প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে হারাল স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। ছবি : রয়টার্স
স্বাগতিক হিসেবে ২০২৬ বিশ্বকাপের যাত্রা শুরু করেই নিজেদের শক্তির জানান দিল যুক্তরাষ্ট্র। গ্রুপ ‘ডি’-এর ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে হারিয়ে দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছে মার্কিনরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে যুক্তরাষ্ট্র। সপ্তম মিনিটে প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার দামিয়ান বোবাদিয়ার আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। এরপর ৩১ মিনিটে ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচের পাস থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুন।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আবারও গোল করেন বালোগুন। মালিক টিলম্যানের সহায়তায় নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করে যুক্তরাষ্ট্রকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে নিয়ে যান এই ফরোয়ার্ড। প্রথমার্ধেই কার্যত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় মার্কিনরা।
দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ৭৩ মিনিটে হুলিও এনসিসোর পাস থেকে গোল করে প্যারাগুয়ের হয়ে ব্যবধান কমান মৌরিসিও। এতে কিছুটা আশা জাগলেও শেষ পর্যন্ত আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।
বরং যোগ করা সময়ের অষ্টম মিনিটে জিওভানি রেইনার গোল যুক্তরাষ্ট্রের জয়কে আরো বড় করে তোলে। শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলের দাপুটে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা।
এই জয়ের ফলে বিশ্বকাপের শুরুতেই গ্রুপে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট অর্জন করল যুক্তরাষ্ট্র।
চোট থেকে এখনো পুরোপুরি সেরে ওঠেননি তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার। ফলে ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে তাকে ছাড়াই মাঠে নামতে হচ্ছে ব্রাজিলকে।
আগামীকাল রবিবার ভোর ৪টায় মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মরক্কোর বিপক্ষে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে কার্লো আনচেলত্তির দল। ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামা ব্রাজিলের জন্য উদ্বোধনী ম্যাচে নেইমারের অনুপস্থিতি বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
পায়ের মাংসপেশির চোট থেকে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন নেইমার। এ কারণে গত কয়েক দিন জাতীয় দলের অনুশীলনেও অংশ নিতে পারেননি তিনি। ফলে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচে ব্রাজিলকে তার অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ডকে ছাড়াই আক্রমণভাগ সাজাতে হচ্ছে।
ব্রাজিলের কোচ আনচেলত্তি নিশ্চিত করেছেন যে, মরক্কোর বিপক্ষে দলের উদ্বোধনী ম্যাচে নেইমার খেলবেন না। তবে তিনি জানিয়েছেন, ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছেন এবং শিগগিরই দলে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
আনচেলত্তি বলেন, ‘নেইমার যত দ্রুত সম্ভব সুস্থ হয়ে ফেরার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছে। আমরা আশা করছি, আগামী সপ্তাহেই সে পুরোপুরি ফিট হয়ে আবার দলে যোগ দেবে।’
ব্রাজিলের জার্সিতে নেইমার সর্বশেষ খেলেছিলেন ২০২৩ সালের অক্টোবরে। এরপর দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের বাইরে ছিলেন তিনি। চোট নিয়ে শঙ্কা থাকলেও নানা আলোচনা-সমালোচনার পর শেষ পর্যন্ত তাঁকে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দলে রাখেন আনচেলোত্তি।
গত ৮ জুন ব্রাজিল দলের মেডিক্যাল বিভাগ জানায়, নেইমারের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সন্তোষজনকভাবে এগোচ্ছে। যদিও মরক্কোর বিপক্ষে তাকে পাওয়া যাচ্ছে না, তবে গ্রুপ পর্বের বাকি দুই ম্যাচে তাকে মাঠে দেখার আশা করছে ব্রাজিল শিবির।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে মরক্কোর পর ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হাইতি ও স্কটল্যান্ড। এই দুই ম্যাচের যেকোনো একটিতে নেইমারের প্রত্যাবর্তন হতে পারে বলে আশাবাদী দলটির কোচিং স্টাফ।
উদ্বোধনী ম্যাচেই ইংল্যান্ডের রেকর্ড, পাত্তাই পেল না শ্রীলঙ্কা
ক্রীড়া ডেস্ক
শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তুকে আউট করার পর চার্লি ডিনের উচ্ছ্বাস। ছবি: সংগৃহীত
ছবিতে যেহেতু নারী ক্রিকেটারদের দেখতে পাচ্ছেন, তাই মনে করার কারণ নেই যে এটা কোন উদ্বোধনী ম্যাচ।
আসলে ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হলে বিশ্বজুড়ে এমন উন্মাদনা তৈরি হয় যে অন্য খেলার খুব একটা গুরুত্ব থাকে না; সেটা যত বড় টুর্নামেন্টই হোক না কেন।
এই যেমন, গতকাল শুরু হয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপ। আজ থেকে শুরু হওয়া মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ তাই অনেকটাই আড়ালে চলে গেছে।
তবে উদ্বোধনী ম্যাচেই স্বাগতিক ইংল্যান্ড নারী দল যা করেছে, তাতে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে না হোক; ক্রিকেটাঙ্গনে শোরগোল ফেলেছে।
বার্মিংহামের এজবাস্টনে শ্রীলঙ্কা নারী দলের বিপক্ষে ১ উইকেটে ২১৯ রান করেছে ইংল্যান্ড, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দলীয় সর্বোচ্চ।
ইংলিশ মেয়েরা আজ নিজেদের রেকর্ডই ভেঙেছে। এর আগের সর্বোচ্চও ছিল তাদের। ২০২৩ আসরে পাকিস্তানের বিপক্ষে করেছিল ৫ উইকেটে ২১৩ রান।
শ্রীলঙ্কাকে রেকর্ড লক্ষ্য তাড়ার চ্যালেঞ্জ দেওয়ার পরই নিশ্চিত হয়েছে ম্যাচটা একপেশে হতে চলেছে। শেষ পর্যন্ত তা-ই হয়েছে। লঙ্কান মেয়েরা অলআউট হয়েছে ১৩২ রানে। ৮৭ রানের বিশাল জয়ে আসরে শুভ সূচনা করেছে স্বাগতিকরা।
ড্যানি ওয়াটের সেঞ্চুরি উদযাপন। ছবি: সংগৃহীত
ইংল্যান্ডের রান পাহাড়ের ভিত গড়ে দেন দুই ওপেনার অ্যামি জোন্স ও ড্যানি ওয়াট। জোন্স ৫৩ রানে ফিরলেও ওয়াট পেয়েছেন সেঞ্চুরি। অধিনায়ক নাটালি সিভার অপরাজিত ছিলেন ৪৬ রানে। ম্যাচসেরার পুরস্কার ওয়াটের হাতেই উঠেছে।
লক্ষ্য তাড়ায় নিয়মিত উইকেট হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা। দলটি কোনো বড় জুটি গড়তে পারেনি। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে লঙ্কানদের চেপে ধরেছিল ইংলিশরা।
ইংল্যান্ডের হয়ে ৪ উইকেট নেন ফ্রেইয়া কেম্প। সোফি একলেস্টোন ও চার্লি ডিনের শিকার দুটি করে।
ম্যাচ শেষে তুলনামূলকভাবে কারা বেশি খুশি, তা দুই দলের খেলোয়াড়দের দিকে তাকালেই বোঝা যায়।
টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে উপস্থিত গুটি কয়েক সমর্থকদের উদ্দেশে করতালি দিতে থাকত বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা দল। সমর্থকরাও সেটির জবাব দিল আনন্দ চিত্তেই।
বিপরীতে কানাডিয়ানের দেখে মনে হলো মনমরা। কাইল লারিনের হতাশা ছিল সবচেয়ে বেশি। ৩১ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকারই কানাডকে ম্যাচে ফিরিয়েছেন। কিন্তু একদম শেষ দিকে যে সুযোগ হাতছাড়া করেছেন, সেটির জন্য নিশ্চয় আক্ষেপে পুড়ছেন।
লারিনের সেই মিসই যে অপেক্ষা বাড়াল কানাডার; বিশ্বকাপে একটা জয়ের অপেক্ষা। দেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে নেমে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করল কানাডা।
বিএমও ফিল্ডে ম্যাচের ২১ মিনিটে বসনিয়াকে এগিয়ে দেন ইয়োভো লুকিচ। ৭৮ মিনিটে সমতাসূচক গোলটা করেন কাইল লারিন।
সমতাসূচক গোলের পর কাইল লারিনের উদযাপন। ছবি: ফিফা
তবে জিততে না পারলেও নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে এই প্রথম পয়েন্ট পেল কানাডা। উত্তর আমেরিকার দলটি এর আগে ১৯৮৬ ও ২০২২ বিশ্বকাপে তিনটি করে ছয়টি ম্যাচ খেলে হেরেছে সবকটিতে।
অন্যদিকে বসনিয়ার এটি দ্বিতীয় বিশ্বকাপ। ২০১৪ সালে নিজেদের অভিষেক আসরে তিন ম্যাচের দুটিতে হার ও একটিতে জয় ছিল ইউরোপের দেশটির। তবে বাদ পড়েছিল গ্রুপ পর্ব থেকেই। এবার বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক কানাডাকে রুখে দিয়ে শুরুটা দারুণ হলো তাদের।
চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইতালিকে বাছাই পর্বের প্লে অফ থেকে বিদায় করে এবারের বিশ্বকাপের টিকিট কেটেছিল বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। তবে ম্যাচটা আয়োজক কানাডার মাটিতে হওয়ায় ফুটবলবোদ্ধারা স্বাগতিকদেরই কিঞ্চিৎ এগিয়ে রেখেছিলেন। কাগজে-কলমে এগিয়ে থাকলেও মাঠে সেটির ছাপ দেখা যায়নি।
অবশ্য চোট থেকে পুরোপুরি সেরে না ওঠায় এই ম্যাচে অধিনায়ক আলফনসো ডেভিসকে পায়নি কানাডা। বায়ার্ন মিউনিখ তারকার অনুপস্থিতি দলকে বেশ ভুগিয়েছে।
প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ হলেও দুই দলই কিছুটা ছন্নছাড়া ফুটবল খেলেছে। ম্যাচজুড়ে গোছালো আক্রমণ খুব কমই দেখা গেছে। বলা যায়, বল মাঠে থাকার চেয়ে মাঠের বাইরেই গেছে বেশি। দুই দল মিলিয়ে ৫৮টি থ্রো ইন সে কথাই বলে। মানে, প্রতি দেড় মিনিটে বল বাইরে গেছে। এর বাইরে ১৬টি গোল কিক ও ১৩টি কর্নার তো ছিলই।
এমনই এক কর্নার থেকে হেডে বসনিয়াকে এগিয়ে দেন লুকিচ। পিছিয়ে পড়ার পর গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে কানাডা। প্রথমার্ধে সমতা প্রায় এনেছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু বসনিয়া ডিফেন্ডার সেয়াদ কোলাসিনাক গোললাইন থেকে বল ক্লিয়ার করেন।
অবশেষে বদলি লারিনে ‘ডেড লক’ ভাঙে কানাডা। ৭৬ মিনিটে টানি ওলুওয়াসেয়ির জায়গায় মাঠে নামেন লারিন। এর ২ মিনিট পরেই চমৎকার শটে সমতা ফেরান এই স্ট্রাইকার।
তবে শেষ পর্যন্ত দুই দলকে সমতা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়। ‘বি’ গ্রুপ থেকে তাদের পয়েন্ট সমান ১ করে।