• ই-পেপার

আজ কক্সবাজার সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

হজ শেষে ফিরলেন ৫৪৩২৩ হাজি, মারা গেছেন ৫০

অনলাইন ডেস্ক
হজ শেষে ফিরলেন ৫৪৩২৩ হাজি, মারা গেছেন ৫০

হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে এখন পর্যন্ত ১২৭টি ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন ৫৪ হাজার ৩২৩ জন বাংলাদেশি হাজি। দেশে প্রত্যাবর্তনকারী হাজিদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ৪ হাজার ৩১৩ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ৫০ হাজার ১০ জন।

এদিকে হজ পালনে সৌদিতে গিয়ে হজ সম্পন্ন হওয়ার আগে এবং পরে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৫০ জন বাংলাদেশি। তাদের মধ্যে ৩৩ জন পুরুষ এবং ১৭ জন নারী। মৃতদের মধ্যে মক্কায় ৩৫ জন, মদিনায় ১৪ জন এবং জেদ্দায় একজন মারা যান।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্যে জানা যায়, ১৩ জুন (সৌদি সময়) পর্যন্ত দেশে ফিরতি হজযাত্রী পরিবহনে শীর্ষে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। সংস্থাটি এখন পর্যন্ত ২২ হাজার ৯৫২ জন হাজিকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে। এ ছাড়া সৌদি এয়ারলাইনস পরিবহন করেছে ১৯ হাজার ২৮৫ জন, ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ৮ হাজার ৩৮০ জন এবং অন্যান্য এয়ারলাইনসের মাধ্যমে ফিরেছেন ৩ হাজার ৭০৬ জন হাজি।

হজযাত্রীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে এখন পর্যন্ত মোট ১২৭টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস পরিচালনা করেছে ৫৮টি, সৌদি এয়ারলাইনস ৪৮টি এবং ফ্লাইনাস ২১টি ফ্লাইট।

স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সৌদি আরবে বাংলাদেশি চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো থেকে এখন পর্যন্ত ৬২ হাজার ৮৩৭টি স্বয়ংক্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি আইটি হেল্পডেস্কের মাধ্যমে ২৭ হাজার ৬৬৫টি সেবা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন মোট ৪১০ জন বাংলাদেশি হাজি। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৮ জন। তাদের মধ্যে সৌদি ন্যাশনাল হাসপাতালে ৫ জন, আন-নুর হাসপাতালে ৩ জন, কিং আব্দুল্লাহ মেডিক্যাল সিটি হসপিটালে ১ জন, মক্কা মেডিক্যাল সেন্টারে ৪, হেরা জেনারেল হাসপাতালে ২, হায়াত ন্যাশনাল হাসপাতালে ১, কিং ফাহাদ জেনারেল হাসপাতালে ২ ভর্তি রয়েছেন।

উল্লেখ্য, চলতি বছর পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয় ২৬ মে। বাংলাদেশ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে যান। হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয় ৩০ মে এবং শেষ ফিরতি ফ্লাইট নির্ধারিত রয়েছে আগামী ৩০ জুন। হজযাত্রীদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

কক্সবাজারে আজ যেসব কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
কক্সবাজারে আজ যেসব কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একদিনের সফরে কক্সবাজার যাবেন আজ। সেখানে তিনি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, রাজনৈতিক জনসভা ও সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন।

একদিনের এই সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত পাতলী খালের পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। এ ছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে চট্টগ্রাম বিভাগের প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করবেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী প্রথমে কক্সবাজার সদর থানার পিএমখালীতে অবস্থিত পাতলীখাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন। পরে তিনি ডুলাহাজরা সাফারি পার্কে গিয়ে উদ্বোধন করবেন, ‘সারা দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি’র। সেখান থেকে যাবেন জুলাই শহীদ ওয়াসিমের কবরে। তারপর মাতামুহুরী উপজেলা এবং পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। 

এরপর বিকেলে চকরিয়ায় আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জনসভা শেষে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ ও সমুদ্রসৈকত পরিদর্শন করবেন তিনি।

বাজেট প্রতিক্রিয়া

বেসরকারি খাতে আস্থা ফেরানো জরুরি

সিপিডি

অনলাইন ডেস্ক
বেসরকারি খাতে আস্থা ফেরানো জরুরি

উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জ্বালানিসংকট, দুর্বল বিনিয়োগ ও ব্যাংক খাতের চাপের মধ্যে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের লক্ষ্য অর্জন করতে হলে বেসরকারি খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি বলে মনে করছে গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। গতকাল রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ : সিপিডির পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান।

ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ এখনো নিম্নমুখী ধারায় রয়েছে। এমন বাস্তবতায় ব্যক্তি খাতের এক ধরনের অনীহা ও আস্থার অভাব রয়েছে, লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে তা ফিরিয়ে আনতে হবে।

তিনি বলেন, নতুন বাজেটে ব্যক্তি খাতে ঋণ প্রবাহের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৯ দশমিক ৪ শতাংশ। কিন্তু চলতি অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত এ হার ছিল মাত্র ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এই ব্যবধানই বিনিয়োগ পরিস্থিতির দুর্বলতা তুলে ধরে।

সিপিডি বলছে, গত প্রায় চার বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি অর্থনীতির ওপর বড় চাপ তৈরি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও তা অর্জনে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

এ প্রসঙ্গে ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, সেটা অর্জন করতে হলে অনেক ভালো ভালো পদক্ষেপ নিতে হবে। বাস্তবসম্মত মুদ্রানীতি অবলম্বন করতে হবে। সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি আরো কিছুদিন চালিয়ে নিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, খাদ্য সরবরাহ ঠিক রাখতে হবে। চালে সরবরাহজনিত সমস্যা আছে। সেখানে নজর দিতে হবে। জ্বালানি সংকটের সমাধান প্রয়োজন।

সিপিডির বিশ্লেষণে উঠে আসে, সামষ্টিক অর্থনীতির প্রায় সব সূচকই এখন চাপে রয়েছে। যদিও রেমিট্যান্স ও রিজার্ভ কিছুটা বেড়েছে, তবুও সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো দুর্বল।

ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, সামষ্টিক অর্থনীতি দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে জিডিপির প্রাক্কলন করা হয় ৬.৫ শতাংশ। কিন্তু চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত সরকারি হিসাবেই ৪ শতাংশের বেশি। এটা কীভাবে হবে তাও বিবেচনায় নিতে হবে।

বাজেট বাস্তবায়ন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়ন সক্ষমতা দেখলে বোঝা যায় আগামী বাজেট বাস্তবায়নের বড় আকাক্সক্ষা তৈরি হয়েছে। এত বড় বাজেটের বড় আকাক্সক্ষাটাই বড় চ্যালেঞ্জ।

সিপিডির বিশ্লেষণে উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা ও প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ার প্রবণতাও তুলে ধরা হয়। অনেক প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হচ্ছে না, ফলে ব্যয় বাড়ছে এবং কার্যকারিতা কমছে। একই সঙ্গে অনেক প্রকল্পে বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবায়ন সক্ষমতা দুর্বল থাকায় কাক্সিক্ষত ফল পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানানো হয়। ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ বাড়ার ঝুঁকির কথাও তুলে ধরেছে সিপিডি। এতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমে গিয়ে বিনিয়োগ আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে উন্নয়ন ব্যয় গুরুত্বপূর্ণ হলেও রাজস্ব আদায় বাড়ানোর কৌশল স্পষ্ট করতে হবে। পাশাপাশি বিদেশি ঋণ ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে ঋণের চাপ আরও বাড়বে। সিপিডির মতে, প্রস্তাবিত বাজেট মানব উন্নয়ন, বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক সুরক্ষার কথা বললেও, এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো অর্থনীতিতে আস্থা ফিরিয়ে আনা- বিশেষ করে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

জুনের প্রথম ১০ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১২০৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার

অনলাইন ডেস্ক
জুনের প্রথম ১০ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১২০৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার

জুনের প্রথম ১০ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১২০৩.১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত বছরের জুনের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৯৫৬.১৯ মিলিয়ন ডলার।

সেই হিসাবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবাহে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৫.৮৩ শতাংশ। এটি দেশের প্রচলিত আর্থিক ব্যবস্থার প্রতি প্রবাসীদের আস্থার প্রতিফলন।

১০ জুন একদিনে দেশে ১০ কোটি ৪৮ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। এটি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ধারাবাহিক গতি বজায় থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ব্যাংকিং খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের ওপর চাপ কমাতে এবং দেশের বাহ্যিক খাতকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তারা জানান, রেমিট্যান্সদাতাদের জন্য নগদ প্রণোদনা, সহজ ব্যাংকিং সেবা এবং অবৈধ অর্থপাচার বা হুন্ডি চ্যানেলের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারিসহ বিভিন্ন নীতিগত সহায়তা এই আশাব্যঞ্জক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে।

এদিকে চলতি অর্থবছরে ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে গত ১০ জুন পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩৩.৯৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। 

আগের অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ২৮.৪৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অর্থাৎ, এই সময়ে রেমিট্যান্সে ১৯.৩১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।