• ই-পেপার

ইউরোপে তীব্র তাপপ্রবাহ, ফ্রান্সে পানিতে ডুবে ৪০ মৃত্যু

মৃত্যুর এক বছর পরও শেষকৃত্য হয়নি জাম্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের

অনলাইন ডেস্ক
মৃত্যুর এক বছর পরও শেষকৃত্য হয়নি জাম্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের
ছবি : রয়টার্স

জাম্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট এডগার লুঙ্গুর মরদেহ কোথায় সমাহিত করা হবে, তা নিয়ে দীর্ঘ আইনি বিরোধে তার পরিবার জয় পেতে যাচ্ছে। তার মৃত্যুর এক বছরেরও বেশি সময় পর মঙ্গলবার দক্ষিণ আফ্রিকার সুপ্রিম কোর্ট অব আপিল তার পরিবারের পক্ষে রায় দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) দক্ষিণ আফ্রিকার সর্বোচ্চ আপিল আদালত রায় দিয়ে জানিয়েছেন, লুঙ্গুর মরদেহের ওপর জাম্বিয়া সরকারের হেফাজতের দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। এর ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার একটি নিম্ন আদালতের আগের রায় বাতিল হয়ে গেছে। সেই রায়ে লুঙ্গুর মরদেহ জাম্বিয়া সরকারের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

লুঙ্গু ২০২৫ সালের ৫ জুন দক্ষিণ আফ্রিকায় ৬৮ বছর বয়সে মারা যান। জাম্বিয়া সরকার চেয়েছিল তাকে দেশের সাবেক নেতাদের জন্য নির্ধারিত জাতীয় কবরস্থানে দাফন করা হোক। তবে তার পরিবার দক্ষিণ আফ্রিকাতেই তাকে সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নেয়।

এই বিরোধের কারণে মৃত্যুর পরও লুঙ্গুর সঙ্গে বর্তমান জাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হাকাইন্দে হিচিলেমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব আলোচনায় ছিল। আইনি লড়াই চলার সময় লুঙ্গুর মরদেহ একটি মর্গে রাখা হয়। পরিবারের দাবি, লুঙ্গুর শেষ ইচ্ছা ছিল প্রেসিডেন্ট হিচিলেমা যেন তার মরদেহের কাছে না আসেন এবং তার রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় সভাপতিত্ব না করেন।

গত জুনে দক্ষিণ আফ্রিকায় পরিবারের আয়োজিত অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানও বাধাগ্রস্ত হয়। তখন জাম্বিয়া সরকার জরুরি মামলা করে দাবি জানায়, দেশের রীতি ও প্রোটোকল অনুযায়ী লুঙ্গুকে জাম্বিয়াতেই শেষকৃত্য করা উচিত।

মঙ্গলবারের রায়ে বিচারকদের সংখ্যাগরিষ্ঠ মত ছিল, এ ক্ষেত্রে জাম্বিয়া সরকারের দাবির চেয়ে সাধারণ আইন এবং পরিবারের সাংবিধানিক অধিকার বেশি গুরুত্ব পাবে। তবে জাম্বিয়া সরকার চাইলে এখনো দক্ষিণ আফ্রিকার সর্বোচ্চ আদালত, দক্ষিণ আফ্রিকার সাংবিধানিক আদালত আপিল করতে পারে।

লুঙ্গু ২০১৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত জাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি নির্বাচনে দুইবার হিচিলেমাকে পরাজিত করেছিলেন। পরে ২০২১ সালের নির্বাচনে হিচিলেমার কাছে পরাজিত হন। এরপর লুঙ্গু অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার তাকে কার্যত গৃহবন্দি করে রেখেছিল।

১৭ কোটি রুপির বিয়ের আয়োজন, হবু বরকে পাহাড় থেকে ফেলে দিলেন তরুণী

অনলাইন ডেস্ক
১৭ কোটি রুপির বিয়ের আয়োজন, হবু বরকে পাহাড় থেকে ফেলে দিলেন তরুণী
ছবি : সংগৃহীত।

মহারাষ্ট্রের পুনের কাছে লোহাগড় দুর্গে ট্রেকিং করতে গিয়ে এক তরুণ ব্যবসায়ীর মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশের অভিযোগ, এটি কোনো দুর্ঘটনা ছিল না, বরং তার বাগদত্তা ও তার প্রেমিক মিলে তাকে হত্যা করেছেন।

নিহত কেতন আগরওয়াল ছিলেন মহারাষ্ট্রের পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় এলাকার পরিচিত নির্মাণ ব্যবসায়ী বিশাল আগরওয়ালের ছেলে। আগামী নভেম্বরে রাজস্থানের উদয়পুরে তার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। পরিবার দুটি বিয়ের জন্য জয়পুরে প্রায় ১৭ কোটি রুপি ব্যয়ে একটি প্রাসাদ ভাড়া করেছিল। অতিথিদের যাতায়াতের জন্য দুটি ব্যক্তিগত বিমানেরও ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বিয়ের সব প্রস্তুতি জোরেশোরে চলছিল।

এক আত্মীয় বলেন, দুই পরিবারই বিয়ে নিয়ে খুব আনন্দিত ছিল। কিন্তু এই ঘটনা তাদের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হয়ে এসেছে।

পুলিশ জানায়, ১৮ জুন বাগদত্তা সিয়া গোয়ালের জন্মদিন উপলক্ষে কেতন তার সঙ্গে লোহাগড়ে ট্রেকিং করতে যান। ঘটনার পর সিয়া দাবি করেছিলেন, ছবি তোলার সময় কেতন পা পিছলে গভীর খাদে পড়ে যান। পরে উদ্ধারকারী দল তার মরদেহ উদ্ধার করে। তবে তদন্তে পুলিশ বিভিন্ন অসংগতি খুঁজে পায়। মোবাইল ফোনের তথ্য, কল রেকর্ড এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যে সন্দেহ তৈরি হলে পুলিশ সিয়া গোয়াল ও তার প্রেমিক চেতন চৌধুরীকে আটক করে।

তদন্তকারীদের দাবি, সিয়া ও চেতন পরিকল্পিতভাবে কেতনকে একটি গভীর খাদে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশের মতে, সিয়া কেতনকে বিয়ে করতে চাননি। তিনি চেতন চৌধুরীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িত ছিলেন এবং কেতনকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। নিজের জন্মদিনে ট্রেকিংয়ের অজুহাতে তাকে লোহাগড়ে নিয়ে গিয়ে হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয় বলে অভিযোগ।

তদন্ত কর্মকর্তা সন্দীপ সিং গিল বলেন, তদন্তে জানা গেছে সিয়া ও চেতন একে অপরকে ভালোবাসতেন এবং একসঙ্গে কাজ করতেন।

তিনি দাবি করেন, জিজ্ঞাসাবাদে দুজনই কেতনকে হত্যার ষড়যন্ত্রের কথা স্বীকার করেছেন। এদিকে কেতনের বিয়ের প্রস্তুতি জোরেশোরে চলছিল। পরিবারগুলো রাজস্থানের উদয়পুরে জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের আয়োজন করেছিল। কিন্তু সেই আনন্দের পরিবেশ মুহূর্তেই শোকে পরিণত হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনায় হত্যা মামলা করেছে। অভিযুক্তরা বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে এবং তদন্ত চলছে।

যুক্তরাষ্ট্রে লাইব্রেরিতে বন্দুক হামলা, নিহত ২

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রে লাইব্রেরিতে বন্দুক হামলা, নিহত ২
ছবি : সংগৃহীত।

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার বুটে কাউন্টি লাইব্রেরির চিকো শাখায় বন্দুক হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক সন্দেহভাজনকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, সোমবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার কিছু পরে জরুরি ফোন পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যায়। ফোনে লাইব্রেরির ভেতর থেকে গুলির শব্দ ও মানুষের চিৎকার শোনা যাচ্ছিল।

পুলিশ কর্মকর্তারা লাইব্রেরিতে প্রবেশ করলে সন্দেহভাজন ব্যক্তি পেছনের দরজা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। তবে লাইব্রেরির বাইরে অবস্থান করা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাকে দ্রুত আটক করে। চিকো পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং পুরো সম্প্রদায়ের জন্য গভীর শোকের বিষয়।

ঘটনার পর নিরাপত্তার কারণে লাইব্রেরির আশপাশের সড়ক সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং ভেতরে থাকা লোকজনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একটি পুনর্মিলন কেন্দ্র খোলা হয়। সামান্য আহত একটি শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে জনসাধারণের জন্য আর কোনো বড় হুমকি নেই। হামলার কারণ এখনো জানা যায়নি। সন্দেহভাজনের পরিচয়ও প্রকাশ করা হয়নি। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, হামলাটি একজন ব্যক্তিই চালিয়েছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের জানানো না পর্যন্ত তাদের নাম প্রকাশ করা হবে না বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

এ ছাড়া ঘটনার পর মঙ্গলবার বুটে কাউন্টির সব লাইব্রেরি শাখা বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কাউন্টি কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে নিহত ও আহতদের পরিবার, লাইব্রেরির কর্মী এবং এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সবার প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।

নাইজেরিয়ায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় নিহত ২০

অনলাইন ডেস্ক
নাইজেরিয়ায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় নিহত ২০
ছবি : রয়টার্স

নাইজেরিয়ার উত্তর-মধ্যাঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছে বলে সোমবার (২২ জুন) পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশ মুখপাত্র আলফ্রেড আলাবো এক বিবৃতিতে বলেন, এই হামলা রবিবার প্লাটো রাজ্যের বোক্কোস এলাকার কাওয়েল সম্প্রদায়ে ঘটে। 

তিনি জানান, ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ পৌঁছে হামলাকারীদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে জড়ালে তারা পিছু হটে। তবে এখনো কোনো গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি। তিনি আরো বলেন, নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিবারগুলো ময়নাতদন্ত করতে রাজি না হওয়ায় তাদের কাছে মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হয়। এদিকে প্লাটো রাজ্যের গভর্নর ক্যালেব মুতফওয়াং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা ও মানবিক সংগঠনগুলোকে দ্রুত ত্রাণ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। 

উল্লেখ্য, নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সহিংসতা চলছে। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিদ্রোহে হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। উত্তর-পশ্চিম ও উত্তর-মধ্যাঞ্চলেও এ ধরনের হামলা নিয়মিত ঘটছে। মার্চ মাসেও প্লাটো রাজ্যের আরেকটি হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছিল।