাগুজে দলিলে পরিণত হয়েছে। পরিবেশ ধ্বংস এক নীরব হত্যাকাণ্ড ও চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন। শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, আইনের কঠোর প্রয়োগ ও সম্মিলিত সচেতনতাই পারে এই ধ্বংসযজ্ঞ রুখতে। প্রকৃতিকে বাঁচাতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই হোক এবারের পরিবেশ দিবসের মূল অঙ্গীকার।

মো. বাইজিদ শেখ

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকার খাল দখল ও দূষণ মুক্ত করুন

ঢাকার খাল দখল ও দূষণ মুক্ত করুন

ঢাকা একটি জনবহুল শহর। গত কয়েক বছরে শহরের জনসংখ্যা দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও বাড়ছে না শিক্ষা, সচেতনতা। ঢাকা শহরের খালগুলোর দিকে তাকালেই তা উপলব্ধি করা যায়। রাজধানী শহর ঢাকায় একসময় খালের সংখ্যা বেশি থাকলেও এখন সেগুলোর দেখা মেলে না। দূষণ ও দখলে অনেক খালই আজ বিলীন হয়ে গেছে। ঢাকার অনেক বাসিন্দা খাল ভরাট করে তৈরি করছে বাসভবন ও বিভিন্ন স্থাপনা। পরিবেশ সম্পর্কে অজ্ঞতা, অসচেতনতাই মূলত এর প্রধান কারণ। সরকার ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ যদি কঠোর ভূমিকা না নেয়, তাহলে খাল ভরাট সমস্যা প্রকট হতে থাকবে। জলাবদ্ধতার পাশাপাশি ছড়াবে রোগ-বালাই। এই সমস্যা সমাধানে সরকার ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। খাল দখল ও দূষণের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনগণের মধ্যেও সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই ঢাকার খালগুলোকে রক্ষা করা সম্ভব।

বর্তমান সরকারের কাছে প্রত্যাশা, এই বিষয়ে অবিলম্বে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নূরাত ইসলাম

শিক্ষার্থী, ইডেন মহিলা কলেজ, ঢাকা