• ই-পেপার

এ বি এম আবদুল্লাহর ইমেরিটাস অধ্যাপকের নিয়োগ বাতিল, বেতন ফেরতের নির্দেশ

ব্রিকসে যোগ দিতে চীনের সমর্থন পাবে বাংলাদেশ, দুই দেশের ১৩ সমঝোতা

অনলাইন ডেস্ক
ব্রিকসে যোগ দিতে চীনের সমর্থন পাবে বাংলাদেশ, দুই দেশের ১৩ সমঝোতা
ছবি : পিএমও

ব্রিকসে বাংলাদেশ যুক্ত হওয়ার বিষয়ে চীন ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) চীনের বেইজিং এ ওই বৈঠক শেষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন সেখানে এক ব্রিফিংয়ে এই কথা জানান।

তিনি বলেন, আমাদের (বাংলাদেশের) ব্রিকসে সম্পৃক্ততার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং ব্রিকসে বাংলাদেশের সংযুক্তি হওয়ার ক্ষেত্রে ওনারা (চীন) ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন, সেটি বলেছেন।

উল্লেখ্য, ব্রিকস হলো উদীয়মান অর্থনীতির পাঁচটি দেশ।

ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও সাউথ আফ্রিকার প্রথম অক্ষরের সমন্বয়ে নামকরণ করা একটি জোট এই ব্রিকস।

সবশেষ ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা অন্তর্ভুক্ত হবার আগে এটি ‘ব্রিক’ নামে পরিচিত ছিল।

মূলত উন্নয়নশীল অথবা সদ্য শিল্পোন্নত এই দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেশ ঊর্ধ্বমুখী।

সেই সঙ্গে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ঘটনাবলির উপর তাদের উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে।

তাই এই জোটকে বেশ প্রভাবশালী বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।

চীনের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় চীনের প্রিমিয়ার বা প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং এর সঙ্গে ঐতিহাসিক গ্রেট হলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

একইসঙ্গে তিস্তা মহাপরিকল্পনা, বাণিজ্য, বিনিয়োগসহ নানা বিষয়ে বাংলাদেশ ও চীনের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, তিস্তা প্রজেক্টের বিষয়ে আমাদের একটা মহাপরিকল্পনা রয়েছে। যেটা বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে রয়েছে। তার আলোকে এই মহাপরিকল্পনার প্ল্যানিং স্টেজ থেকে শুরু করে যেখানে প্রয়োজন চীন আমাদের টেকনিক্যাল সাপোর্ট প্রোভাইড করবে।

তিনি বলেন, তাদের যে জ্ঞান রয়েছে তার ওপর ভিত্তি করে আমাদের প্রজেক্ট ডিফাইন করা, প্ল্যানিং করা, এক্সিকিউশন সব জায়গায় তারা ধারাবাহিকভাবে ইনভলভ হবে বলে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। জয়েন্ট ফিজিবিলিটি স্টাডি করাটা খুব প্রয়োজন। এত বড় একটা প্রজেক্টের জয়েন্ট ফিজিব্যালিটি স্টাডির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাথে চীন কাজ করতে চায়। এ ছাড়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনে চীন সহযোগিতা করবে।

মাহদী আমিন বলেন, মায়ানমারের সঙ্গে যদি কোনো ডায়ালগ করার দরকার হয়, স্পেশালি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য যেটা আমরা সবসময় বলছি যে ভলানটিয়ারি সেইফ এবং ডিগনিফাইড রিপ্যাট্রিয়েশন চাই সেক্ষেত্রে চীন বলেছে তারা ফ্যাসিলিটেট করতে চায়।

এ ছাড়াও সড়ক, টানেলসহ নানা অবকাঠামো নির্মাণে চীন ভূমিকা রাখবে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

একইসঙ্গে কর্মসংস্থান তৈরি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে নানা পদক্ষেপের বিষয়েও দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে যেসব বৈঠক ও আলোচনা

তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন নদী ব্যবস্থাপনা, বন্যা ঝুঁকি মোকাবেলা, নদী খনন, নদীভাঙন রোধ এবং সেচ ও নৌ-নেভিগেশন উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে বাংলাদেশ ও চীন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই রাষ্ট্রীয় সফরে বৃহস্পতিবার চীনের পানি সম্পদ মন্ত্রী লি গুয়োয়িংয়ের সঙ্গে এক বৈঠকে এসব বিষয়ে দুই দেশ ঐকমত্য হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছেন।

নদী ব্যবস্থাপনাসহ এই খাতে একসঙ্গে কাজ করা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ায় তার প্রথম বিদেশ সফরের পর চীনের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে বুধবার দেশটিতে সফর করছেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, চীনের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং-এর সঙ্গে ঐতিহাসিক গ্রেট হলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

ওই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) স্বাক্ষরিত হয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র।

এক বিবৃতিতে মাহদী আমিন বলেছেন, এগুলো চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ককে আরো জোরদার করার পথে প্রভাবক হবে বলে আশা করছি।

বৃহস্পতিবার বিকেলের বৈঠকের পরে চীনের প্রধানমন্ত্রীর আয়োজিত একটি রাষ্ট্রীয় ভোজে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সফরসঙ্গীরা।

এ ছাড়া শুক্রবার চীনের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় অর্থাৎ বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৮টায় দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এই বেইজিং সফরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলেন, বেইজিং-এ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থান, ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি, বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের প্রসার, জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক জোরদার করা এবং শিক্ষা, সংস্কৃতি, তথ্যপ্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে আরও কার্যকর সহযোগিতা প্রতিষ্ঠা কর।

এর আগে, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের আমন্ত্রণে প্রথমে চীনের দালিয়ানে যান প্রধানমন্ত্রী।

সেখানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম আয়োজিত ‘অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়নস’ সম্মেলনে অংশ নেন তিনি।

এ সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং সাতটি দেশের প্রধানমন্ত্রী নিয়েছেন।

যেসব দেশের প্রধানমন্ত্রীরা এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন, তাদের মধ্যে ছিল চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, মন্টিনিগ্রো, মঙ্গোলিয়া, গিনি এবং কাজাখস্তান।

এ ছাড়া ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

বিনিয়োগের যেসব বৈঠক

বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার সকালে চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রমোশন অফ ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড (সিসিপিআইটি) এবং বিডার যৌথ উদ্যোগে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ নামের একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।

এই অনুষ্ঠানে চীনের প্রথম সারির ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ৮০ জন শীর্ষ কর্মকর্তা ও মালিক উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানান, বাংলাদেশে কীভাবে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা যায়, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান কী এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দের সামনে এই অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

একইসঙ্গে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রত্যাশা, পরিকল্পনা এবং বিনিয়োগ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করেন।

চীনা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশ উৎপাদন ও শিল্প খাতের নতুন গন্তব্য হিসেবে একটি প্রতিযোগিতামূলক, নির্ভরযোগ্য ও লাভজনক অংশীদার হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

একইসঙ্গে আনোয়ারা ও মোংলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন, চীনে বাংলাদেশের প্রথম ইনভেস্টমেন্ট অফিস স্থাপন এবং অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিভিন্ন খাতে বিশেষ প্রণোদনা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের ১৫ দিনের কম সময়ের মধ্যে নতুন লাইসেন্স দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

চীনের বেশ কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর শীর্ষ কর্মকর্তারা এই সফরে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া চায়না ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন এজেন্সি, চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশন, চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ কর্পোরেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান, বিনিয়োগকারী, মন্ত্রীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

এ ছাড়াও বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই অতিথি ভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেশটির কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইক্সিংয়ের পার্টি-টু-পার্টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এই বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সহযোগিতা, টেকসই প্রবৃদ্ধি ও পারস্পরিক সমৃদ্ধির লক্ষ্যে আরো ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

এই বৈঠকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপির সঙ্গে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয় বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।

মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে বহুমাত্রিক ক্ষেত্রে আরো গভীর করতেই এই সফর। কৌশলগত সহযোগিতা থেকে শুরু করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান, এবং উন্নয়ন প্রকল্প থেকে জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক, সব ক্ষেত্রেই দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পৃক্ততা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে।

এর আগে, এই রাষ্ট্রীয় সফরের প্রথম পর্বে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া সফর করেছিলেন।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

সংসদে ফজলুর রহমান

উগ্রবাদী অপশক্তি দেশকে বর্বরতার দিকে ঠেলে দিতে চায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
উগ্রবাদী অপশক্তি দেশকে বর্বরতার দিকে ঠেলে দিতে চায়
ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া

ডানপন্থী উগ্রবাদী শক্তির সমালোচনা করে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান বলেছেন, উগ্রবাদী অপশক্তি দেশকে মধ্যযুগে ফিরিয়ে নিতে চায়। তারা দেশকে বর্বরতার দিকে ঠেলে দিতে চায়। সেই বর্বরতার দিকে আমরা যেতে পারি না।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে ফজলুর রহমান সংস্কৃতি, ধর্মীয় সম্প্রীতি, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা এবং হাওর অঞ্চলের উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, গ্রামের মানুষের সংস্কৃতি ও লোকজ ঐতিহ্যের প্রতি এক ধরনের অসহিষ্ণুতা তৈরি করা হচ্ছে। ছোটবেলায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নাটক করা, শীতের রাতে যাত্রাপালা দেখা কিংবা রূপবানের গান শোনার যে গ্রামীণ সংস্কৃতি ছিল, সেটিও কেউ কেউ পছন্দ করেন না। এখন আবার বলা হচ্ছে, ফুটবল খেলা দেখা যাবে না, আর্জেন্টিনা কিংবা ব্রাজিলের সমর্থক হওয়াও না কি অপরাধ।

গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে রামমন্দির নির্মাণ নিয়ে চলমান বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রতিদিনই ‘এটা চাই না, ওটা চাই না’ বলে স্লোগান দেওয়া হচ্ছে। রামমন্দির নির্মাণের বিরোধিতা করে মিছিল হচ্ছে। 

তিনি বলেন, ওরা ১০০টা বা ৩০০টা মূর্তি বানাক, তাতে আমার কী আসে যায়। আমি মুসলমান, আমি আমার মসজিদে নামাজ পড়ব, তারা তাদের মন্দিরে পূজা করবে। একসঙ্গে থাকতেই তো হবে।

মাজারে হামলা ও সুফিবাদবিরোধী কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, হজরত খাজা মঈনুদ্দীন চিশতী, শাহজালাল, শাহপরাণ, বায়েজিদ বোস্তামী, খান জাহান আলীসহ অসংখ্য অলি-আউলিয়া মানুষের মধ্যে মানবতা ও সম্প্রীতির শিক্ষা ছড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু এখন সেই সুফিবাদকেই অস্বীকার করা হচ্ছে। 

তিনি বলেন, মাওলানা-মৌলভি সাহেবদের আমি শ্রদ্ধা করি। কিন্তু পীর সাহেবদের দোষটা কী?

মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা এক টাকা হলেও বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে ফজলুর রহমান বলেন, সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী ২০ হাজার টাকা এবং খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ২৫ হাজার টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। অন্যদিকে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের জন্য ২০ হাজার টাকা এবং আহতদের জন্য বিভিন্ন হারে ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানকে আমি সম্মান করি। কিন্তু কোনো কারণেই মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতার সঙ্গে অন্য কারো সম্মানী ভাতার তুলনা হতে পারে না। যদি হয়, তাহলে পাঁচ বছর পর হলেও আমাদের খেসারত দিতে হবে।

বিএনপির অবস্থান তুলে ধরে ফজলুর রহমান বলেন, দলের অধিকাংশ সংসদ সদস্যকে বলতে হয়েছে যে বিএনপি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দল এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে। অন্যদিকে কেউ কেউ নিজেদের জুলাই আন্দোলন ও সৎ রাজনীতির পক্ষে দাবি করছে। জুলাই আন্দোলনকে অসম্মান না করে মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।

বাজেটে শিক্ষা ও সংস্কৃতি খাতে বরাদ্দের মধ্যে ভারসাম্যের অভাব রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন এমপি ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, ভাত আর তরকারির যেমন সম্পর্ক, শিক্ষা ও সংস্কৃতিরও তেমন সম্পর্ক। শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বেড়েছে, কিন্তু সংস্কৃতি খাত সেই অনুপাতে গুরুত্ব পায়নি। শিক্ষার সঙ্গে সংস্কৃতির সমন্বয় না হলে সভ্যতা গড়ে উঠবে না।

হাওর অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকার উড়াল সড়ক প্রকল্প বাতিল করা হয়েছে। প্রকল্পটি পুনর্বিবেচনা করা যায় কি না কিংবা কম খরচে বাস্তবায়নের কোনো সুযোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি।

বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে রসিকতার সুরে তিনি বলেন, সংসদে যদি সবকিছু ‘ফ্রেন্ডলি গেম’-এর মতো হয়ে যায়, তাহলে মানুষ একদিন খেলা দেখতে আসবে, কিন্তু দ্বিতীয় দিন আর আগ্রহ দেখাবে না। তিনি বলেন, “সংসদে যে গেমটা হচ্ছে, কিছুদিন পরে কিন্তু মাঠ খালি পড়ে থাকবে।

এসময় মাজারের সুরক্ষা, সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ এবং হাওরাঞ্চলের উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।

মদপানে লাইসেন্স বাধ্যতামূলক কেন, প্রশ্ন স্বতন্ত্র এমপি ইকবালের

নিজস্ব প্রতিবেদক
মদপানে লাইসেন্স বাধ্যতামূলক কেন, প্রশ্ন স্বতন্ত্র এমপি ইকবালের

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে মদপানের জন্য লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করার বিধান নিয়ে ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান ইকবাল। স্পিকারের মাধ্যমে তিনি সরকারের কাছে জানতে চান, মদপানের জন্য লাইসেন্স নেওয়ার এমন নিয়মের যৌক্তিকতা কী?

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ প্রশ্ন তোলেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও মদপানের লাইসেন্স ব্যবস্থার সমালোচনা করেন তিনি।

মুজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, গাড়ি চালাতে লাইসেন্স লাগে, মোটরসাইকেল চালাতেও লাইসেন্স লাগে, এমনকি দোকান চালাতেও লাইসেন্স লাগে। কিন্তু এখন শুনতেছি মদপান করতেও নাকি লাইসেন্স লাগে। এটা কোন দেশের আইন, আমার জানা নেই।

মদের দাম বৃদ্ধির প্রসঙ্গ টেনে রসিকতার সুরে তিনি বলেন, মদের দাম বাড়ানোয় অনেকে হয়তো মনঃক্ষুণ্ণ হয়েছেন। যারা কষ্ট পেয়েছেন, তাদের জন্য অন্তত লাইসেন্সের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তবে মদ ও মাদককে এক কাতারে দেখা ঠিক হবে না। অনেক ক্ষেত্রে এক বোতল মদ পাওয়ার ঘটনাকেও কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানির সুযোগ তৈরি হয়। এ ধরনের প্রবণতা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।

বাজেটের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অবসানের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের কার্যক্রম এবং বৈশ্বিক নানা সংকটের মধ্যেও জনকল্যাণমুখী বাজেট উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী। অতীতে বাজেট ঘোষণার পরদিনই ‘মানি না, মানব না’ স্লোগানে রাজপথে মিছিল দেখা যেত। কিন্তু এবার কোনো প্রতিবাদ হয়নি। কারণ এটি মূলত শ্রমজীবী ও মধ্যবিত্ত মানুষের বাজেট।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যের দাবি, এ বাজেটে স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী, হার্টের রিং, ব্যান্ডেজ এবং কিডনি রোগীদের চিকিৎসা উপকরণের দাম কমানো হয়েছে। জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রায় সব পণ্যের দাম কমানো হলেও শুধু মদের দাম বাড়ানো হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে স্বাগত জানানো উচিত।

বাজেটের সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে মুজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, বিরোধী দলের কিছু সমালোচনা অনেকটা ফিতা দিয়ে মেপে কুমিরের দৈর্ঘ্য কমানোর গল্পের মতো। অর্থমন্ত্রী যে বড় ও বাস্তবধর্মী বাজেট দিয়েছেন, তা খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে এ বাজেট বাস্তবায়ন করা সবার দায়িত্ব। বাজেট বড় না হলে সড়ক, কালভার্ট, মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মতো বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

অর্থমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে এমপি মুজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, তিনি চট্টগ্রামের সাগরপাড়ের মানুষ। তার মন যেমন বড়, বাজেটও তেমনি সাগরের মতো বড়। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন এবং হাওরাঞ্চলে রাতের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে স্পিডবোট ও পুলিশের টহল গাড়ি বরাদ্দের জন্য পুলিশের বাজেট বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।

ডিআইজি বিপ্লব বিজয় তালুকদার সাময়িক বরখাস্ত

অনলাইন ডেস্ক
ডিআইজি বিপ্লব বিজয় তালুকদার সাময়িক বরখাস্ত

টানা ৮ মাস ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিতির কারণে রাজারবাগ পুলিশ টেলিকমের ডিআইজি বিপ্লব বিজয় তালুকদারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে গতকাল বুধবার (২৪ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিষয়টি জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এতে বলা হয়, রাজারবাগ পুলিশ টেলিকমের (সংযুক্ত) ডিআইজি বিপ্লব বিজয় তালুকদার গত বছরের ৬ অক্টোবর থেকে কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তার এমন কর্মকাণ্ড সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধি অনুসারে যথাক্রমে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’ এর পর্যায়ভুক্ত শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এ কারণে বিপ্লব বিজয় তালুকদারকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী যে তারিখ থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত সেই তারিখ থেকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে।

বিপ্লব বিজয় তালুকদার ২০০১ সালে ২০তম বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। ২০২৩ সালে তিনি ডিআইজি পদে পদোন্নতি পেয়েছিলেন।