• ই-পেপার

মামুনুল হককে ঘিরে সংসদে বিতর্ক, বক্তব্য এক্সপাঞ্জের নির্দেশ স্পিকারের

বর্তমান সংসদ সদস্যদের কেউ ঋণখেলাপি নন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
বর্তমান সংসদ সদস্যদের কেউ ঋণখেলাপি নন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বর্তমান সংসদের কোনো সদস্য ঋণখেলাপি নেই। যারা আছেন তারা ঋণগ্রস্ত হতে পারেন, তবে ঋণখেলাপি নন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

আজ বৃহস্পতিবার বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের পয়েন্ট অব অর্ডারে দেওয়া এক বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইন অনুযায়ী, যেমন রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অর্ডারসহ অন্যান্য বিধিমালায়, যদি কেউ আদালত কর্তৃক ঋণখেলাপি হিসেবে সাব্যস্ত বা ঘোষিত হন, তবে তিনি অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হন। এমপি পদে মনোনয়ন দিতে পারেন না। সেটি স্পষ্ট বিধান।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচিত হয়ে সংসদে আসার অর্থ হলো, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হয় ঋণগ্রস্ত হতে পারেন, কিন্তু ঋণখেলাপি নন। এখন কেউ যদি দাবি করেন যে এই সংসদে ঋণখেলাপিদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তা কোনোভাবেই আইনগত ব্যাখ্যার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তাদের কারো বিরুদ্ধে ব্যাংক বা অন্যান্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মামলা থাকলেও, সেগুলো হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টে নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। আদালত থেকে নিষ্পত্তির পর এবং বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষিত হওয়ার পর তিনি আর ঋণখেলাপি থাকেন না এবং তারা নির্বাচিত হয়ে সংসদে এসেছেন। সুতরাং এটিকে ‘ঋণখেলাপিদের সংসদ’ বলা সঠিক নয় এবং এটি মানহানিকর বক্তব্য। আমি মনে করি, এটি এক্সপাঞ্জ করা উচিত। 

অন্যদিকে, নাহিদ ইসলাম বলেন, সংসদে নির্বাচনের আগেও ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কথা বলেছি, ঋণখেলাপিদের নমিনেশন দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের পরেও আমি আমার প্রথম অধিবেশনের বক্তব্যে এইখানে অনেক সংসদ সদস্য তাদের কত কত ঋণখেলাপি রয়েছে সেই সংখ্যা আমি উল্লেখ করেছি, তাদের সম্মানার্থে নাম প্রকাশ করিনি।

তিনি আরো বলেন, এখন যদি সংসদে এতগুলো ঋণখেলাপি থাকে, তাহলে এই সংসদকে তো ঋণখেলাপিদের সংসদ বলবে, বা সরকারদলীয় লোকেরা যারা মেজরিটি, টু-থার্ড মেজরিটি করেছে তারা ঋণখেলাপিদের সংসদে নিয়ে এসেছে, এটা সাধারণ মানুষ এটা স্বাভাবিকভাবেই বলবে।

বাংলাদেশিদের ফুটবলপ্রীতির প্রশংসায় আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত

অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশিদের ফুটবলপ্রীতির প্রশংসায় আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত

সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) অনুষ্ঠিত এ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে আর্জেন্টিনার ডেপুটি হেড অব মিশন প্যাট্রিসিও উরুয়েনিয়া প্যালাসিও, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ আমেরিকা অনুবিভাগের পরিচালক কাজী আনারকলী এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে দুই দেশের ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের প্রসঙ্গ টেনে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং আর্জেন্টিনার প্রখ্যাত সাহিত্যিক ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর মধ্যকার ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করা হয়।

এ প্রসঙ্গে আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত বলেন, আমরা আর্জেন্টিনার মানুষ মূলত বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকেই সবচেয়ে বেশি চিনি। তবে আমরা বাংলাদেশের অন্যান্য গুণী লেখকদের সম্পর্কেও বিশদভাবে জানতে অত্যন্ত আগ্রহী।
 
তিনি বাংলাদেশের সমসাময়িক অন্যান্য লেখকদের কালজয়ী সাহিত্যকর্ম স্প্যানিশ ভাষায় অনুবাদ করার জন্য অনুরোধ জানান। একইসঙ্গে তিনি আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী ‘বুয়েনস আইরেস আন্তর্জাতিক বইমেলা’য় বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের আধ্যাত্মিক সাধক বাউল সম্রাট লালন শাহের গানের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং লালন গীতি স্প্যানিশ ভাষায় অনুবাদ করে বিশ্বদরবারে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

সাক্ষাৎকালে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, আর্জেন্টিনা ১৯৭১ সালে আমাদের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের শুরুতেই যে অনন্য সমর্থন দিয়েছিল এবং ১৯৭২ সালে অন্যতম প্রথম দেশ হিসেবে যে কূটনৈতিক স্বীকৃতি প্রদান করেছিল, তা বাংলাদেশের জনগণ চিরকাল কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে। 

বর্তমান নতুন সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে পারস্পরিক সমতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে আর্জেন্টিনার সঙ্গে সম্পর্ককে আরো বহুমুখী করতে বদ্ধপরিকর। দুই দেশের মধ্যে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সাংস্কৃতিক চুক্তি নেই। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যে ‘সাংস্কৃতিক সহযোগিতা চুক্তি’র খসড়া পাঠানো হয়েছে, তা দ্রুত চূড়ান্ত করা প্রয়োজন। 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে আমাদের বাউল ও লোক ঐতিহ্যের সাথে আর্জেন্টিনার ট্যাঙ্গো ও চ্যামামে নৃত্যের মেলবন্ধন ঘটবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, চলচ্চিত্র, গণমাধ্যম ও সংস্কৃতির অন্যান্য অনুষঙ্গ বিনিময়ের মাধ্যমে এই সম্পর্ককে আমাদের আরও বিস্তৃত করতে হবে।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও বন্ধনকে এক অনন্য ও স্থায়ী রূপ দিতে বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আইরেসে বাংলাদেশের নামে একটি সড়ক নামকরণের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। একই সাথে, দুই দেশের জলবায়ু ও আবহাওয়ার চমৎকার সামঞ্জস্যের বিষয়টি বিবেচনা করে বাংলাদেশের কিছু ঐতিহ্যবাহী দেশীয় উদ্ভিদ আর্জেন্টিনায় রোপণ ও স্থানান্তরের পরিবেশবান্ধব প্রস্তাবও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়।

দুই দেশের জনগণের সংযোগ আরও জোরদার করার প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত জানান, চলমান ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে আর্জেন্টিনা থেকে চারজন অত্যন্ত জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ও ব্লগারকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হচ্ছে। এই ব্লগার দল বাংলাদেশে অবস্থান করে এখানকার আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের কোটি ভক্তদের উন্মাদনা, ভালোবাসা ও সংস্কৃতি নিয়ে বিশেষ ভ্লগ তৈরি করবেন, যা আর্জেন্টিনায় ব্যাপকভাবে প্রচার করা হবে। এর মাধ্যমে দুই দেশের পারস্পরিক সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় হবে।

বৈঠকে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম দুই দেশের সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানকে গতিশীল করতে বাংলাদেশ ও আর্জেন্টিনার খ্যাতনামা শিল্পীদের অংশগ্রহণে একটি জাঁকজমকপূর্ণ যৌথ ‘সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা’ আয়োজনের প্রস্তাব পেশ করেন।

আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা বাংলাদেশের মানুষের আতিথেয়তা ও ফুটবলের প্রতি ভালোবাসার ভূয়সী প্রশংসা করেন। 

তিনি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উত্থাপিত প্রস্তাবসমূহকে সাধুবাদ জানিয়ে দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে এবং প্রস্তাবিত চুক্তিটি দ্রুত বাস্তবায়নে দৃঢ় আগ্রহ প্রকাশ করেন।
 

শ্রীমঙ্গলে দেওয়া হবে জাতীয় চা পুরস্কার

অনলাইন ডেস্ক
শ্রীমঙ্গলে দেওয়া হবে জাতীয় চা পুরস্কার

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে জাতীয় চা দিবস ২০২৬ উদযাপন ও জাতীয় চা পুরস্কার ২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ চা বোর্ড। ‘চা শিল্পের উন্নতি, সবুজ হোক অর্থনীতি’ প্রতিপাদ্যে আগামী শনিবার (২০ জুন) এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

শ্রীমঙ্গল অডিটরিয়াম কাম মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন।

ওইদিন বেলা ১১টায় বাণিজ্যমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হবে। উদ্বোধনী পর্বের পর চা শিল্পবিষয়ক ডকুমেন্টারি প্রদর্শন এবং আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ চা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছর ২১ মে জাতীয় চা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত থাকলেও চলতি বছর দিবসটির আনুষ্ঠানিক উদযাপন ২০ জুন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেবেন বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী। এ ছাড়া চা শিল্পসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজন ও চা শ্রমিক প্রতিনিধিরা আলোচনাসভায় অংশ নেবেন।

আলোচনাসভা শেষে দেশের চা শিল্পে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আটটি ক্যাটাগরিতে ‘জাতীয় চা পুরস্কার ২০২৬’ প্রদান করা হবে। পাশাপাশি চলতি বছর প্রথমবারের মতো শ্রেষ্ঠ বটলিফ চা কারখানা ক্যাটাগরিতে বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হবে।

প্রধান অতিথি বিজয়ীদের হাতে ট্রফি ও সনদ তুলে দেবেন। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ চা বোর্ড এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় চা প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণে একটি চা প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে মোট ১৭২টি চা বাগান রয়েছে। একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের সমতল ভূমিতেও চা চাষের সম্প্রসারণ ঘটেছে। দেশের চা শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে চায়ের রাজধানীখ্যাত শ্রীমঙ্গলে এবার ষষ্ঠবারের মতো জাতীয় চা দিবস উদযাপন করা হচ্ছে। 

প্রস্তাবিত বাজেট বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে : আইনমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রস্তাবিত বাজেট বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে : আইনমন্ত্রী

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট একটি স্বপ্নবিলাসী ও উচ্চাভিলাষী বাজেট, যা বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং একটি স্বনির্ভর রাষ্ট্র গঠনের পথ সুগম করবে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ত্রয়োদশ ‘জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের দশম দিন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, একসময় বাজেট উপস্থাপনের পর ‘গরিব মারার বাজেট’ কিংবা ‘বড়লোকের বাজেট’ বলে সমালোচনা করা হতো। কিন্তু এবারের বাজেটকে ঘিরে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। কারণ এই বাজেট গরিব, মধ্যবিত্ত, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, ব্যবসায়ী ও কর্মপ্রত্যাশী তরুণদের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, সরকারের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার ধারাবাহিকতায় এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি কোনো একদিনের চিন্তার ফল নয়; বরং দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার বাস্তব প্রতিফলন।

বাজেটকে স্বপ্নবিলাসী ও উচ্চাভিলাষী বলে সমালোচনার জবাবে মন্ত্রী বলেন, যে জাতি স্বপ্ন দেখতে পারে না, সে জাতি এগিয়ে যেতে পারে না। উচ্চাভিলাষ ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী ও স্বনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করতে হলে বড় লক্ষ্য নিয়ে এগোতে হবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষি খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখা হয়েছে। কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড, উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ এবং বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতা বাড়িয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

শিক্ষা খাতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, কর্মমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়নে অতিরিক্ত প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য, যুব উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় নানা অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। অর্থপাচার, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও সরকার একটি বাস্তবমুখী ও উন্নয়নবান্ধব বাজেট প্রণয়ন করেছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য খাল ও নদী পুনঃখনন, ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং অন্যান্য উন্নয়ন কর্মকাণ্ড গ্রহণ করা হয়েছে। এসব উদ্যোগ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর-সুবিধা বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, জনগণের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিও এতে প্রতিফলিত হয়েছে।

মন্ত্রী আরো বলেন, সরকার লুটপাট ও অর্থপাচারনির্ভর অর্থনীতির অবসান ঘটিয়ে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও মানবিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়। প্রস্তাবিত বাজেট সেই লক্ষ্য অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এ বাজেট দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার রূপরেখা এতে তুলে ধরা হয়েছে।