• ই-পেপার

আমেরিকায় হাসপাতালে বন্দুক হামলা, সন্দেহভাজন আটক

হেবরন চুক্তি বাতিলের দাবি, ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে নতুন সংকটের আশঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক
হেবরন চুক্তি বাতিলের দাবি, ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে নতুন সংকটের আশঙ্কা
ছবি : সংগৃহীত।

ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ দাবি করেছেন, তিনি ১৯৯৭ সালের হেবরন চুক্তি বাতিল করেছেন। এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে অধিকৃত পশ্চিম তীরের বৃহত্তম শহর হেবরনে নির্মাণকাজের ওপর ফিলিস্তিনি পৌরসভার কর্তৃত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।

১৯৯৭ সালের ১৭ জানুয়ারি ইসরায়েল এবং প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও)-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হলো হেবরন চুক্তি। এই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিল পশ্চিম তীরের হেবরন শহর থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করে ফিলিস্তিনিদের হাতে শহরের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর করা।

হেবরন চুক্তির মাধ্যমে পশ্চিম তীরের হেবরন শহরটি দুটি প্রশাসনিক অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছিল। এর একটি অংশ ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের বেসামরিক নিয়ন্ত্রণে এবং অন্য অংশ ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। চুক্তিটি ‘হেব্রন প্রোটোকল’ নামে পরিচিত।

স্মোট্রিচের বক্তব্য অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তের ফলে হেবরনের নির্দিষ্ট এলাকায় ফিলিস্তিনি পৌরসভার নির্মাণসংক্রান্ত ক্ষমতা বাতিল বা সীমিত হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক আইনি পরিবর্তন বা বাস্তবায়নের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

ফিলিস্তিনি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির সমালোচনা করে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে, হেবরন চুক্তি বাতিলের যেকোনো উদ্যোগ এলাকাটিতে উত্তেজনা বাড়াতে পারে।

এদিকে পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী ও ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় এক ফিলিস্তিনি কিশোরী আহত হয়েছে এবং বেশ কিছু সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনীর ছোড়া গুলি ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর কাঁধে গিয়ে লাঘে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। শহরটিতে অভিযান চালানোর সময় ইসরায়েলি সেনারা গুলি ও কাঁদানে গ্যাসের ক্যানিস্টার নিক্ষেপ করে এবং শহরের প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয়।

এদিকে, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা আল-লুব্বান আশারকিয়া এলাকার সড়কে চলাচলকারী বাসিন্দাদের দুটি গাড়িতে পাথর ছুড়ে হামলা চালায়। এতে গাড়িগুলোর জানালার কাচ ভেঙে যায়। এল-বিরেহ শহরেও ইসরায়েলি বাহিনী অভিযান চালিয়ে বাসিন্দাদের লক্ষ্য করে সাউন্ড বোমা, কাঁদানে গ্যাসের ক্যানিস্টার ও গুলি ছোড়ে। এতে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং যান চলাচল ব্যাহত হয়।

এ ছাড়া রামাল্লার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত দেইর আবু মিশাল গ্রামে ইসরায়েলি বাহিনী গুলি ছুড়তে ছুড়তে প্রবেশ করে। তবে সেখানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পূর্বাঞ্চলের আস-সাওয়াহিরা আল-শারকিয়া এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী কয়েকটি বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় তারা ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে, বাসিন্দাদের ওপর হামলা চালায় এবং তাদের মোবাইল ফোন জব্দ করে পরে এলাকা ত্যাগ করে।

এদিকে ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ দাবি করেছেন, তিনি ১৯৯৭ সালের হেবরন চুক্তি বাতিল করেছেন। এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে অধিকৃত পশ্চিম তীরের বৃহত্তম শহর হেবরনে নির্মাণকাজের ওপর ফিলিস্তিনি পৌরসভার কর্তৃত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের চাপে কিউবার পর্যটন খাতে বিরাট ধাক্কা, পর্যটক কমেছে অর্ধেকের বেশি

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের চাপে কিউবার পর্যটন খাতে বিরাট ধাক্কা, পর্যটক কমেছে অর্ধেকের বেশি
সংগৃহীত ছবি

বিদেশি পর্যটকদের কাছে কিউবার আকর্ষণ দ্রুত কমে যাচ্ছে। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে দেশটিতে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা অর্ধেকেরও বেশি কমেছে ।এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের কড়া নিষেধাজ্ঞাকে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কিউবার জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থার প্রকাশিত তথ্য থেকে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং অর্থনৈতিক চাপের কারণেই পর্যটন খাত বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। এর প্রভাব এখন কিউবার সামগ্রিক অর্থনীতিতেও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।কিউবার জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা ওনেইর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত দেশটিতে ৩ লাখ ৬০ হাজারেরও কম বিদেশি পর্যটক ভ্রমণ করেছেন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা ৫৮ দশমিক ৪ শতাংশ কম।

পর্যটন খাত কিউবার অন্যতম প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎস। দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক সংকটে থাকা দেশটির জন্য এই খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপে খাতটি নতুন করে চাপে পড়েছে। বিশেষ করে, ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার সরকারের ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশলের অংশ হিসেবে দেশটির পর্যটন খাত ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে বলে মনে করা হয়। এর ফলে কয়েকটি বিদেশি বিমান সংস্থা ও আন্তর্জাতিক হোটেল প্রতিষ্ঠান কিউবায় তাদের কার্যক্রম কমিয়ে দিয়েছে বা বন্ধ করেছে। এতে পর্যটকের সংখ্যা আরো কমে গেছে।

চলতি মাসের শুরুতে কানাডার বিমান সংস্থা এয়ার কানাডা ঘোষণা দেয়, তারা অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য কিউবায় ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ রাখবে। প্রতিষ্ঠানটি এই সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে দেশটির চলমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কথা উল্লেখ করেছে। এর আগেও ফেব্রুয়ারি মাসে কিউবায় বিমান জ্বালানির সংকট দেখা দেওয়ায় সাময়িকভাবে ফ্লাইট বন্ধ করেছিল এয়ার কানাডা। এই সিদ্ধান্ত কিউবার পর্যটন খাতের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ চলতি বছর কিউবায় আসা বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল কানাডার নাগরিক।

শুধু বিমান সংস্থাই নয়, আন্তর্জাতিক হোটেল ব্যবসাও কিউবায় সংকুচিত হচ্ছে। স্পেনের বড় দুটি হোটেল চেইন মেলিয়া ও ইবেরোস্টার দেশটির বেশ কয়েকটি হোটেলে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র কিউবার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গায়েসার সঙ্গে ব্যবসা বন্ধ করার জন্য বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৫ জুন পর্যন্ত সময় দিয়েছিল। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই স্প্যানিশ প্রতিষ্ঠান দুটি কিউবায় তাদের কার্যক্রম সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। 

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অভিযোগ করেছেন, গায়েসা কিউবার সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয় এবং এটি ‘রাষ্ট্রের ভেতরে আরেকটি রাষ্ট্র’ হিসেবে কাজ করে। সম্প্রতি দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, গায়েসা তাদের ব্যবসা থেকে পাওয়া অর্থ দেশের সাধারণ মানুষের পরিবর্তে একটি ছোট প্রভাবশালী গোষ্ঠীর স্বার্থে ব্যবহার করে। তার অভিযোগ, যারা এর বিরুদ্ধে কথা বলে, তাদেরও দমন করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এবং তেল সরবরাহে বাধা তৈরি হওয়ায় কিউবার অর্থনৈতিক সংকট আরো গভীর হয়েছে। দেশটিতে জ্বালানি, খাদ্য ও ওষুধের ঘাটতি আগের চেয়ে বেড়েছে। অনেক খাতে উৎপাদন ও সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, কিউবাকে তেল সরবরাহ করে এমন যেকোনো দেশ বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর পর থেকেই পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে বলে কিউবার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে।

কিউবার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কিউবাডিবাতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটের কারণে ক্যানসারে আক্রান্ত শিশুদের বেঁচে থাকার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগে যেখানে এই হার ছিল ৮৫ শতাংশ, এখন তা কমে ৬৫ শতাংশে এসেছে। স্বাস্থ্য খাতের এই অবনতিকে দেশটির চলমান অর্থনৈতিক সংকটের অন্যতম বড় প্রভাব হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জ্বালানির ঘাটতির কারণে কিউবার অর্থনীতির অনেক গুরুত্বপূর্ণ খাত প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থাও রয়েছে। পর্যাপ্ত জ্বালানি না থাকায় নিয়মিত ময়লা অপসারণ করা যাচ্ছে না। ফলে বিভিন্ন শহরের রাস্তায় আবর্জনার স্তূপ জমে যাচ্ছে।

দেশজুড়ে দীর্ঘ সময়ের বিদ্যুৎ বিভ্রাট এখন কিউবার মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। কোথাও কোথাও পরিস্থিতি আরো খারাপ। এ কারণে সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে কিছু বিক্ষোভও দেখা গেছে।

তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, কিউবায় সরকারবিরোধী প্রতিবাদ প্রায়ই কঠোরভাবে দমন করা হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘ কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাব এখন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতেও পড়ছে। বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যাথলিক ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত কমিউনিয়ন ওয়েফারেরও সংকট দেখা দিয়েছে। কয়েকজন ক্যাথলিক পুরোহিত জানিয়েছেন, তাদের ওয়েফার ব্যবহার সীমিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাধারণত ধর্মীয় উপাসনার সময় বিশ্বাসীদের মধ্যে এই বিশেষ ধরনের রুটি বিতরণ করা হয়। ওয়েফারগুলো রাজধানী হাভানার একটি মঠে তৈরি করা হয়। সেখানে থাকা সন্ন্যাসিনীরা জানিয়েছেন, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে উৎপাদন ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক দিন তারা মাত্র দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ পান। ফলে প্রয়োজনীয় পরিমাণ ওয়েফার তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না।

পর্যটকের সংখ্যা কমে যাওয়া, বিদেশি বিনিয়োগ হ্রাস, জ্বালানি সংকট, খাদ্য ও ওষুধের ঘাটতি এবং দীর্ঘ বিদ্যুৎ বিভ্রাট—সব মিলিয়ে কিউবার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়ে উঠছে। পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে দেশটির পর্যটন শিল্পের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

মাটির নিচে মৃত্যুর ফাঁদ, মাইনের হুমকিতে ৫৮ দেশ

অনলাইন ডেস্ক
মাটির নিচে মৃত্যুর ফাঁদ, মাইনের হুমকিতে ৫৮ দেশ
ছবি : সংগৃহীত

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক মঙ্গলবার বলেছেন, বিশ্বের অন্তত ৫৮টি দেশ ও অঞ্চলে অ্যান্টিপারসোনেল মাইনের ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে মায়ানমার, সিরিয়া, আফগানিস্তান ও ইউক্রেনে এসব মাইনের কারণে অনেক বেসামরিক মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন।

তিনি বলেন, অ্যান্টিপারসোনেল মাইন নিষিদ্ধ করার আন্তর্জাতিক চুক্তি গ্রহণের প্রায় ৩০ বছর পরও এসব বিস্ফোরক মানুষকে হত্যা ও আহত করছে। অনেক ক্ষেত্রে মাইন পুঁতে রাখার কয়েক দশক পরেও এগুলো প্রাণহানির কারণ হচ্ছে। তুর্ক আরো বলেন, সব দেশের উচিত এই অস্ত্রের উৎপাদন, ব্যবহার ও হস্তান্তর বন্ধ করা এবং ইতিমধ্যে পুঁতে রাখা মাইন অপসারণের কাজ জোরদার করা।

সরকার, এনজিও, মানবিক সংস্থা ও সুশীল সমাজের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিনি এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। ল্যান্ডমাইন অ্যান্ড ক্লাস্টার মুনিশন মনিটরের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু ২০২৪ সালেই ল্যান্ড মাইন এবং যুদ্ধের বিস্ফোরক ধ্বংসাবশেষের কারণে অন্তত ৯৪৫ জন নিহত এবং চার হাজার ৩২৫ জন আহত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘যেসব হতাহতের সামরিক বা বেসামরিক পরিচয় জানা গেছে, তাদের মধ্যে ২০২৪ সালে নথিভুক্ত মোট হতাহতের প্রায় ৯০ শতাংশই ছিলেন বেসামরিক নাগরিক।’

২০২৪ সালে সর্বোচ্চসংখ্যক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে মায়ানমারে (২০২৯), সিরিয়ায় (১০১৫), এরপর আফগানিস্তানে (৬২৪) এবং তারপরে ইউক্রেন, নাইজেরিয়া, মালি, ইয়েমেন ও বুরকিনা ফাসোতে। যেখানে প্রত্যেকটিতে ২০০-এর বেশি হতাহতের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

একটি পৃথক বিবৃতিতে ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন টু ব্যান ল্যান্ডমাইনস’ বলেছে, ২০২৫ সালে মাইন এবং ক্লাস্টার যুদ্ধাস্ত্রসহ যুদ্ধের বিস্ফোরক ধ্বংসাবশেষের কারণে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ নিহত বা আহত হয়েছে। তাদের অধিকাংশই ছিলেন বেসামরিক নাগরিক।

ভলকার তুর্কের দপ্তর উল্লেখ করেছে, ১৯৯৯ সাল থেকে নথিভুক্ত অ্যান্টিপারসোনেল মাইনের কারণে হওয়া সব বেসামরিক হতাহতের ৪০ শতাংশেরও বেশি শিশু। ভলকার তুর্কের দপ্তর আরো বলেছে, হত্যা ও অঙ্গহানির পাশাপাশি অ্যান্টিপারসোনেল মাইন এলাকাগুলোকে প্রবেশ-নিষিদ্ধ অঞ্চলে পরিণত করে। অ্যান্টিপারসোনেল মাইন মানুষের বিভিন্ন অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত করে, বাস্তুচ্যুত মানুষের নিজ এলাকায় ফিরে যাওয়া বিলম্বিত করে এবং কৃষিজমি চাষাবাদের অনুপযোগী করে তোলে।

অটোয়া মাইন নিষিদ্ধকরণ কনভেনশনের সদস্য রাষ্ট্রের সংখ্যা ১৬২ হলেও, বিপুলপরিমাণ মাইন মজুদ থাকা বেশ কিছু দেশ এখনো এই চুক্তিতে যোগ দেয়নি বলে উল্লেখ করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক।

সম্প্রতি এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া এবং পোল্যান্ড এই চুক্তি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করেছে। অন্যদিকে ইউক্রেন চুক্তিটির বাস্তবায়ন স্থগিত রেখেছে। তুর্ক বলেন, যেসব দেশ এখনো চুক্তিটি অনুমোদন করেনি, তাদের দ্রুত তা করা উচিত। আর যেসব দেশ চুক্তি থেকে সরে গেছে, তাদের আবার এতে যোগ দেওয়া উচিত।

ভিয়েতনামে বিড়াল চোর চক্র আটক, উদ্ধার ৪০০টিরও বেশি বিড়াল

অনলাইন ডেস্ক
ভিয়েতনামে বিড়াল চোর চক্র আটক, উদ্ধার ৪০০টিরও বেশি বিড়াল
সংগৃহীত ছবি

ভিয়েতনামে একটি সংঘবদ্ধ বিড়াল চোর চক্রের সন্ধান পেয়েছে দেশটির পুলিশ। জবাই করার উদ্দেশ্যে খাঁচায় আটকে রাখা 
৪০০টিরও বেশি জীবিত বিড়াল উদ্ধারের পাশাপাশি এই চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে হো চি মিন সিটি পুলিশ। একই সঙ্গে বরফে সংরক্ষিত প্রায় ৮০টি মৃত প্রাণী জব্দ করা হয়। একটি পৃথক কেন্দ্র থেকে আরো ২১টি বিড়াল জব্দ করা হয়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যম ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দক্ষিণ ভিয়েতনামের তাই নিন প্রদেশ ও হো চি মিন সিটির বেশ কয়েকটি গোপন আস্তানায় একযোগে অভিযান চালিয়ে এই চক্রটিকে শনাক্ত করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছে যে তারা গত তিন বছর ধরে স্থানীয় বাসিন্দাদের পোষা বিড়াল ফাঁদ পেতে চুরি করে আসছিল। প্রতি দুই-তিন দিন পর পর এই চুরি করা বিড়ালগুলো মাংস ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হতো।

আন্তর্জাতিক প্রাণী কল্যাণ সংস্থা হিউম্যান ওয়ার্ল্ড ফর এনিম্যালস এক বিবৃতিতে জানায়, উদ্ধার হওয়া বিড়ালের মধ্যে ৪০টিকে ইতিমধ্যে তাদের প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি আরো জানায়, দীর্ঘদিনের অবহেলা ও দুর্ভোগের কারণে উদ্ধার করার পরও বেশ কিছু বিড়াল মারা গেছে। 

ভিয়েতনামের আইন অনুযায়ী কুকুর ও বিড়ালের মাংস খাওয়া বৈধ হলেও, বিক্রেতাদের কাছে পশুগুলোর বৈধ উৎস ও অনুমতিপত্র থাকা বাধ্যতামূলক। প্রাণী কল্যাণ সংস্থাটির তথ্য মতে, ভিয়েতনামে প্রতিবছর প্রায় ১০ লাখ বিড়াল এবং ৫০ লাখ কুকুর মাংসের জন্য চুরি ও পাচার করা হয়। তবে দেশটির তরুণ প্রজন্ম এবং পোষ্য মালিকদের মধ্যে এখন এই ব্যবসার বিরুদ্ধে তীব্র জনমত গড়ে উঠছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত এখনো চলছে। যেসব বাসিন্দার পোষা বিড়াল সম্প্রতি হারিয়ে গেছে, তাদের উদ্ধারকৃত পশুদের শনাক্ত করতে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।