রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে গত মৌসুমে দারুণ সময় পার করেছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। বার্সেলোনার হয়েও ছন্দে ছিলেন রাফিনিয়া। ক্লাব ফুটবলে এই দুই ব্রাজিলিয়ান বরাবরই প্রতিপক্ষের জন্য হুমকির; কিন্তু জাতীয় দলে এলে যেন নিজেদের হারিয়ে খোঁজেন তাঁরা। সর্বশেষ ২০২৪ সালে কোপা আমেরিকায় নিজেদের ছায়া হয়ে ছিলেন দুজনই। বিশ্বকাপ বাছাইয়েও নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। আরেকটি বিশ্বকাপের বাঁশি যখন বেজেছে তখন আরো একবার আলোচনায় ভিনি-রাফিনিয়ারা।
এবার কি সেরা ছন্দে দেখা যাবে তাঁদের, এই প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে। রবিবার ভোর ৪টায় মরক্কোর বিপক্ষে হেক্সা মিশন শুরু করতে যাচ্ছে ব্রাজিল। মরক্কোর সুসংগঠিত রক্ষণ ভাঙতে হলে ভিনি-রাফিনিয়াকেই দায়িত্ব নিতে হবে। সঙ্গে মাতেয়াস কুনিয়া, ইগোর থিয়াগো, এনদ্রিকদেরও হতে হবে ভীষণ কার্যকর। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ব্রাজিলের এই আক্রমণভাগ এবারের আসরের অন্যতম সেরা।
পায়ের মাংসপেশির চোট থেকে সেরে ওঠার প্রক্রিয়ায় আছেন নেইমার। এ কারণে গত কয়েক দিন নিউজার্সির মরিসটাউনে ব্রাজিলের অনুশীলনে দেখা মেলেনি এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ডের। মরক্কো ম্যাচে তাই নেইমারকে ছাড়াই আক্রমণভাগ সাজাতে হচ্ছে কোচ কার্লো আনচেলোত্তিকে। নেইমার না থাকায় ভিনি ও রাফিনিয়ার দিকেই থাকছে সব নজর। দুজনই ক্লাব ফুটবলে পরীক্ষিত। নেইমারের অনুপস্থিতিতে ভিনিসিয়ুসের ওপরই চাপটা থাকবে বেশি। গত মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২২টি গোল করেছেন। এক ডজনের মতো অ্যাসিস্টও আছে তাঁর। গতি, ড্রিবলিং ও ওয়ান-টু-ওয়ান পরিস্থিতিতে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করার দক্ষতা আছে তাঁর। তবে জাতীয় দলের হয়ে এখনো সেই ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেননি। সেলেসাও জার্সিতে ৪৯ ম্যাচে গোল করেছেন মাত্র ৯টি! এত কম গোল করা নিয়ে সমালোচনাও শুনতে হয়েছে ভিনিকে।
রাফিনিয়ার গল্পটাও অভিন্ন। বার্সেলোনার আক্রমণভাগের অন্যতম সেরা তিনিই। কিন্তু ক্লাবের পারফরম্যান্স জাতীয় দলে টেনে আনতে পারেননি। ডান প্রান্ত থেকে ভেতরে ঢুকে বাঁ পায়ের শটে কিংবা সেট-পিসে তাঁর দক্ষতা ব্রাজিলের জন্য বড় অস্ত্র হতে পারে। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের হয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন নাম্বার নাইন হিসেবে প্রথম পছন্দ মাতেয়াস কুনিয়া। ইউরোপিয়ান ফুটবলে নিজেকে কার্যকর স্ট্রাইকার হিসেবে প্রমাণ করেছেন তিনি। সামনে থেকে প্রেসিং, বল ধরে রাখা এবং সতীর্থদের খেলায় যুক্ত করার ক্ষেত্রে কুনিয়া ব্রাজিলের আক্রমণে ভিন্ন মাত্রা যোগ করতে পারেন। বিকল্প স্ট্রাইকার হিসেবে কার্যকর হতে পারেন ইগোর থিয়াগো ও এনদ্রিক। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে গত মৌসুমে ২২ গোল করে হৈচৈ ফেলে দেন থিয়াগো। একের পর এক গোল করে ম্যানচেস্টার সিটির গোলমেশিন আর্লিং হালান্ডের সঙ্গে সমান তালে লড়েছেন ব্রাজিলের এই স্ট্রাইকার। আর রিয়াল ছেড়ে ফ্রেঞ্চ ক্লাব লিওনে গিয়ে নিজের জাত চেনান এনদ্রিক। তাঁর গতি, আত্মবিশ্বাস ও গোলের ক্ষুধা যেকোনো সময় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। কার্লো আনচেলোত্তিও এনদ্রিককে নিয়ে ভীষণ আশাবাদী।
মরক্কোর সবচেয়ে শক্তির জায়গা রক্ষণ। ২০২২ বিশ্বকাপে তারা সেমিফাইনালে ওঠার পথে শক্তিশালী দলগুলোকেও ভুগিয়েছিল নিজেদের রক্ষণের শক্তি দিয়ে। তাই মরক্কো-বাধা পেরোতে হলে ভিনি-রাফিনিয়া-কুনিয়াদের আরো নিখুঁত হতে হবে। ক্লাব ফুটবলের ফর্ম জাতীয় দলের জার্সিতে টেনে আনতে পারলে ব্রাজিলকে পথ দেখাতে পারেন তাঁরাই।