• ই-পেপার

বিশ্বকাপ ম্যাচের আগে দক্ষিণ কোরিয়ার ক্যাম্পে ভূপাতিত করা হলো ড্রোন

বিরতিতে কোচের প্রেরণাদায়ক বক্তব্য বদলে দিয়েছে ইংল্যান্ডকে—কেইন

ক্রীড়া ডেস্ক
বিরতিতে কোচের প্রেরণাদায়ক বক্তব্য বদলে দিয়েছে ইংল্যান্ডকে—কেইন
ছবি : এপি

দুর্দান্ত জয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল শিরোপা জয়ের দাবিদার ইংল্যান্ড ফুটবল দল। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রথমার্ধে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয় ‘থ্রি লায়ন্স’দের। কোচ টমাস টুখেলের হাফ-টাইমের প্রেরণাদায়ক বক্তব্যের প্রশংসা করেছেন অধিনায়ক হ্যারি কেইন।

টেক্সাসে অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথমার্ধে কেইন দুটি গোল করেন। যার মধ্যে একটি ছিল পেনাল্টি থেকে নেওয়া। কিন্তু ২০১৮ সালের রানার্সআপ ক্রোয়েশিয়া লড়াইয়ে ফিরে এসে বিরতি আগেই ২-২ গোলে সমতা ফেরে। 

তবে প্রথমার্ধের এলোমেলো ইংল্যান্ডে বদলে যায় দ্বিতীয়ার্ধে। বিরতির পর কিভাবে দল এগিয়ে গেল, এমন প্রশ্নের জবাবে কেইন বলেন, ‘সত্যি বলতে, কোচ দারুণ একটি প্রেরণাদায়ক বক্তব্য  দিয়েছেন। যা দলটির ‘নার্ভাস’ বা জড়তা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করেছে। বিশেষ করে যেভাবে আমরা প্রথমার্ধের ঠিক শেষ সময়ে দ্বিতীয় গোল খেলাম।’

ড্রেসিংরুমে টুখেল খেলোয়াড়দের শান্ত হতে বলেন এবং মনের ভয় ঝেড়ে ফেলার তাগিদ দেন বলে যোগ করেন তিনি। 

কেইন জানিয়েছেন, কোচ পরিষ্কার বার্তা দিয়েছিলেন, যদি আমাদের হারতেই হয়, তবে আমরা আমাদের নিজেদের স্বাভাবিক স্টাইলে খেলেই হারব। ভয় পাওয়ার কী আছে, বিশ্বকে দেখাও আমরা কী করতে পারি।

এই বার্তার পর সম্পূর্ণ ভিন্ন এক আক্রমণাত্মক মেজাজে মাঠে নামে থ্রি লায়ন্সরা। জুড বেলিংহামের দুর্দান্ত এক গোল দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর বদলি খেলোয়াড় মার্কাস রাশফোর্ড গোল করে ৪-২ ব্যবধানে দলের বড় জয় নিশ্চিত করেন ইংলিশরা।

ফিফার দ্বৈত নীতির তীব্র নিন্দা দক্ষিণ আফ্রিকার

ক্রীড়া ডেস্ক
ফিফার দ্বৈত নীতির তীব্র নিন্দা দক্ষিণ আফ্রিকার
সংগৃহীত ছবি

বিশ্বকাপ শুরু থেকেই বিতর্ক পিছু নিয়েছে ফিফার। ভিসা ইস্যু, রেফারিকে ঢুকতে না দেওয়া এবং অভিবাসন কঠোর নীতির বেড়াজালে মলিন হচ্ছিল বৈশ্বিক এই আসর। গ্রুপ পর্বে সব দলই নিজ নিজ নিজ ম্যাচে মাঠে নেমেছে। এরই মধ্যে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বৈত নীতির অভিযোগ উঠেছে। লাল কার্ডের খড়গে দক্ষিণ আফ্রিকা মিডফিল্ডার থেম্বা জোয়ানকে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ফিফা। এতেই বেজায় চটেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হুগো ব্রুস।

এর বিপরীতে গেল মঙ্গলবার আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলের উদ্বোধনী জয়ের ম্যাচে আইসা মান্দির পায়ের পেছনে লাথি মারার জন্য মেসি কোনো ধরনের শাস্তি থেকে রেহাই পেয়েছেন। এতে রেফারিংয়ে দ্বৈত নীতি নিয়ে আক্ষেপ করেছেন ব্রুস।  
 
তাতেই অভিজ্ঞ মিডফিল্ডারের নিষেধাজ্ঞায় ক্ষোভে আলজেরিয়ার ম্যাচে আর্জেন্টিনার মহাতারকা লিওনেল মেসির আলোচিত ফাউলের বিষয়টি তুলে আনেন বাফনার এই কোচ। 

গেল বুধবার সংবাদ সম্মেলনে কোচ হুগো বলেন, ‘আর্জেন্টিনার মহাতারকা লিওনেল মেসি জন্য  ভিএআরে নিয়ম এক, আর থেম্বা জোয়ানের জন্য আরেক নিয়ম কেন?’ । 

‘আমি চাই না মেসি লাল কার্ড পাক, ওর মতো একজন খেলোয়াড়কে মাঠে থাকতেই হবে, আমরা সবাই দেখেছি ও কতটা অসাধারণ খেলোয়াড়, কিন্তু তাতে কী আসে যায়?’ বলে প্রশ্নও তুলেন তিনি।

থেম্বার লাল কার্ডটা খুব কঠোর সিদ্ধান্ত ছিল উল্লেখ করে কোচ বলেন, থেম্বার করা ফাউলটা আমরা আবার দেখেছি, এতে আমার মনে হয় না ওটা লাল কার্ড দেওয়ার মত কঠিন ফাউল ছিল।’

জোয়ানেকে দেওয়া লাল কার্ড এবং তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিল করবে দল যোগ করেন ব্রুস।

ট্রাম্পের ফোন কল ও বডিগার্ড নিয়ে ‘ভীত’ যুক্তরাষ্ট্র কোচ যা বললেন

ক্রীড়া ডেস্ক
ট্রাম্পের ফোন কল ও বডিগার্ড নিয়ে ‘ভীত’ যুক্তরাষ্ট্র কোচ যা বললেন
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হওয়ার আগে বেশ ফুরফুরে মেজাজে আছেন যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল দলের (ইউএসএমএনটি) আর্জেন্টাইন মাস্টারমাইন্ড মাউরিসিও পচেত্তিনো। সম্প্রতি ‘এল পার্তিদাসো দে কোপে’-কে দেওয়া এক খোলামেলা সাক্ষাৎকারে নিজের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোন কল এবং মাঠের ফুটবল নিয়ে মন খুলে কথা বলেছেন সাবেক এই পিএসজি ও চেলসি বস।

সাক্ষাৎকারে রসিকতার সুরে নিজের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর কথা উল্লেখ করেন পচেত্তিনো। জানান, ‘জেরি’ নামের এক চমৎকার বডিগার্ড আছেন তার। আকারে খুব বড় না হলেও জেরির মুখোমুখি হওয়ার সাহস কেউ দেখাবে না! এ ছাড়া আরো দুজন বিশালদেহী নিরাপত্তারক্ষী সবসময় ছায়ার মতো তার পেছনে থাকেন। 

আমেরিকার কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে একটি মজার গল্পও শেয়ার করেন তিনি। একদিন স্ত্রীকে নিয়ে সৈকতে একটু একান্ত সময় কাটাতে গিয়ে নিরাপত্তা এড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন পচেত্তিনো। কিন্তু সেখানে উপচে পড়া ভিড় দেখে শেষমেশ নিজের স্টাফকে ফোন করে বডিগার্ড পাঠাতে অনুরোধ করেন! আর্জেন্টাইন এই কোচ অকপটে স্বীকার করেন, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এখানে নিরাপত্তা সত্যিই বেশ কঠোর ও জরুরি।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে পাওয়া বহুল আলোচিত সেই ফোন কলটি নিয়েও মুখ খুলেছেন পচেত্তিনো। পচেত্তিনো জানান, নিজের ইংরেজি দক্ষতার কারণে ট্রাম্পের বার্তা পুরোপুরি বুঝতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তিনি কিছুটা ভয়েই ছিলেন! আর এ কারণে ফোন ধরার সময় নিজের স্টাফদেরও পাশে রেখেছিলেন সাহায্য করার জন্য। তবে ট্রাম্প খুবই সদয় ছিলেন এবং সব খেলোয়াড়কে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। পচেত্তিনোর আশা, যুক্তরাষ্ট্র যদি টুর্নামেন্টের পরের ধাপগুলোতে যেতে পারে, তবে ব্যস্ত প্রেসিডেন্টকে হয়তো গ্যালারিতেই পাশে পাবেন তারা।

প্রথম ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ৪-১ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে দুর্দান্ত শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দলের বর্তমান মানসিক অবস্থা নিয়ে বেশ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন কোচ। তিনি বলেন, ‘দলের সবাই খুব ভালো মানসিক অবস্থায় আছেন এবং স্কোয়াডের মধ্যে দারুণ এক ইতিবাচক শক্তি কাজ করছে। কোনো ধরনের স্নায়ুচাপ বা ভবিষ্যতের পরিণতি নিয়ে না ভেবে ছেলেরা শুধু খেলাটা উপভোগ করছে।’

তবে এটি কেবল একটি ম্যাচের জয়, তাই সামনেও এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। প্যারাগুয়ে ম্যাচটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি মানুষ সরাসরি দেখেছেন উল্লেখ করে পচেত্তিনো বলেন, আমেরিকার সমর্থকরা যদি একবার পুরোপুরি ফুটবলপ্রেমী হয়ে ওঠেন, তবে ভবিষ্যতে এই দেশটি বিশ্ব ফুটবলের পরাশক্তিতে পরিণত হবে।

বিশ্বকাপের অন্যান্য পরাশক্তি ও লিওনেল মেসিকে নিয়ে নিজের মুগ্ধতা লুকাতে পারেননি এই আর্জেন্টাইন। মেসিকে ‘অন্য গ্রহের ফুটবলার’ আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, আর্জেন্টিনার এই মহাতারকাকে বর্ণনা করার মতো কোনো বিশেষণই যথেষ্ট নয়। পচেত্তিনোর চোখে, এবারও টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় ফেভারিট দল আর্জেন্টিনা। 

মেসি কি এবারও ব্যালন ডি’অর পাবেন?

ক্রীড়া ডেস্ক
মেসি কি এবারও ব্যালন ডি’অর পাবেন?
লিওনেল মেসি। ছবি : রয়টার্স

ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর। আর এই পুরস্কারের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি যার নাম জড়িয়ে আছে, তিনি লিওনেল মেসি। আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই মহাতারকা আবারও কি সেই সোনালি ট্রফি হাতে তুলবেন? বিশ্বকাপের শুরুতেই এমন প্রশ্ন জোরালোভাবে ঘুরপাক খেতে শুরু করেছে ফুটবল অঙ্গনে।

বয়স ৩৮। অনেক ফুটবলারের জন্য এ সময়টা অবসরের কাছাকাছি। কিন্তু মেসির ক্ষেত্রে যেন গল্পটা উল্টো। আলজেরিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করে তিনি আবারও মনে করিয়ে দিয়েছেন, মহানদের বয়স হয়, কিন্তু শ্রেষ্ঠত্বের শেষ হয় না।

এই হ্যাটট্রিক শুধু আর্জেন্টিনাকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেয়নি, মেসিকে পৌঁছে দিয়েছে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের কাতারেও। জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড ছুঁয়ে তিনি আরো একবার নিজের নাম লিখিয়েছেন ইতিহাসের পাতায়।

বিশ্বকাপের আগে অবশ্য কিছু প্রশ্ন ছিল। ছয় নম্বর বিশ্বকাপ খেলতে নামা এই আর্জেন্টাইন কি এখনো আগের মতো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবেন? উত্তর এসেছে মাঠ থেকেই। গোল, অ্যাসিস্টের সুযোগ তৈরি, খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ—সবকিছুতেই ছিলেন আগের সেই চেনা মেসি।

শুধু জাতীয় দল নয়, ক্লাব ফুটবলেও কাটছে দারুণ সময়। ইন্টার হয়ে চলতি মৌসুমে ইতোমধ্যে ১৩ গোল ও ৭ অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। আর আগের মৌসুমে করেছিলেন অবিশ্বাস্য ৪৩ গোল ও ২৫ অ্যাসিস্ট। বয়সকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করে যাচ্ছেন তিনি।

তবে ব্যালন ডি’অরের লড়াইটা সহজ হবে না। ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, নরওয়ের হয়ে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন আর্লিং হালান্ড। দুজনই গোল করেছেন প্রথম ম্যাচে। কিন্তু আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন মেসি, কারণ তিনি শুধু গোল করছেন না, ম্যাচের গল্পটাই বদলে দিচ্ছেন।

ব্যালন ডি’অরের ইতিহাস বলে, বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে সাফল্য প্রায়ই ভোটারদের সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলে। সেই হিসেবে আর্জেন্টিনা যদি আবারও বিশ্বকাপ জিততে পারে এবং মেসি যদি দলের নেতৃত্বে এমন পারফরম্যান্স ধরে রাখেন, তাহলে নবম ব্যালন ডি’অর তার হাতেই উঠতে পারে।

উত্তরটা অবশ্য এখনই জানা নেই। সামনে আরো অনেক ম্যাচ, অনেক নাটকীয়তা অপেক্ষা করছে। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত, ৩৮ বছর বয়সেও মেসি এমন ফুটবল খেলছেন, যা তাকে আবারও বিশ্বের সেরা হওয়ার আলোচনায় নিয়ে এসেছে।