ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমা দ্বিতীয় পত্র
পঞ্চম অধ্যায়
[পূর্বপ্রকাশের পর]
সৃজনশীল প্রশ্ন
৩। বাজারে যাওয়ার সময় রুবিয়ার বাবা তাকে ৫ টাকা এবং ১০ টাকার কিছু নোট দিল। সে নোটগুলোতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম এবং বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের স্বাক্ষর লক্ষ করে। আবার তার মা তাকে ২ টাকার কিছু নোট দিল, যেখানে অর্থসচিবের স্বাক্ষর এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার লেখা দেখতে পেল।
ক. ব্যাংক ড্রাফট কী?
খ. লেনদেন নিষ্পত্তিতে হস্তান্তরযোগ্য দলিল গুরুত্বপূর্ণ কেন? ব্যাখ্যা করো।
গ. রুবিয়া তার মায়ের নিকট কোন ধরনের নোট পেল? উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
ঘ. বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে রুবিয়ার বাবার দেওয়া নোট তার মায়ের দেওয়া নোট থেকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ—উদ্দীপকের আলোকে উক্তিটি মূল্যায়ন করো।
উত্তর
ক. চাহিবা মাত্র প্রাপককে অর্থ পরিশোধের জন্য ব্যাংকের এক শাখা কর্তৃক অন্য শাখা বা প্রতিনিধি ব্যাংককে যে লিখিত নির্দেশ দেওয়া হয় তাকে ব্যাংক ড্রাফট বলে।
খ. বাংলাদেশে বহাল ১৮৮১ সালের হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন অনুযায়ী প্রাপকের নির্দেশমতো প্রদেয় চেক, বিনিময় বিল ও অঙ্গীকারপত্রকে হস্তান্তরযোগ্য দলিল বলে।
সব সমাজেই লেনদেন নিষ্পত্তিতে আমরা চেকের ব্যবহার লক্ষ করি। অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বাণিজ্যে লেনদেন নিষ্পত্তিতে বিনিময় বিল ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। অঙ্গীকারপত্রও পাওনাদারগণ গ্রহণ করে। মেয়াদি বিল ও অঙ্গীকারপত্র বাট্টাকরণের সুযোগ থাকে। সর্বোপরি এরূপ দলিল আদালতের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যে কারণে লেনদেন নিষ্পত্তিতে হস্তান্তরযোগ্য দলিল গুরুত্বপূর্ণ।
গ. উদ্দীপকে রুবিয়া তার মায়ের থেকে সরকারি নোট পেল।
একটা দেশের সরকার নিজ কর্তৃক ও নিজ দায়িত্বে বিহিত মুদ্রা হিসেবে যে নোটের প্রচলন করে তাকে সরকারি নোট বলে। সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এরূপ নোট ছাপা হয়।
উদ্দীপকে রুবিয়াকে তার মা ২ টাকার কিছু নোট দিল। নোটগুলোতে অর্থসচিবের স্বাক্ষর এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার লেখা দেখতে পেল, যা সরকারি নোটের বৈশিষ্ট্যর সাতে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, রুবিয়া তার মায়ের নিকট থেকে সরকারি নোট বলে।
ঘ. বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে রুবিয়ার বাবার দেওয়া নোট তার মায়ের দেওয়া নোট থেকে অধিক গুরুত্বপূণ—উক্তিটি সত্য।
সরকারের অনুমতিক্রমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক ইস্যুকৃত নোটকে ব্যাংক নোট বলে। ব্যাংক নোটে গভর্নরের স্বাক্ষর থাকে। অপরপক্ষে, সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত নোটকে সরকারি নোট বলে। সরকারি নোটে অর্থসচিবের স্বাক্ষর থাকে।
উদ্দীপকে বর্ণনা অনুযায়ী, বাজারে যাওয়ার সময় রুবিয়াকে তার বাবা ৫ টাকা ও ১০ টাকার কয়েকটি নোট দিল, যার ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের স্বাক্ষর রয়েছে। সুতরাং রুবিয়াকে তার বাবা প্রদত্ত নোটগুলো হলো ব্যাংক নোট। কিন্তু তার মা তাকে ২ টাকার যে নোট দিল, বৈশিষ্ট্য বিচারে তা হলো সরকারি নোট। কারণ উক্ত নোটে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার লেখা এবং অর্থসচিব এতে স্বাক্ষর করেন।
বড় ধরনের লেনদেনের ক্ষেত্রে সরকারি নোট অপেক্ষা ব্যাংক নোট অধিক গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে বর্তমানে ১ টাকা, ২ টাকা ও ৫ টাকার নোট ছাড়া বাকি সব ব্যাংক নোট। অর্থাৎ সরকারি নোটে টাকার অঙ্ক ছোট। কিন্তু ব্যাংক নোটে টাকার অঙ্ক বড়। যে কারণে বড় অঙ্কের লেনদেনে সরকারি নোট ব্যবহার করলে অনেক নোট প্রয়োজন হবে, যা বহন করা ঝামেলাপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ। অপরপক্ষে বড় অঙ্কের লেনদেনে ব্যাংক নোট ব্যবহার করলে নোটের পরিমাণ কম লাগে। যেমন—কাউকে ১০০০ টাকা প্রদানে একটি ১০০০ টাকার ব্যাংক নোটই যথেষ্ট, সেখানে সরকারি ৫ টাকার কাগজি নোট প্রয়োজন হবে ২০০টি, যা কার্যত অসম্ভব। তাই বলা যায়, বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনে উদ্দীপকে রুবিয়ার বাবা প্রদত্ত ব্যাংক নোট অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
৪। মি. রিপন সাতক্ষীরা শহরে একটি ব্যাংক থেকে একই শহরের একজন প্রাপকের উদ্দেশ্যে নিশ্চিত অর্থ প্রাপ্তির নিশ্চয়তা চেয়ে একটা দলিল চাইলে ব্যাংক তাকে এমন একটি দলিল ইস্যু করে যার দুটি পক্ষ, একটি প্রস্তুতকারী ব্যাংক, অপরটি প্রাপক। অন্যদিকে জনাব আব্বাস সাতক্ষীরা থেকে খুলনা শহরে নিরাপদ অর্থ হস্তান্তরের পরামর্শ চাইলে তার ব্যাংক তাকে একটি দলিল ইস্যু করে, যার পক্ষ তিনটি। একটি প্রস্তুতকারী ব্যাংক, দ্বিতীয়টি প্রাপক এবং অপরটি আদিষ্ট ব্যাংক। দলিলটি হস্তান্তরযোগ্য এবং এর কমিশন তুলনামূলক বেশি।
ক. হস্তান্তরযোগ্য দলিল কী?
খ. উদ্দীপকে মি. রিপনের ব্যাংক কোন ধরনের দলিল ইস্যু করে? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর
ক. হস্তান্তরের মাধ্যমে স্বত্বান্তর ঘটে এমন দলিলকে হস্তান্তরযোগ্য দলিল বলে।
খ. উদ্দীপকে মি. রিপনের ব্যাংক হস্তান্তর অযোগ্য ঋণের দলিল পে-অর্ডার ইস্যু করে।
যে দলিলের মাধ্যমে ব্যাংকের কোনো একটি শাখা এর প্রাপককে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদানের নিশ্চিত প্রতিশ্রুতি প্রদান করে তাকে পে-অর্ডার বলে। ব্যাংকের যে শাখা একটি ইস্যু করে সেই শাখাই এটি পরিশোধ করে বিধায় পে-অর্ডার আদেষ্টা ও আদিষ্ট একই ব্যাংক শাখা হয়ে থাকে। এতে দুটি পক্ষ থাকে। যথা : প্রস্তুতকারী ব্যাংক শাখা ও প্রাপক।
উদ্দীপকের মি. রিপন শহরের একটি ব্যাংক থেকে একই শহরের একজন প্রাপকের উদ্দেশ্যে নিশ্চিত অর্থ প্রাপ্তির নিশ্চয়তা চেয়ে একটি দলিল চাইলে ব্যাংক তাকে এমন দলিল ইস্যু করে, যার দুটি পক্ষ, একটি প্রস্তুতকারী ব্যাংক, অপরটি প্রাপক। শুধু প্রাপককে প্রদান করা হয় বিধায় দলিলটি হস্তান্তর অযোগ্য। এ ধরনের দলিল একই নিকাশ ঘর এলাকার মধ্যে প্রদান করা হয় বলে এর কমিশনও তুলনামূলক কম হয়। ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত ও দলিলের বৈশিষ্ট্য পে-অর্ডারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, মি. রিপনের ব্যাংক পে-অর্ডার ইস্যু করে।