• ই-পেপার

পাকিস্তান ‘ফ্রাংকেনস্টাইন রাষ্ট্র’, জাতিসংঘে ভারতের তোপ

ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ

লেবাননে যুদ্ধবিরতি শুরু

অনলাইন ডেস্ক
লেবাননে যুদ্ধবিরতি শুরু
রয়টার্স ছবি

লেবাননে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ। শুক্রবার থেকেই এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ট্রাম্প প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তিচুক্তিতে ইরানের অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ করা। এই যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সে শর্ত বাস্তবায়নের পথ তৈরি হয়েছে।

পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে ওই জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে।’

তিনি আরো জানান, লেবাননে স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেল ৪টার কিছু আগে থেকেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।

যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের আলোচকরা ইরানের সহায়তায় এই চুক্তির রূপরেখা চূড়ান্ত করেছেন বলেও জানান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পরও লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসনে ১৮ জন নিহত হয়েছেন। জবাবে হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের হামলায় চারজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতভর লেবাননে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এ হামলার জেরে শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে পূর্বনির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা স্থগিত করা হয়েছে। আলোচনা স্থগিত হওয়ায় বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

মোদিকে ‘ফেরেশতা’ ও ‘খুনি’ বলে প্রশংসা করলেন ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
মোদিকে ‘ফেরেশতা’ ও ‘খুনি’ বলে প্রশংসা করলেন ট্রাম্প
সংগৃহীত ছবি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একজন ‘কঠিন মধ্যস্থতাকারী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে রসিকতার ছলে ট্রাম্প বলেন, মোদি দেখতে ‘ফেরেশতার’ মতো হলেও কাজের ক্ষেত্রে তিনি ‘খুনি’দের মতো কঠোর। এই ধরনের মানুষ খুব কমই দেখা যায়। 

ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি একটি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বাণিজ্য চুক্তির ‘খুব কাছাকাছি’ রয়েছে উল্লেখ করে ১৭ জুন ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা গত কিছু সময় ধরে বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। তিনি (মোদি) আসলে অন্যতম কঠোর একজন মধ্যস্থতাকারী।’

ট্রাম্প আরো জানান, মোদি দীর্ঘ সময় ধরে তার বন্ধু এবং তিনি ভবিষ্যতে ভারত সফর করবেন।

গত এক বছরে শুল্ক, পাকিস্তান এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে তৈরি হওয়া উত্তেজনার পর দুই দেশের সম্পর্ক মেরামতের সর্বশেষ প্রচেষ্টা হিসেবে এই বৈঠককে দেখা হচ্ছে।

২০২৫ সালের শুরুতে মোদির হোয়াইট হাউস সফরের পর এবারই প্রথম দুই নেতা মুখোমুখি বসলেন। বৈঠকে ওমান উপসাগরে ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার ঘটনা এবং তাদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।

প্রতিরক্ষা সম্পর্কের বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘ভারত আক্রান্ত হলে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করবে।’

মোদির দিকে নির্দেশ করে ট্রাম্প বলেন, ‘যদি কেউ ওই ব্যক্তিকে আক্রমণ করে, তবে আমরা সেখানে থাকব। তবে নতুন কোনো নেতা এলে আমি সে বিষয়ে নিশ্চিত নই।’

শান্তি আলোচনা

যুক্তরাষ্ট্র নয়, মরিয়া অবস্থায় ইরান : ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র নয়, মরিয়া অবস্থায় ইরান : ট্রাম্প
সংগৃহীত ছবি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা (এমওইউ) চুক্তি নিয়ে সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে বলেছেন, আলোচনায় বসার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরং ‘মরিয়া’ অবস্থায় ছিল ইরান।

নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমরা মরিয়া হয়ে বৈঠকে বসিনি, ইরান বসেছে। তারা শেষ হয়ে গেছে!’

তিনি আরো বলেন, সমঝোতা স্মারকে নির্ধারিত ৬০ দিনের আলোচনার সময়সীমা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র পরবর্তী আলোচনা চালিয়ে যাবে।

চুক্তির আওতায় ইরানকে অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে—এমন গুঞ্জনও উড়িয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘তারা কোনো অর্থ পাবে না, এক সেন্টও নয়।’

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানের সম্ভাব্য সম্পদ অবমুক্ত করা এবং অর্থনৈতিক সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন আলোচনা ও জল্পনা তৈরি হলেও ট্রাম্পের এই মন্তব্যে ওয়াশিংটনের অবস্থান আরো কঠোর বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

ছবি তোলার জন্য মিনতি করিনি—ট্রাম্পকে মেলোনির জবাব

অনলাইন ডেস্ক
ছবি তোলার জন্য মিনতি করিনি—ট্রাম্পকে মেলোনির জবাব
ছবি : রয়টার্স

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি মার্কিন প্রেসিডেন্ড ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মিথ্যা গল্প তৈরির অভিযোগ আনেন। ট্রাম্প একটি ইতালীয় টিভি চ্যানেলকে বলেছিলেন, ‘জি-৭ সম্মেলনে মেলোনি তার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য অনুরোধ করেছিলেন’। তবে মেলোনি বলেছেন, ‘ট্রাম্পের এই মন্তব্যে তিনি বিস্মিত এবং এ ধরনের দাবি সম্পূর্ণ মনগড়া।’

তিনি আরো অভিযোগ করেন, ট্রাম্প পশ্চিমা বিশ্বের দীর্ঘদিনের মিত্রদের তুলনায় পশ্চিমের প্রতিপক্ষদের প্রতি বেশি নমনীয় ও সহানুভূতিশীল আচরণ করছেন।

ট্রাম্পের মন্তব্যে ইতালি সরকারের ক্ষোভ কতটা গভীর, তা বোঝাতে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করছেন।

সাম্প্রতিক এই বাকযুদ্ধ দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। মাত্র কয়েক দিন আগেই জি-৭ সম্মেলনে এমন লক্ষণ দেখা গিয়েছিল, ইরান যুদ্ধ নিয়ে চলতি বছরের মতবিরোধের পর ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পর্ক আবার কিছুটা স্বাভাবিক হচ্ছে। কিন্তু ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর সেই সম্পর্ক আবারও টানাপোড়েনের মুখে পড়েছে।

ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানের ভিডিওতে দেখা গেছে, মেলোনি ও ট্রাম্প একটি ছোট সোফায় পাশাপাশি বসে গভীর আলোচনায় মগ্ন ছিলেন। তবে ট্রাম্প পরে এমন ইঙ্গিত দেন যে, তিনি মূলত মেলোনির অনুরোধেই তার সঙ্গে কথা বলেছিলেন।

ইতালির টিভি চ্যানেনকে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘সম্ভবত আমি তার সঙ্গে কথা বলেছি বলে তিনি খুশি। আমার তো তার সঙ্গে কথা বলার কোনো প্রয়োজন ছিল না।’ উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সাক্ষাৎকারের সময় ইতালির প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে প্রশ্নটি সাংবাদিক নয়, ট্রাম্প নিজেই তুলেছিলেন।

লা সেভেনের চ্যানেলের অনুযায়ী ট্রাম্প বলেন, ‘মেলোনি আমার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য অনুরোধ করেছিল। আমার সঙ্গে একটি ছবি পাওয়ার জন্য সে খুবই আগ্রহী ছিল। আমি ছবি তুলতাম না, কিন্তু তার জন্য আমার মায়া হয়েছিল।’ তবে চ্যানেলটি ট্রাম্পের মূল অডিও প্রকাশ করেনি। 

মেলোনি জবাবে বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য পুরোপুরি মনগড়া। সত্যি বলতে আমি বিস্মিত। আমি জানি না কেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট তার মিত্রদের সঙ্গে এমন আচরণ করেন। তবে এটি প্রথমবার নয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘দুঃখজনক বিষয় হলো, পশ্চিমা বিশ্ব ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষদের ক্ষেত্রে তিনি একই ধরনের কঠোর অবস্থান দেখান না। বরং তাদের নেতাদের প্রতি তিনি অনেক বেশি নমনীয় আচরণ করেন।’ মেলোনি যোগ করেন, ‘একটি বিষয় তার মনে রাখা উচিত, আমি বা ইতালি কখনো কারো কাছে অনুরোধ বা মিনতি করি না।’