• ই-পেপার

আইন অমান্য করায় সৌদিতে ১৫ হাজারেরও বেশি গ্রেপ্তার

‘কালো জাদু’ নিয়ে সন্দেহের বশে গৃহকর্মীকে হত্যা, চিকিৎসক গ্রেপ্তার

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
‘কালো জাদু’ নিয়ে সন্দেহের বশে গৃহকর্মীকে হত্যা, চিকিৎসক গ্রেপ্তার

৫০ বছর বয়সি মনীশ গুপ্ত চর্ম রোগ বিশেষজ্ঞ। দিল্লীর অভিজাত মাউন্ট কৈলাশ এলাকায় তার বাসা, প্র্যাকটিসও করেন একই এলাকায়। মনীশ গুপ্তের স্ত্রীও চিকিৎসক, তিনি আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা দেন। দুই ব্যস্ত চিকিৎসককে ঘর সামলাতে তাই নির্ভর করতে হয় গৃহকর্মীর ওপর। ১৫ বছর ধরে তাদের ঘর সামলাতেন মীনা নামে ৪৫ বছর বয়সি এক গৃহকর্মী।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে মনীশ গুপ্ত তার বাসার ছাদে প্রথমে ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে পরে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন মীনাকে। তারপর বসেছিলেন, মরদেহের পাশে। পুলিশ এসে যখন রক্তে ভেসে যাওয়া মীনার মরদেহ উদ্ধার করেন, তখন মনীশ গুপ্তও আত্মসমর্পণ করেন।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মনীশ জানিয়েছেন, মীনা কালো জাদু (ব্ল্যাক ম্যাজিক) চর্চা করতেন। এ কারণে তার ঘরে অশান্তি হতো। তার দাবি, মীনার জাদুটোনার কারণে ঘরের সবাই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। তাই তিনি মীনাকে হত্যা করেছেন। তবে প্রাথমিক অনুসন্ধানে পুলিশ কালো জাদুর কোনো প্রমাণ পায়নি। ডা. গুপ্ত পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে একেক সময় একেক কথা বলছিলেন। তাই পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। ডা. গুপ্ত এবং মনীশার মধ্যে অন্য কোনো সম্পর্ক ছিল কিনা, তাও পুলিশের অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে। পুলিশের ধারণা, ঘটনার আগে মনীশের সঙ্গে মীনা তর্কে জড়িয়েছিলেন।

পারিবারিক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, ডা. মনীশ গুপ্ত ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তীব্র বিষণ্নতায় ভুগছিলেন। এছাড়া তিনি নানা মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ছিলেন। সবসময় তিনি দুশ্চিন্তা করতেন, সবাইকে সন্দেহ করতেন। ঘটনার কয়েকদিন আগে মনীশ তার স্ত্রীর কাছে মীনা কালো জাদু চর্চা করে বলে অভিযোগ করেছিলেন। তিনি মীনাকে কাজ থেকে ছাড়িয়ে দিতে বলেছিলেন। কিন্তু তার স্ত্রী তাতে রাজি হননি। তিনি উল্টো মনীশকে স্মরণ করিয়ে দেন, মনীশের মায়ের ক্যান্সার চিকিৎসার সময় মীনা তাদের কতটা সহায়তা করেছিলেন। তাতেও শান্ত হননি মনীশ। বরং ঘরে গৃহকর্মীর চেয়ে তার কথার দাম কম, এ ভাবনা তাকে আরো বেপরোয়া করে তোলে। বৃহস্পতিবার সকালে যখন তার স্ত্রী নিজের ক্লিনিকে চলে যান, তখনই মীনাকে হত্যা করেন মনীশ।

মীনার চিৎকারে প্রতিবেশীরা পুলিশের খবর দিলে পুলিশ এসে মীনার লাশ উদ্ধার করে এবং লাশের পাশে বসে থাকা মনীশকে গ্রেপ্তার করে। আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে রক্তাক্ত ক্রিকেট ব্যাট ও ছুরি।

নিহত মীনা এলাকায় পরিচিত ‍মুখ। তাকে সবাই শান্ত স্বভাবের বলে বর্ণনা করেছেন। মীনার ভাই ও ছেলে জানিয়েছেন, প্রতিদিনের মত সেদিন সকালেও তিনি স্বাভাবিকভাবে কাজে গিয়েছিলেন। পরে তারা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান।

১৯৯৯ সালে জয়পুরের সাওয়া মানসিং মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি লাভ করেন মনীশ গুপ্ত। এরপর আবাসিক চিকিৎসক হিসেবে যোগ দেন দিল্লির জিবি প্যান্ট হাসপাতালে। পরের বছর তিনি কাজ শুরু করেন দিল্লীর বিখ্যাত এইমস হাসপাতালে। ২০০৫ সালে চম রোগে বিশেষজ্ঞ ডিগ্রি পাওয়ার পর তিনি প্রাইভেট প্র্যাকটিস শুরু করেন। প্রতিবেশীরা ডা. মনীশ গুপ্তকে চমৎকার মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার সঙ্গে কারো কখনো কোনো বিষয় নিয়ে বিবাদ হয়নি। মাউন্ট কৈলাশের মত অভিজাত এলাকায় ডা. মনীশের স্ত্রীকেও সবাই সম্ভ্রান্ত নারী হিসেব সম্মান করতেন। মীনার মর্মান্তিক মৃত্যুতে সবাই ক্ষুব্ধ। আবার এমন শিক্ষিত ও অভিজাত ডাক্তার পরিবারটির এমন বিপর্যয়েও তারা হতবাক। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকের আগে মিনাবের নিহতদের স্মৃতিচারণা করলেন ইরানের স্পিকার

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকের আগে মিনাবের নিহতদের স্মৃতিচারণা করলেন ইরানের স্পিকার
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রথম দফার কারিগরি আলোচনায় অংশ নিতে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে পৌঁছেছে ইরানের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল। দুই দেশের মধ্যে সই হওয়া ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে। আলোচনা শুরুর আগে ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ (এমবি গালিবাফ) তাদের দেশের ‘মিনাব স্কুল’ হামলায় নিহতদের স্মরণ করেছেন

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত কমাতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার সময় এই শহীদদের আত্মত্যাগই তাদের পথ দেখাবে।’

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রতিনিধিদলের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তাদের এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো চলমান কূটনৈতিক বোঝাপড়ার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করা। তিনি আরো জোর দিয়ে বলেন, অতীত অভিজ্ঞতার কারণে ইরান এবার অপর পক্ষের প্রতিটি পদক্ষেপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। অতীতে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের নজিরের কথা উল্লেখ করে বাঘাই বলেন, বিপক্ষের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা এবার তাদের অঙ্গীকার পূরণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদারকি করা হবে।

এই কূটনৈতিক আলোচনায় অংশ নিতে ইরানের শীর্ষ স্তরের কর্মকর্তারা সুইজারল্যান্ডে এসেছেন। সংসদ স্পিকার গালিবাফের নেতৃত্বে এই দলে আরো রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি, সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপমন্ত্রী আলী বাঘেরি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদুলনাসের হেম্মাতি, উপ-তেলমন্ত্রী ও ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানির চেয়ারম্যান হামিদ বোর্দে।

ইরানি প্রতিনিধিদল জুরিখে পৌঁছানোর পর সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের স্বাগত জানিয়েছে। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সুইস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুই দেশের সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের পরবর্তী আলোচনার জন্য ইরানি দলটি এখন বার্গেনস্টকের পথে রয়েছে।

 

সোমবার পদত্যাগ করতে পারেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
সোমবার পদত্যাগ করতে পারেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সোমবার (২২ জুন) পদত্যাগ করতে পারেন বলে ব্রিটেনের পত্রিকা ‘দ্য অবজারভার’ জানিয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি সরকারি সূত্র এই দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছে, স্টারমার পদত্যাগের বদলে দেশের শাসনকার্য চালিয়ে যাওয়ার দিকেই পুরোপুরি মনোনিবেশ করে আছেন।

প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদের ওপর গত কয়েক মাস ধরেই চাপ তৈরি হচ্ছিল। তবে এই সংকট শুক্রবার (১৯ জুন) আরো তীব্র আকার ধারণ করে। ওই দিন তার প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সংসদ উপনির্বাচনে এমন একটি আসনে জয়লাভ করেন, যা তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের নেতৃত্বের জন্য স্টারমারের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ করে দিয়েছে।

বেশ কিছুদিন ধরেই ক্ষমতাসীন দলের ভেতরে কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ চলছিল। তবে শুক্রবার অ্যান্ডি বার্নহ্যামের সংসদে প্রবেশ করার ঘটনাটি স্টারমারের প্রধানমন্ত্রিত্বকে বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলে দেয়। নিয়ম অনুযায়ী, দলের ভেতরে স্টারমারকে চ্যালেঞ্জ করতে হলে বার্নহ্যামের সংসদ সদস্য হওয়া জরুরি ছিল, যা তিনি এই জয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন।

অবজারভার পত্রিকার তথ্য অনুযায়ী, দলের ভেতরে নিজের সমর্থন কমে যাওয়া এবং বার্নহ্যামের উত্থানের কারণেই স্টারমার সোমবার পদত্যাগের মতো বড় সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন। তবে ডাউনিং স্ট্রিটের (প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়) পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আলজাজিরার ক্যামেরাম্যানসহ নিহত ৬

অনলাইন ডেস্ক
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আলজাজিরার ক্যামেরাম্যানসহ নিহত ৬
ছবি : রয়টার্স

চুক্তি অনুযায়ী যুদ্ধবিরতি চলার পরেও গাজা উপত্যকায় থামছে না ইসরায়েলি হামলা। শনিবার (২০ জুন) নতুন করে চালানো বেশ কয়েকটি ইসরায়েলি হামলায় দুই শিশু ও কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক ক্যামেরাম্যানসহ অন্তত ছয়জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। 

শনিবার সন্ধ্যায় মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরের একটি বাড়িতে কোনো সতর্কবার্তা ছাড়াই বোমা ফেলে ইসরায়েল। এতে আল জাজিরার ক্যামেরাম্যান আহমেদ উইশাহসহ তিনজন নিহত হন। আল জাজিরা কর্তৃপক্ষ উইশাহর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর আগে গত এপ্রিল মাসে ইসরায়েলি হামলায় আহমেদ উইশাহর ভাই এবং আল জাজিরার সংবাদদাতা মোহাম্মদ উইশাহ নিহত হয়েছিলেন।

ফিলিস্তিনের গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবরে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি সই হলেও ছিটমহলটিতে প্রায় প্রতিদিনই হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। শনিবার ভোররাত ২টার দিকে গাজা শহরের একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টে প্রথম হামলাটি চালায় ইসরায়েলি বিমানবাহিনী। এ হামলায় জিনা (৪) ও লানা (১৪) নামে দুই বোন নিহত হয়। নিহতদের চাচাতো ভাই মোহাম্মদ সাফাদি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা বাড়িতে বসে ছিলাম, হঠাৎ রকেট এসে আমাদের ওপর পড়ল। আমরা সাধারণ নাগরিক, জীবনে কখনো অস্ত্র ধরিনি। তবে দখলদার বাহিনী আর আলোচনা দল যে যুদ্ধবিরতির কথা বলছে, তা কি আসলেই যুদ্ধবিরতি?’ ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা এই হামলার ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তারা একটি সুনির্দিষ্ট ও লক্ষ্যভিত্তিক হামলায় আলজাজিরার ওই ক্যামেরাম্যানকে হত্যা করেছে। তাদের দাবি, ওই ব্যক্তি হামাসের সামরিক শাখার সদস্য ছিলেন এবং ইসরায়েলি সৈন্যদের জন্য হুমকি তৈরি করেছিলেন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর এই যুদ্ধ শুরু হয়। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দীর্ঘ এই সংঘাত ও চলমান যুদ্ধবিরতির সময়কাল মিলিয়ে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত ৭৩ হাজার ১৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের প্রায় অর্ধেকই নারী ও শিশু।