পার্থিব জীবনে মুমিনের লক্ষ্য মহান আল্লাহর নৈকট্য ও ভালোবাসা অর্জন করা। এই ভালোবাসা অর্জনের অন্যতম শর্ত হলো জীবনকে সব ধরনের পাপ-পঙ্কিলতা ও অপবিত্রতা থেকে দূরে থাকা। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, হে মানুষ! আল্লাহ পবিত্র। তিনি পবিত্র জিনিস ছাড়া কিছু গ্রহণ করেন না।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ২৯৮৯)
বিজ্ঞ আলেমরা বলেন, ছয় ধরনের পবিত্রতার মাধ্যমে মুমিন তার জীবনে পরিশুদ্ধি লাভ করে থাকে। তা হলো—
১. বিশ্বাসের পবিত্রতা : মহান স্রষ্টা ও তাঁর সৃষ্টির ব্যাপারে ভুল বিশ্বাস লালন করা হলো বিশ্বাসের অপবিত্রতা। মুমিন বিশ্বাস ও মননে অপবিত্রতা থেকে বেঁচে থাকে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা! নিশ্চয়ই মুশরিকরা নাপাক। সুতরাং তারা যেন এই বছরের পর আর মসজিদুল হারামের নিকটবর্তী না হয়।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ২৮)
২. কাজের পবিত্রতা : মুমিন তার দৈনন্দিন কাজ ও আমলের ক্ষেত্রে পবিত্রতা রক্ষা করে এবং অশ্লীলতা, কলুষতা, নোংরামি ও বিপর্যয় সৃষ্টিকারী কাজ পরিহার করে। আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা! মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদি ও ভাগ্য নির্ণায়ক শর ঘৃণ্য বস্তু, শয়তানের কাজ। সুতরাং তোমরা তা বর্জন করো। যাতে তোমরা সফল হও।’ (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৯০)
৩. খাবারের পবিত্রতা : পানাহারে মুমিনরা পবিত্র রক্ষা করে। আল্লাহ বলেন, ‘হে রাসুলগণ! তোমরা পবিত্র বস্তু হতে আহার কোরো এবং সৎকাজ কোরো। তোমরা যা কোরো সে সম্বন্ধে আমি সবিশেষ অবগত।’ (সুরা : মুমিনুন, আয়াত ৫১)
৪. পোশাকের পবিত্রতা : মুমিনের পোশাক-পরিচ্ছদও হয় পবিত্র। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে বস্ত্রাচ্ছাদিত! দাঁড়ান, (আপনজনদের) সতর্ক করুন, আপনার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করুন এবং আপনার পোশাক পবিত্র রাখুন।’ (সুরা : মুদ্দাসসির, আয়াত : ১-৪)
৫. ইবাদতে পবিত্রতা : ইবাদত প্রার্থনায় অংশগ্রহণের আগে মুমিন পবিত্রতা অর্জন করে। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা! যখন তোমরা নামাজের জন্য প্রস্তুত হইবে, তখন তোমরা তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করবে এবং তোমাদের মাথা মাসাহ করবে; পা গ্রন্থি পর্যন্ত ধৌত করবে। যদি তোমরা অপবিত্র থাকো, তবে বিশেষভাবে পবিত্র হবে।’ (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৬)
৬. ব্যক্তিগত জীবনে পবিত্রতা : শুধু ঈমান ও ইবাদতের ক্ষেত্রে নয়, বরং মুমিন একান্ত ব্যক্তিগত জীবনেও পবিত্রতা রক্ষা করে। ইরশাদ হয়েছে, ‘লোকে তোমাকে রজঃস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলুন, তা অশুচি। সুতরাং তোমরা রজঃস্রাবকালে স্ত্রী সংগম বর্জন করবে এবং পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত স্ত্রী সংগম করবে না।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২২২)
আল্লাহ সবার জীবনকে পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন করে দেন। আমিন।