• ই-পেপার

লাল কার্ড দেখে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেলেন আফ্রিকান তারকা

ট্রাম্পের ফোন কল ও বডিগার্ড নিয়ে ‘ভীত’ যুক্তরাষ্ট্র কোচ যা বললেন

ক্রীড়া ডেস্ক
ট্রাম্পের ফোন কল ও বডিগার্ড নিয়ে ‘ভীত’ যুক্তরাষ্ট্র কোচ যা বললেন
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হওয়ার আগে বেশ ফুরফুরে মেজাজে আছেন যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল দলের (ইউএসএমএনটি) আর্জেন্টাইন মাস্টারমাইন্ড মাউরিসিও পচেত্তিনো। সম্প্রতি ‘এল পার্তিদাসো দে কোপে’-কে দেওয়া এক খোলামেলা সাক্ষাৎকারে নিজের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোন কল এবং মাঠের ফুটবল নিয়ে মন খুলে কথা বলেছেন সাবেক এই পিএসজি ও চেলসি বস।

সাক্ষাৎকারে রসিকতার সুরে নিজের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর কথা উল্লেখ করেন পচেত্তিনো। জানান, ‘জেরি’ নামের এক চমৎকার বডিগার্ড আছেন তার। আকারে খুব বড় না হলেও জেরির মুখোমুখি হওয়ার সাহস কেউ দেখাবে না! এ ছাড়া আরো দুজন বিশালদেহী নিরাপত্তারক্ষী সবসময় ছায়ার মতো তার পেছনে থাকেন। 

আমেরিকার কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে একটি মজার গল্পও শেয়ার করেন তিনি। একদিন স্ত্রীকে নিয়ে সৈকতে একটু একান্ত সময় কাটাতে গিয়ে নিরাপত্তা এড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন পচেত্তিনো। কিন্তু সেখানে উপচে পড়া ভিড় দেখে শেষমেশ নিজের স্টাফকে ফোন করে বডিগার্ড পাঠাতে অনুরোধ করেন! আর্জেন্টাইন এই কোচ অকপটে স্বীকার করেন, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এখানে নিরাপত্তা সত্যিই বেশ কঠোর ও জরুরি।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে পাওয়া বহুল আলোচিত সেই ফোন কলটি নিয়েও মুখ খুলেছেন পচেত্তিনো। পচেত্তিনো জানান, নিজের ইংরেজি দক্ষতার কারণে ট্রাম্পের বার্তা পুরোপুরি বুঝতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তিনি কিছুটা ভয়েই ছিলেন! আর এ কারণে ফোন ধরার সময় নিজের স্টাফদেরও পাশে রেখেছিলেন সাহায্য করার জন্য। তবে ট্রাম্প খুবই সদয় ছিলেন এবং সব খেলোয়াড়কে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। পচেত্তিনোর আশা, যুক্তরাষ্ট্র যদি টুর্নামেন্টের পরের ধাপগুলোতে যেতে পারে, তবে ব্যস্ত প্রেসিডেন্টকে হয়তো গ্যালারিতেই পাশে পাবেন তারা।

প্রথম ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ৪-১ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে দুর্দান্ত শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দলের বর্তমান মানসিক অবস্থা নিয়ে বেশ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন কোচ। তিনি বলেন, ‘দলের সবাই খুব ভালো মানসিক অবস্থায় আছেন এবং স্কোয়াডের মধ্যে দারুণ এক ইতিবাচক শক্তি কাজ করছে। কোনো ধরনের স্নায়ুচাপ বা ভবিষ্যতের পরিণতি নিয়ে না ভেবে ছেলেরা শুধু খেলাটা উপভোগ করছে।’

তবে এটি কেবল একটি ম্যাচের জয়, তাই সামনেও এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। প্যারাগুয়ে ম্যাচটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি মানুষ সরাসরি দেখেছেন উল্লেখ করে পচেত্তিনো বলেন, আমেরিকার সমর্থকরা যদি একবার পুরোপুরি ফুটবলপ্রেমী হয়ে ওঠেন, তবে ভবিষ্যতে এই দেশটি বিশ্ব ফুটবলের পরাশক্তিতে পরিণত হবে।

বিশ্বকাপের অন্যান্য পরাশক্তি ও লিওনেল মেসিকে নিয়ে নিজের মুগ্ধতা লুকাতে পারেননি এই আর্জেন্টাইন। মেসিকে ‘অন্য গ্রহের ফুটবলার’ আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, আর্জেন্টিনার এই মহাতারকাকে বর্ণনা করার মতো কোনো বিশেষণই যথেষ্ট নয়। পচেত্তিনোর চোখে, এবারও টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় ফেভারিট দল আর্জেন্টিনা। 

মেসি কি এবারও ব্যালন ডি’অর পাবেন?

ক্রীড়া ডেস্ক
মেসি কি এবারও ব্যালন ডি’অর পাবেন?
লিওনেল মেসি। ছবি : রয়টার্স

ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর। আর এই পুরস্কারের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি যার নাম জড়িয়ে আছে, তিনি লিওনেল মেসি। আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই মহাতারকা আবারও কি সেই সোনালি ট্রফি হাতে তুলবেন? বিশ্বকাপের শুরুতেই এমন প্রশ্ন জোরালোভাবে ঘুরপাক খেতে শুরু করেছে ফুটবল অঙ্গনে।

বয়স ৩৮। অনেক ফুটবলারের জন্য এ সময়টা অবসরের কাছাকাছি। কিন্তু মেসির ক্ষেত্রে যেন গল্পটা উল্টো। আলজেরিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করে তিনি আবারও মনে করিয়ে দিয়েছেন, মহানদের বয়স হয়, কিন্তু শ্রেষ্ঠত্বের শেষ হয় না।

এই হ্যাটট্রিক শুধু আর্জেন্টিনাকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেয়নি, মেসিকে পৌঁছে দিয়েছে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের কাতারেও। জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড ছুঁয়ে তিনি আরো একবার নিজের নাম লিখিয়েছেন ইতিহাসের পাতায়।

বিশ্বকাপের আগে অবশ্য কিছু প্রশ্ন ছিল। ছয় নম্বর বিশ্বকাপ খেলতে নামা এই আর্জেন্টাইন কি এখনো আগের মতো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবেন? উত্তর এসেছে মাঠ থেকেই। গোল, অ্যাসিস্টের সুযোগ তৈরি, খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ—সবকিছুতেই ছিলেন আগের সেই চেনা মেসি।

শুধু জাতীয় দল নয়, ক্লাব ফুটবলেও কাটছে দারুণ সময়। ইন্টার হয়ে চলতি মৌসুমে ইতোমধ্যে ১৩ গোল ও ৭ অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। আর আগের মৌসুমে করেছিলেন অবিশ্বাস্য ৪৩ গোল ও ২৫ অ্যাসিস্ট। বয়সকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করে যাচ্ছেন তিনি।

তবে ব্যালন ডি’অরের লড়াইটা সহজ হবে না। ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, নরওয়ের হয়ে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন আর্লিং হালান্ড। দুজনই গোল করেছেন প্রথম ম্যাচে। কিন্তু আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন মেসি, কারণ তিনি শুধু গোল করছেন না, ম্যাচের গল্পটাই বদলে দিচ্ছেন।

ব্যালন ডি’অরের ইতিহাস বলে, বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে সাফল্য প্রায়ই ভোটারদের সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলে। সেই হিসেবে আর্জেন্টিনা যদি আবারও বিশ্বকাপ জিততে পারে এবং মেসি যদি দলের নেতৃত্বে এমন পারফরম্যান্স ধরে রাখেন, তাহলে নবম ব্যালন ডি’অর তার হাতেই উঠতে পারে।

উত্তরটা অবশ্য এখনই জানা নেই। সামনে আরো অনেক ম্যাচ, অনেক নাটকীয়তা অপেক্ষা করছে। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত, ৩৮ বছর বয়সেও মেসি এমন ফুটবল খেলছেন, যা তাকে আবারও বিশ্বের সেরা হওয়ার আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

অ্যাসিড হামলা থেকে বিশ্বকাপের নায়ক

ক্রীড়া ডেস্ক
অ্যাসিড হামলা থেকে বিশ্বকাপের নায়ক
ইয়োনে উইসা। ছবি : রয়টার্স

পর্তুগালের বিপক্ষে ডিআর কঙ্গোর ঐতিহাসিক ড্রয়ের রাতে নায়ক ছিলেন ইয়োনে উইসা। তার শক্তিশালী হেড থেকেই আসে ডিআর কঙ্গোর বিশ্বকাপে ৫২ বছর পর প্রথম গোল, যা এনে দেয় ১-১ গোলের স্মরণীয় ড্র। কিন্তু গোলের উচ্ছ্বাসের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক অবিশ্বাস্য সংগ্রামের গল্প।

বর্তমানে ইয়োনে উইসাকে বিশ্বকাপের নায়ক হিসেবে দেখছে ফুটবল বিশ্ব। অথচ পাঁচ বছর আগেও তার ফুটবল ক্যারিয়ার তো দূরের কথা, স্বাভাবিক জীবনই অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে গিয়েছিল।

২০২১ সালে ফরাসি ক্লাব লরিয়ঁতে খেলার সময় নিজ বাসভবনে ভয়াবহ অ্যাসিড হামলার শিকার হন উইসা। এক নারী ভক্ত সেজে তার বাড়িতে এসে মুখে অ্যাসিড নিক্ষেপ করে। শুধু তাই নয়, তার মেয়েকে অপহরণের চেষ্টাও করা হয়েছিল বলে পরে জানা যায়। হামলায় উইসার দুই চোখ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

পরে আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে উইসা বলেছিলেন, ‘দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে আমার মুখে তরল কিছু ছুড়ে মারা হয়। আমি চিৎকার করতে শুরু করি, শ্বাস নিতে পারছিলাম না। হাসপাতালে আমাকে বলা হয়, আমার চোখ পুড়ে গেছে। প্রতি ঘণ্টায় চোখ পরিষ্কার করতে হতো। এটি ছিল এক ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন।’

চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, দ্রুত চিকিৎসা না পেলে তিনি দৃষ্টিশক্তিও হারাতে পারতেন। দুই চোখে অস্ত্রোপচার করতে হয় তাকে এবং আজীবন আই ড্রপ ব্যবহার করতে হবে বলেও জানানো হয়েছিল।

তবে ভয়াবহ সেই ট্র্যাজেডি তাকে থামাতে পারেনি। সুস্থ হয়ে একই বছর ইংলিশ ক্লাব ব্রেন্টফোর্ডে যোগ দেন উইসা। চার মৌসুমে ১৪৯ ম্যাচ খেলে ৪৯ গোল করেন। পরে বড় অঙ্কের চুক্তিতে যোগ দেন নিউক্যাসল ইউনাইটেডে।

আর এবার বিশ্বকাপের মঞ্চে লিখলেন নতুন ইতিহাস। পর্তুগালের বিপক্ষে তার গোলেই ডিআর কঙ্গো অর্জন করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম মূল্যবান একটি পয়েন্ট।

‘ড্র যথেষ্ট নয় —পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচের পর ডিআর কঙ্গো কোচ

ক্রীড়া ডেস্ক
‘ড্র যথেষ্ট নয় —পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচের পর ডিআর কঙ্গো কোচ
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী পর্তুগালের বিপক্ষে চমক দেখিয়েছে ডিআর কঙ্গো। ১-১ গোলে ড্র করে মূল্যবান এক পয়েন্ট অর্জন করলেও দলটির কোচ সেবাস্তিয়ান দেশাব্রে তাতেই সন্তুষ্ট নন। তার লক্ষ্য আরো বড়। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিতে চান তিনি। 

পর্তুগালের বিপক্ষে দারুণ পারফরম্যান্সের পর দেশাব্রে বলেন, ‘টুর্নামেন্টের জন্য এটি ভালো একটি শুরু। আমরা ড্র পেয়ে খুশি, কিন্তু এখানেই থেমে থাকলে চলবে না। আমাদের লক্ষ্য গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে পরের রাউন্ডে ওঠা। শুধু ড্র করলেই হবে না।’

ফরাসি এই কোচের মতে, পর্তুগালের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে পয়েন্ট পাওয়া দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। তবে সামনে আরো কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে।

তিনি বলেন, ‘যদি আমরা বাকি দুই ম্যাচের মধ্যে একটি জিততে পারি, তাহলে পরের রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। কিন্তু এটি কঠিন একটি গ্রুপ, তাই আমাদের প্রতিটি ম্যাচেই সর্বোচ্চটা দিতে হবে।’

পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচে ডিআর কঙ্গো নিজেদের রক্ষণভাগের দৃঢ়তা ও পাল্টা আক্রমণের সক্ষমতা দেখিয়েছে। ম্যাচজুড়ে ইউরোপিয়ান জায়ান্টদের চাপে রাখার পাশাপাশি সমতায় ফিরেও লড়াই চালিয়ে যায় আফ্রিকার দলটি।

আগামী ২৪ জুন গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে কলম্বিয়ার মুখোমুখি হবে ডিআর কঙ্গো। এরপর ২৮ জুন গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান।