• ই-পেপার

বেলফাস্টে ঘরবন্দি ৫ হাজার বাংলাদেশি

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানে অপরাধী চক্রের নেতা নিহত, দাবি ট্রাম্পের

অনলাইন ডেস্ক
ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানে অপরাধী চক্রের নেতা নিহত, দাবি ট্রাম্পের

মার্কিন সামরিক বাহিনী বিমান হামলায় ভেনেজুয়েলার গ্যাং ‘ট্রেন দে আরাগুয়া’র নেতা নিহত হয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ঘোষণা দিয়েছেন। 

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, তার নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী একটি বিশেষ হামলা চালিয়ে নিনো গেরেরোকে হত্যা করেছে। নিনো গেরেরোর আসল নাম হেক্টর রাস্টেনফোর্ড গেরেরো ফ্লোরেস।

তিনি দীর্ঘদিন ধরে ‘ট্রেন দে আরাগুয়া’ নামে পরিচিত একটি অপরাধী চক্রের নেতা ছিলেন। এই গ্যাংটি লাতিন আমেরিকার অন্যতম কুখ্যাত অপরাধী সংগঠন হিসেবে পরিচিত। ট্রাম্পের অভিযোগ, এই গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রম চালাচ্ছিল।

তার প্রশাসন ‘ট্রেন দে আরাগুয়া’কে ইসলামিক স্টেটের মতো একটি বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে। ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিওও শেয়ার করেছেন। ভিডিওতে দেখা যায়, একটি সবুজ রঙের ভবন ও তার পাশের একটি ছোট স্থাপনা বিস্ফোরণে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

ট্রাম্প আরো বলেছেন, এই সামরিক অভিযান ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিচালনা করা হয়েছে। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা এ বিষয়ে খুব ভালোভাবে একসঙ্গে কাজ করেছে।

জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী এক বিশেষ অভিযানে তৎকালীন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তার বাসভবন থেকে আটক করে। পরে তাকে নিউ ইয়র্কে নেওয়া হয়, যেখানে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তিনি ‘ট্রেন দে আরাগুয়া’ গ্যাংয়ের সঙ্গে মিলে আমেরিকার বিরুদ্ধে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ‘ট্রেন দে আরাগুয়া’ প্রথমে একটি কারাগারভিত্তিক গ্যাং ছিল। এর নেতা নিনো গেরেরো এটিকে পরে একটি আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রে পরিণত করেন। তাকে গ্রেপ্তারে সহায়ক তথ্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্র লাখ লাখ ডলার পুরস্কারও ঘোষণা করেছিল।

গেরেরোর নেতৃত্বে গ্যাংটি তাদের কার্যক্রম কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, পেরু এবং চিলিতে ছড়িয়ে যায়। তাদের বিরুদ্ধে অভিবাসীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি, যৌন পাচার, ভাড়ায় খুন এবং অপহরণের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

গেরেরো বছরের পর বছর জেল খেটেছেন। ২০১২ সালে তিনি একজন প্রহরীকে ঘুষ দিয়ে পালিয়ে যান এবং ২০১৩ সালে পুনরায় গ্রেপ্তার হন। ফিরে এসে তিনি উত্তর ভেনেজুয়েলার আরাগুয়া রাজ্যের টোকোরোন কারাগারকে একটি বিনোদনকেন্দ্রে রূপান্তরিত করেন, যেখানে চিড়িয়াখানা, রেস্তোরাঁ, নাইটক্লাব, বেটিং শপ এবং সুইমিংপুল ছিল।

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মাদুরো কারাগারটির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করতে এবং তা দখল করতে ১১ হাজার সৈন্য পাঠান। গেরেরো আবারও পালিয়ে যান।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মতে, জেলের ভেতরে-বাইরে থাকা সত্ত্বেও তিনি তার গ্যাংয়ের প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হন এবং বলিভার রাজ্যের সোনার খনি, ক্যারিবিয়ান উপকূলের মাদক করিডর এবং ভেনেজুয়েলা ও কলম্বিয়ার মধ্যে গোপন সীমান্ত পারাপারের পথগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেন।

বেশির ভাগ বিবরণ অনুসারে, ২০১৪ সালে ভেনেজুয়েলা যখন মানবিক ও অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থার সম্মুখীন হয়, তখন অপরাধ কম লাভজনক হয়ে পড়লে ট্রেন দে আরাগুয়া দেশটির বাইরে ছড়িয়ে পড়ে এবং এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ আরো আটটি দেশে এর শাখা-প্রশাখা রয়েছে বলে মনে করা হয়।

‘ট্রেন দে আরাগুয়া’ বিভিন্ন দেশে তাদের কার্যক্রম চালানোর জন্য স্থানীয় অপরাধী চক্রগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা করে বলে অভিযোগ রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে, ইকুয়েডরে গ্যাংটি সিনালোয়া কার্টেলের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা কিছু গোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ করে বলে মনে করা হয়। আবার কলম্বিয়াতে তাদের সদস্যরা ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (ইএলএন) নামের একটি সশস্ত্র গেরিলা সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে কাজ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী সমুদ্রে কয়েক ডজন নৌকার ওপর অভিযান চালায়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব নৌকা বড় আকারে মাদক পাচারের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল। তাদের মতে, এসবের মধ্যে কিছু নৌকার সঙ্গে ‘ট্রেন দে আরাগুয়ারও সম্পর্ক ছিল।

সিডনির সৈকতে হাঙরের হামলা, গুরুতর আহত নারী সাঁতারু

অনলাইন ডেস্ক
সিডনির সৈকতে হাঙরের হামলা, গুরুতর আহত নারী সাঁতারু
ছবি: রয়টার্স

অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে একের পর এক হাঙরের হামলার ঘটনার মধ্যেই এবার সিডনির একটি জনপ্রিয় সৈকতে হাঙরের আক্রমণের শিকার হয়েছেন এক নারী সাঁতারু। শনিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম শহর সিডনির পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত কুজি বিচে জরুরি সেবাকর্মীদের ডাকা হয়। খবর পাওয়া যায়, ৩০ বছর বয়সী এক নারী সাঁতার কাটার সময় হাঙরের কামড়ে আহত হয়েছেন। পুলিশ জানায়, ঘটনাটি ঘটার পর সৈকতে উপস্থিত সাধারণ মানুষ দ্রুত তাকে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করেন। এরপর তারা জরুরি সেবাকর্মীরা পৌঁছানোর আগেই প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে শুরু করেন।

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ওই নারীর হাত ও পায়ে গুরুতর আঘাত লেগেছে। পরে তাকে দ্রুত হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার চিকিৎসা চলছে। হাঙরের হামলার ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে কুজি বিচসহ আশপাশের আরো দুটি সৈকত সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

সাম্প্রতিক সময়ে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন উপকূলে একাধিক হাঙরের হামলার ঘটনা ঘটেছে। মাত্র এক সপ্তাহ আগে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া অঙ্গরাজ্যের উপকূলে মাছ ধরার সময় হাঙরের আক্রমণে এক ব্যক্তি নিহত হন। এর আগে গত মাসে কুইন্সল্যান্ডের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ এলাকায় মাছ ধরার সময় ৩৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তি হাঙরের হামলায় প্রাণ হারান।  এ ছাড়া তারও ১০ দিন আগে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার পার্থ শহরের কাছে একটি দ্বীপের বাইরে ৩৮ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তি হাঙরের আক্রমণে নিহত হন।

চলতি বছরের জানুয়ারিতেও হাঙরের হামলার কারণে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়। মাত্র দুই দিনের মধ্যে চারটি পৃথক হামলার ঘটনার পর সিডনিসহ অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূলের কয়েক ডজন সৈকত বন্ধ করে দিতে হয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর আগে হওয়া ভারী বৃষ্টির কারণে সমুদ্রের পানি ঘোলা হয়ে যায়। এতে হাঙর তীরের কাছাকাছি চলে আসতে পারে। একই সঙ্গে ঘোলা পানিতে হাঙরকে শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়ে, ফলে ঝুঁকি বেড়ে যায়।

অস্ট্রেলিয়ান ইনস্টিটিউট অব হেলথ অ্যান্ড ওয়েলফেয়ারের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বেশির ভাগ হাঙরের হামলার ঘটনা পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে ঘটে। প্রতিবছর গড়ে প্রায় ২০টি হাঙরের হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হয়।

জাপানে বাবাকে নির্দোষ প্রমাণে সন্তানের ৪ দশকের লড়াই

অনলাইন ডেস্ক
জাপানে বাবাকে নির্দোষ প্রমাণে সন্তানের ৪ দশকের লড়াই
কোজি সাকাহারা তার পিতা হিরোমু সাকাহারার একটি ছবি সহ।

দীর্ঘ চার দশক আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে মরণোত্তর পুনর্বিচারের (পুনরায় বিচার) অনুমতি পেয়েছেন জাপানের হিরোমু সাকাহারা। ১৯৮৪ সালে একটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করা সাকাহারা ২০১১ সালে কারাগারেই মারা যান। মৃত্যুর ১৫ বছর পর আদালত মামলাটি পুনর্বিচারের অনুমতি দিলেও, নিজের মুক্তি ও ন্যায়ের জয় দেখে যাওয়ার জন্য সাকাহারা আজ বেঁচে নেই। আদালতের এই রায় আসার পর তার পরিবারের সদস্যরা আনন্দের বদলে অশ্রুসিক্ত চোখে তার কবরের পাশে জড়ো হন।

১৯৮৪ সালে জাপানের হিনো নামক একটি শহরের মদের দোকান ব্যবস্থাপককে হত্যা ও ডাকাতির অভিযোগে সাকাহারাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সাকাহারার ছেলে কোজি সাকাহারা (৬৪) জানান, পুলিশ তার বাবাকে মারধর, লাথি ও পরিবারের ক্ষতি করার হুমকি দিয়ে জোর করে অপরাধের স্বীকারোক্তি আদায় করেছিল। যদিও আদালতে সাকাহারা নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছিলেন, তাও পুলিশের রিপোর্টের ভিত্তিতে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২৪ বছর কারাগারে বন্দি থাকার পর ২০১১ সালে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান।

সাকাহারার মৃত্যুর পরও তার পরিবার লড়াই থামায়নি। দীর্ঘ বছর ধরে সমাজ তাদের ‘খুনির পরিবার’ হিসেবে দেখত এবং তার মাকে ফোনে ‘খুনি’ বলে গালিগালাজও করা হতো। অবশেষে, পুলিশের একটি পুরনো নেগেটিভ ফিল্মের প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে আইনজীবীরা প্রমাণ করতে সক্ষম হন যে, পুলিশ নিজেই সাকাহারাকে মৃতদেহের অবস্থান দেখিয়ে দিয়েছিল। এর ওপর ভিত্তি করেই আদালত এখন মরণোত্তর পুনর্বিচারের ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে। যুদ্ধ-পরবর্তী জাপানের ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় মরণোত্তর বিচারের ঘটনা।

জাপানের আইনি ব্যবস্থায় ৯৯ শতাংশেরও বেশি মামলায় আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়। সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে আইনজীবীর উপস্থিতি ছাড়াই সন্দেহভাজনদের আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, যাকে জাপানে ‘জিম্মি বিচার’ বলা হয়। সাকাহারার এই ঘটনাটি জাপানের বিচার ব্যবস্থায় সংস্কারের জন্য একটি নতুন বিল পাসের গতি বাড়িয়েছে। নতুন এই বিল অনুযায়ী, প্রসিকিউটররা চাইলেই পুনর্বিচারের রায়ের বিরুদ্ধে বারবার আপিল করে মামলা দীর্ঘায়িত করতে পারবেন না।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এই সংস্কার বিলটিকে সমর্থন করে বলেছেন, ‘নিরপরাধ ব্যক্তিদের শাস্তি দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যদি ভুল রায়ে কেউ দোষী সাব্যস্ত হন, তবে তাকে অবিলম্বে নির্দোষ প্রমাণ করার সুযোগ দিতে হবে।’ দেশটির বিচার মন্ত্রণালয় অবশ্য এই পরিবর্তনের বিরোধিতা করছে। তাদের দাবি, আপিলের সুযোগ সীমিত করলে তা প্রমাণ সংগ্রহের কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে। টোকিওর মেইজি বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাপানে ভুল রায় সংশোধনে কয়েক দশক লেগে যায়, যা আসামির পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়। প্রসিকিউটরদের এই ‘যেকোনো মূল্যে জিততেই হবে’ মানসিকতা পরিহার করা উচিত।

বাবার মৃত্যুর পর তার ছেলে কোজি সাকাহারা আক্ষেপ করে বলেন, ‘বাবা বেঁচে থাকাকালীন যদি এই রায় আসত, তবে তিনি হয়তো আজও আমাদের মাঝে বেঁচে থাকতেন। জাপানের আইনি ব্যবস্থা দ্রুত বদলানো উচিত, যেন আর কোনো পরিবারকে এমন দুর্ভোগ পোহাতে না হয়।’

সূত্র : সিএনএন

দক্ষিণ লেবাননে শান্তিরক্ষী নিহত, নিন্দা জাতিসংঘের

অনলাইন ডেস্ক
দক্ষিণ লেবাননে শান্তিরক্ষী নিহত, নিন্দা জাতিসংঘের
সংগৃহীত ছবি

লেবাননে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনরত এক সার্বিয়ান শান্তিরক্ষী নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। ঘটনার নিন্দা জানিয়ে পরিষদের ১৫ সদস্য একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চার জুন লেবাননে দায়িত্ব পালনকালে একটি মর্টারের গোলা ওই শান্তিরক্ষীর অবস্থানে আঘাত হানে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, একই হামলায় আরো দুইজন শান্তিরক্ষী আহত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসা চলছে।

নিহত শান্তিরক্ষী জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী বাহিনী ইউনিফিলের সদস্য ছিলেন। নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আহত শান্তিরক্ষীদের দ্রুত ও সম্পূর্ণ সুস্থতা কামনা করেছেন।

তবে হামলার জন্য কারা দায়ী, সে বিষয়ে বিবৃতিতে কোনো পক্ষের নাম উল্লেখ করা হয়নি। পরিবর্তে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও দ্রুত তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে নিরাপত্তা পরিষদ। পরিষদের সদস্যরা বলেছেন, এই হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দ্রুত জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের খুঁজে বের করতে জাতিসংঘকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত জাতিসংঘের সব শান্তিরক্ষীর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদ বলেছে, বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ এলাকায় নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে শান্তিরক্ষীরা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

এ ছাড়া ইউনিফিল মিশনে সেনা ও অন্যান্য সদস্য পাঠানো দেশগুলোর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে নিরাপত্তা পরিষদ। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় এসব দেশের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।