• ই-পেপার

নাইজেরিয়ায় এক বছরে ১৩ হাজার সন্ত্রাসী নিহত

দক্ষিণ লেবাননে শান্তিরক্ষী নিহত, নিন্দা জাতিসংঘের

অনলাইন ডেস্ক
দক্ষিণ লেবাননে শান্তিরক্ষী নিহত, নিন্দা জাতিসংঘের
সংগৃহীত ছবি

লেবাননে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনরত এক সার্বিয়ান শান্তিরক্ষী নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। ঘটনার নিন্দা জানিয়ে পরিষদের ১৫ সদস্য একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চার জুন লেবাননে দায়িত্ব পালনকালে একটি মর্টারের গোলা ওই শান্তিরক্ষীর অবস্থানে আঘাত হানে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, একই হামলায় আরো দুইজন শান্তিরক্ষী আহত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসা চলছে।

নিহত শান্তিরক্ষী জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী বাহিনী ইউনিফিলের সদস্য ছিলেন। নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আহত শান্তিরক্ষীদের দ্রুত ও সম্পূর্ণ সুস্থতা কামনা করেছেন।

তবে হামলার জন্য কারা দায়ী, সে বিষয়ে বিবৃতিতে কোনো পক্ষের নাম উল্লেখ করা হয়নি। পরিবর্তে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও দ্রুত তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে নিরাপত্তা পরিষদ। পরিষদের সদস্যরা বলেছেন, এই হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দ্রুত জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের খুঁজে বের করতে জাতিসংঘকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত জাতিসংঘের সব শান্তিরক্ষীর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদ বলেছে, বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ এলাকায় নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে শান্তিরক্ষীরা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

এ ছাড়া ইউনিফিল মিশনে সেনা ও অন্যান্য সদস্য পাঠানো দেশগুলোর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে নিরাপত্তা পরিষদ। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় এসব দেশের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনী এখনো সক্রিয় এবং সতর্ক অবস্থানে: সেন্টকম

অনলাইন ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনী এখনো সক্রিয় এবং সতর্ক অবস্থানে: সেন্টকম
ছবি: রয়টার্স

মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি অব্যাহত রাখার বার্তা দিতে একটি নতুন ছবি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।

প্রকাশিত ছবিতে একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমানকে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে টহল দিতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে সেন্টকম। ছবির সঙ্গে দেওয়া সংক্ষিপ্ত এক বার্তায় সংস্থাটি বলেছে, এই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতি এখনো বহাল রয়েছে এবং তারা সব ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক অবস্থানে আছে। সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে মার্কিন বাহিনী পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে সেন্টকম দাবি করেছে, গত কয়েক ঘণ্টায় ইরান থেকে ছোড়া কয়েকটি একমুখী হামলা ড্রোন ভূপাতিত করেছে মার্কিন বাহিনী। এসব ড্রোনকে আকাশেই শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সেন্টকম।

বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই সেন্টকম বলেছে, হরমুজ প্রণালি এখনো আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। তাদের দাবি, বাণিজ্যিক জাহাজগুলো স্বাভাবিকভাবে এই পথ ব্যবহার করতে পারছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কার্যক্রমও অব্যাহত আছে। 

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই বক্তব্যকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
 

হামলার মুখে নয়, আলোচনায় এগিয়েছে চুক্তি: ইরান

অনলাইন ডেস্ক
হামলার মুখে নয়, আলোচনায় এগিয়েছে চুক্তি: ইরান
সংগৃহীত ছবি

ইরানের কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে যে সাম্প্রতিক কয়েক দিনের সামরিক চাপের কারণেই তেহরান শেষ পর্যন্ত চুক্তিতে সম্মত হয়েছে।

ইরানের দাবি, চুক্তিটি নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। তাদের মতে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কয়েক সপ্তাহ আগেই এ বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল এবং তখনই চুক্তির একটি খসড়া নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রাথমিক সমঝোতা তৈরি হয়।

ইরানের কর্মকর্তারা বলেন, দেশটি ওই খসড়া চুক্তিতে সম্মতিও দিয়েছিল। তবে পরে যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে আরো কিছু পরিবর্তনের প্রস্তাব দেয়। নতুন এসব শর্ত ও সংশোধনী নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করতে হয়েছে বিধায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সময় বেশি লেগেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনা দীর্ঘায়িত হওয়ার মূল কারণ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রস্তাবগুলো। এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে এবং সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যায়ন করতে ইরানের সময় প্রয়োজন হয়। ফলে পুরো প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়।

ইরানের নেতারা মনে করেন, এই আলোচনা ও সম্ভাব্য চুক্তি থেকে দেশটি উল্লেখযোগ্য কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে। তাদের মতে, এর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণের অবস্থান বজায় থাকবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা প্রত্যাহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদও মুক্ত করার পথ খুলে যেতে পারে।

এ ছাড়া, চলমান আলোচনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা সামরিক সক্ষমতা নিয়ে কোনো আলোচনা হচ্ছে না বলেও দাবি করেছেন দেশটির কর্মকর্তারা। তাদের মতে, এটি ইরানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।

ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিশ্বাস, বর্তমান সংঘাত এবং সম্ভাব্য চুক্তির পর দেশটি আগের তুলনায় আরো শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে। তাদের ধারণা, এই প্রক্রিয়া শেষ হলে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইরানের অবস্থান আরও সুবিধাজনক হবে এবং ভবিষ্যৎ আলোচনায় দেশটি তুলনামূলক শক্তিশালী অবস্থান থেকে অংশ নিতে পারবে।


 

ট্রাম্প-বিরোধী বিক্ষোভ মামলার প্রসিকিউটরের ৬ মাসের স্থগিতাদেশের সুপারিশ

অনলাইন ডেস্ক
ট্রাম্প-বিরোধী বিক্ষোভ মামলার প্রসিকিউটরের ৬ মাসের স্থগিতাদেশের সুপারিশ
২০১৭ সালে ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানে পুলিশের স্টান গ্রেনেড বিস্ফোরণে বিক্ষোভকারী ও সাংবাদিকরা ছোটাছুটি শুরু করেন। ছবি : রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফেডারেল প্রসিকিউটর জেনিফার কার্কহফ মুইসকেনসকে ৬ মাসের জন্য আইন পেশা থেকে বরখাস্ত করার সুপারিশ করেছে ওয়াশিংটনের ডিসি বোর্ড অন প্রফেশনাল রেসপন্সিবিলিটি। ২০১৭ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম অভিষেক অনুষ্ঠানের সময় বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে মামলায় তিনি ইচ্ছেকৃতভাবে সম্পাদিত (এডিটেড) বা কাটছাঁট করা ভিডিও প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন—এমন অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সুপারিশ করা হয়েছে।

এর আগে ডিসি বোর্ডের একটি কমিটি মুইসকেনসকে তিন মাসের জন্য স্থগিতাদেশ দেওয়ার প্রস্তাব করেছিল। তবে বোর্ডের ১০৫ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত সুপারিশে বলা হয়েছে, আগের শাস্তিটি অত্যন্ত নমনীয় ছিল। মুইসকেনসের আচরণকে ‘জঘন্য, ইচ্ছাকৃত ও ধারাবাহিক’ আখ্যা দিয়ে শাস্তি বাড়িয়ে ৬ মাস করার সুপারিশ করা হয়। এখন মামলাটি ডিসি আপিল আদালতে যাবে, যা আইনজীবীদের শাস্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারি ট্রাম্পের অভিষেকের সময় ওয়াশিংটনে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। বিক্ষোভকারীরা ভাঙচুর ও পুলিশের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হলে ২০০ জনেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়। মুইসকেনস ছিলেন এই মামলার প্রধান প্রসিকিউটর। মুইসকেনসের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ‘প্রজেক্ট ভেরিটাস’ (একটি রক্ষণশীল গোষ্ঠী) এর তৈরি করা গোপন ভিডিওর এমন কিছু অংশ কেটে বাদ দিয়েছিলেন, যেখানে দেখা যাচ্ছিল বিক্ষোভকারীরা একে অপরকে শান্ত থাকতে এবং অহিংস আন্দোলন করতে অনুরোধ করছে। এই অংশগুলো বাদ দেওয়ার ফলে আদালতকে বোঝানো সহজ হয়েছিল যে বিক্ষোভকারীরা পরিকল্পিতভাবে দাঙ্গা করতে চেয়েছিল।

বোর্ড জানিয়েছে, মুইসকেনস নির্দোষ প্রমাণ করার মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করার জন্য পরিকল্পিত এবং অসদুপায় অবলম্বন করেছিলেন। এই ঘটনার পর ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের দিকে ২০ জন বিক্ষোভকারী নিজেদের দোষ স্বীকার করেন, ৬ জন খালাস পান এবং প্রায় ১০০ জনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেয় ফেডারেল প্রসিকিউটররা।

অন্যদিকে, মুইসকেনস শুরু থেকেই কোনো ধরনের অন্যায় করার কথা অস্বীকার করে আসছেন। গত বছর তিনি দাবি করেছিলেন যে তিনি কোনো মিথ্যাচার বা ইচ্ছাকৃত অসদাচরণ করেননি। তবে এই শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগের কারণে তিনি উটাহ-এর ফেডারেল প্রসিকিউটরের পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং বর্তমানে আইন পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। তার আইনজীবী বা ডিসি বারের প্রধান শৃঙ্খলা পরামর্শ কার্যালয় এ বিষয়ে নতুন করে কোনো মন্তব্য করেনি।

সূত্র : রয়টার্স