যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বৃহস্পতিবার বাহরাইনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবেন। এটি উপসাগরীয় অঞ্চলে তার তিন দিনের সফরের শেষ ধাপ। এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত নতুন চুক্তি নিয়ে আঞ্চলিক মিত্র দেশগুলোর সমর্থন অর্জন করা।
তবে এই উদ্যোগ সহজ হচ্ছে না। কারণ উপসাগরীয় অঞ্চলের অনেক আরব মিত্র দেশ এখনো ইরানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা সম্পর্কে পুরোপুরি আশ্বস্ত নয়। বাহরাইন সফরের সময় রুবিও উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি)-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। এই আঞ্চলিক জোটে বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত সদস্য হিসেবে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বিষয়ে এই দেশগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর এটিই যুক্তরাষ্ট্রের কোনো শীর্ষ কর্মকর্তার প্রথম উপসাগরীয় অঞ্চল সফর।
সফরের শুরু থেকেই রুবিও আঞ্চলিক মিত্রদের উদ্বেগ দূর করার চেষ্টা করছেন। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে জোর দিয়ে বলেন, প্রস্তাবিত চুক্তি ইরানের পক্ষে একতরফাভাবে সুবিধাজনক নয়। বরং এটি অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যেই করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত চলাকালে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশে হামলা চালিয়েছিল। সেই ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরো বেড়েছে। কুয়েতে সফরকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার দীর্ঘদিনের মিত্রদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে। তিনি বলেন, ‘আমরা এমন কোনো পদক্ষেপ নেব না, যা এই অঞ্চলে আমাদের দীর্ঘদিনের মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তাকে দুর্বল করে দিবে।’
রুবিওর এই সফর শুধু ইরান চুক্তি নিয়ে সমর্থন আদায়ের জন্য নয়, বরং উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করারও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা। কারণ মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক দেশগুলোর আস্থা অর্জন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় একটি কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।





