• ই-পেপার

শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ভেনেজুয়েলায় জরুরি অবস্থা

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার পেলেন ক্যাবিনেট র‌্যাঙ্ক

অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার পেলেন ক্যাবিনেট র‌্যাঙ্ক
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে মন্ত্রিসভার মন্ত্রীর সমমর্যাদার প্রোটোকল প্রদান করেছে।

ভারত সরকারের জারি করা এক দাপ্তরিক স্মারকে জানানো হয়েছে, এই মর্যাদা ব্যক্তিগতভাবে দিনেশ ত্রিবেদীকে দেওয়া হয়েছে। এতে বর্তমান অগ্রাধিকার তালিকায় কোনো ধরনের পরিবর্তন আনা হয়নি।

স্মারকে আরো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, এই বিশেষ প্রোটোকল সুবিধা শুধু আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য থাকবে। অর্থাৎ প্রশাসনিক বা নীতিগত কোনো ক্ষমতা এতে বাড়ছে না।

বাহরাইনে রুবিও, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি ঘিরে কূটনৈতিক আলোচনা

অনলাইন ডেস্ক
বাহরাইনে রুবিও, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি ঘিরে কূটনৈতিক আলোচনা
ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বৃহস্পতিবার বাহরাইনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবেন। এটি উপসাগরীয় অঞ্চলে তার তিন দিনের সফরের শেষ ধাপ। এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত নতুন চুক্তি নিয়ে আঞ্চলিক মিত্র দেশগুলোর সমর্থন অর্জন করা।

তবে এই উদ্যোগ সহজ হচ্ছে না। কারণ উপসাগরীয় অঞ্চলের অনেক আরব মিত্র দেশ এখনো ইরানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা সম্পর্কে পুরোপুরি আশ্বস্ত নয়। বাহরাইন সফরের সময় রুবিও উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি)-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। এই আঞ্চলিক জোটে বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত সদস্য হিসেবে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বিষয়ে এই দেশগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর এটিই যুক্তরাষ্ট্রের কোনো শীর্ষ কর্মকর্তার প্রথম উপসাগরীয় অঞ্চল সফর।

সফরের শুরু থেকেই রুবিও আঞ্চলিক মিত্রদের উদ্বেগ দূর করার চেষ্টা করছেন। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে জোর দিয়ে বলেন, প্রস্তাবিত চুক্তি ইরানের পক্ষে একতরফাভাবে সুবিধাজনক নয়। বরং এটি অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যেই করা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত চলাকালে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশে হামলা চালিয়েছিল। সেই ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরো বেড়েছে। কুয়েতে সফরকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার দীর্ঘদিনের মিত্রদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে। তিনি বলেন, ‘আমরা এমন কোনো পদক্ষেপ নেব না, যা এই অঞ্চলে আমাদের দীর্ঘদিনের মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তাকে দুর্বল করে দিবে।’

রুবিওর এই সফর শুধু ইরান চুক্তি নিয়ে সমর্থন আদায়ের জন্য নয়, বরং উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করারও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা। কারণ মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক দেশগুলোর আস্থা অর্জন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় একটি কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


 

ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানালেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ

অনলাইন ডেস্ক
ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানালেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ
ছবি : রয়টার্স

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্টে মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং বলেছেন, তিনি ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।

এর আগে ট্রুথ সোশ্যাল-এ একটি পোস্টে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য করতে প্রস্তুত।’ এ ছাড়া তিনি জানান, তাদের সরকারের সমস্ত সংস্থাকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে নির্দেশ দিয়েছেন। 

ফেসবুকে শেয়ার করা এক বিবৃতিতে ডেলসি রদ্রিগেজ বলেন, মার্কিন সরকার ভেনেজুয়েলাকে সমর্থন ও সংহতির প্রস্তাব দিয়েছে। অন্যান্য নেতাদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে রদ্রিগেজের শেয়ার করা একাধিক বার্তার মধ্যে এটি একটি। তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চিলির রাষ্ট্রপতি হোসে আন্তোনিও কাস্টসহ আরো অনেককে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

ভেনিজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) সতর্ক করে বলেছে, এ দুর্যোগে ব্যাপক প্রাণহানি ও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাটির প্রাথমিক মূল্যায়নে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ১ লাখের মধ্যে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, শক্তিশালী ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩২ জন নিহত এবং প্রায় ৭০০ জন আহত হয়েছেন। এটাই ভূমিকম্পের পর সরকারিভাবে প্রকাশিত প্রথম হতাহতের হিসাব।

উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় নিহত ও আহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো থেকে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে হতাহতের সর্বশেষ সংখ্যা জানানো হবে। স্থানীয় সময় বুধবার (২৫ জুন) ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের পশ্চিম এলাকায় এই ভয়াবহ ভূমিকম্প দুইটি অনুভূত হয়।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, প্রথম ভূমিকম্পটি আঘাত হানে রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার (১৭৬ মাইল) পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে, যার মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২। এর পরপরই রাজধানী থেকে প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার (১৮২ মাইল) পশ্চিমে ইউমারের কাছে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।

ভ্লগে হোয়াইট হাউসের অন্দরমহল দেখিয়ে ভাইরাল ট্রাম্পের নাতনি

অনলাইন ডেস্ক
ভ্লগে হোয়াইট হাউসের অন্দরমহল দেখিয়ে ভাইরাল ট্রাম্পের নাতনি
ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৭ বছর বয়সী নাতনি কাই ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা কয়েকটি ভিডিও ব্লগ বা ভ্লগের কারণে ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন। এসব ভিডিওতে তিনি হোয়াইট হাউসের ব্যক্তিগত আবাসিক অংশের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখিয়েছেন, যা সাধারণত জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকে না।

কাইয়ের প্রকাশিত ভিডিওগুলোতে হোয়াইট হাউসের এমন কিছু অংশ দেখা গেছে, যা নিয়মিত দর্শনার্থীদের ভ্রমণসূচির অন্তর্ভুক্ত নয়। এর মধ্যে রয়েছে একটি বোলিং অ্যালি, গলফ সিমুলেটর কক্ষ, আধুনিক ব্যায়ামাগার এবং ব্যক্তিগত পোশাক পরিবর্তনের কক্ষ। ভিডিওতে কাই আরো জানান, তিনি হোয়াইট হাউসের ঐতিহাসিক লিংকন বেডরুমেও থেকেছেন। এই কক্ষটি হোয়াইট হাউসের সবচেয়ে পরিচিত এবং ইতিহাসসমৃদ্ধ কক্ষগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়। এ ছাড়া তার ভ্লগে হোয়াইট হাউসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশের দৃশ্যও দেখা যায়। ফলে ভিডিওগুলো প্রকাশের পর দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

অনেকেই কাই ট্রাম্পের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, ভিডিওগুলো সাধারণ মানুষের কাছে হোয়াইট হাউসের ভেতরের একটি ভিন্ন ও ব্যতিক্রমী চিত্র তুলে ধরেছে। একজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, বেশিরভাগ মানুষ নিজেদের বাড়ি বা ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ভিডিও তৈরি করেন। কিন্তু কাই ট্রাম্প স্বাভাবিকভাবে হোয়াইট হাউসের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখিয়েছেন। তার ভিডিওতে ওভাল অফিস এবং প্রেসিডেন্টের বিখ্যাত রেজোলিউট ডেস্কও দেখা গেছে। অনেকের মতে, এটি যেন ইতিহাসকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ। আরেকজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, কাই সম্ভবত প্রথম কোনো প্রেসিডেন্টের নাতনি, যিনি এভাবে হোয়াইট হাউসের ভেতরের জীবন নিয়ে খোলামেলা ভিডিও তৈরি করেছেন। তার মতে, অতীতে অন্য কোনো প্রেসিডেন্ট পরিবারের সদস্য এমন উদ্যোগ নেননি।

তবে সবাই এই ভিডিওগুলোকে ইতিবাচকভাবে দেখেননি। কোনো সরকারি দায়িত্ব না থাকা একজন কিশোরীকে এত বড় পরিসরে প্রচারের সুযোগ দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত- তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক সমালোচক। তাদের মতে, কাই মূলত প্রেসিডেন্টের নাতনি হওয়ার কারণেই বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করছেন। একজন সমালোচক মন্তব্য করেন ‘দুঃখের বিষয় হলো, শুধু ট্রাম্পের নাতনি হওয়ার কারণেই কাইকে তারকাখ্যাতির দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এরপর হয়তো তাকে কোনো গুরুত্বপূর্ণ কমিটির প্রধানও করা হবে। এখন সময় এসেছে এই দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থা পরিষ্কার করার।’ তিনি এটিকে রাজনৈতিক প্রভাব ও বিশেষ সুবিধার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। 

কাই ট্রাম্পের ভ্লগগুলো শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তাই পায়নি, বরং নতুন একটি বিতর্কও তৈরি করেছে। প্রেসিডেন্টের পরিবারের ব্যক্তিগত জীবন এবং জনসাধারণের জানার অধিকারের মধ্যে সীমারেখা কোথায় হওয়া উচিত তা নিয়ে এখন অনেকেই আলোচনা করছেন। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে হোয়াইট হাউসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক একটি স্থাপনা কীভাবে মানুষের সামনে উপস্থাপন করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, কাইয়ের ভিডিওগুলো দেখিয়েছে যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নতুনভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সক্ষম। তবে এর সঙ্গে গোপনীয়তা, নিরাপত্তা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষার বিষয়গুলোও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।