• ই-পেপার

শাহআলী থেকে চুরি হওয়া প্রাইভেট কার উদ্ধার, যুবক গ্রেপ্তার

বাড্ডায় ছুরিকাঘাতে প্রবাসীর স্ত্রী নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাড্ডায় ছুরিকাঘাতে প্রবাসীর স্ত্রী নিহত
ফাইল ছবি

রাজধানীর মধ্যবাড্ডায় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে আহত প্রবাসীর স্ত্রী রোজিনা আক্তার (৩৮) মারা গেছেন। শনিবার (২০ জুন) রাত সাড়ে ১০টায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার। এর আগে শুক্রবার (১৯ জুন) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে তিনি ছুরিকাঘাতের শিকার হয়েছিলেন।

রোজিনা কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাসিন্দা সৌদি প্রবাসী মো. আউয়ালের স্ত্রী। বর্তমানে মেরুল বাড্ডায় ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি।

নিহতের ভাই জিহাদ ভুইয়া জানিয়েছেন, শুক্রবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে আমার বোন মধ্যবাড্ডা এলাকায় বিকাশে টাকা তোলার উদ্দেশ্যে বের হন। পরে সংবাদ পাই, তিনি রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। তার পেটে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে।

আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতাল নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় শনিবার রাত সাড়ে ১০টায় তার মৃত্যু হয়।

তিনি আরো বলেন, আমার বোন বিকাশ থেকে টাকা তোলে বাসায় ফেরার পথে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন, না কি টাকা তোলার আগেই পথে ঘটনার শিকার হয়েছেন, সে বিষয়ে জানতে পারিনি। তবে ধারণা, ছিনতাইকারীরাই ছুরিকাঘাত করেছে।

মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢামেক পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক।

ধানমণ্ডি ও হাতিরপুলে ডিএসসিসির অভিযান, জরিমানা ২৫ হাজার টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
ধানমণ্ডি ও হাতিরপুলে ডিএসসিসির অভিযান, জরিমানা ২৫ হাজার টাকা
ছবি: কালের কণ্ঠ

রাজধানীর ধানমণ্ডি, মিরপুর রোড ও হাতিরপুল এলাকায় অবৈধ দখল উচ্ছেদ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং মশক নিয়ন্ত্রণে অভিযান চালিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। অভিযানে মোট ২৪টি মামলায় ২৫ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে অঞ্চল-১-এর ১৭ ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে পৃথক দুটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়।

১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকার বিপরীতে হাউস নম্বর-১, সড়ক নম্বর-২ এবং ধানমণ্ডি-মিরপুর সড়কের উভয় পাশের ফুটপাত ও সড়ক থেকে অবৈধ স্থাপনা ও দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়। এ সময় ফুটপাত ও সড়ক দখলের দায়ে তিনটি মামলায় তিন হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

এদিকে হাতিরপুলসংলগ্ন কাঁচাবাজার ও আশপাশের এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত আরেকটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯–এর বিভিন্ন ধারায় ২১টি মামলায় ২২ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

ডিএসসিসি জানিয়েছে, নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি, বাজার ও দোকানপাটে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং মশার প্রজননস্থল নিয়ন্ত্রণে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, নগরীর শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে।

অভিযান চলাকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

শ্যামপুরে কলেজছাত্রের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক
শ্যামপুরে কলেজছাত্রের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
প্রতীকী ছবি

রাজধানীর শ্যামপুরের মীরহাজিরবাগ এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে এনামুল হক বিজয় (২২) নামের এক কলেজছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২০ জুন) দুপুরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এনামুল সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বরিশাল জেলার কাজিরহাট থানার চুনার চর গ্রামের শ্রমিক মো. শাহজাহান হাওলাদারের বড় ছেলে। পরিবারের সঙ্গে মীরহাজিরবাগ পাইপ রাস্তা এলাকার একটি ছয়তলা বাড়ির ষষ্ঠ তলায় থাকতেন তিনি। দুই ভাইয়ের মধ্যে এনামুল ছিলেন বড়।

জানা গেছে, আজ শনিবার দুপুর ১২টার দিকে সবার অগোচরে ঘরের দরজা বন্ধ করে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দেন এনামুল। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিকেল পৌনে ৬টার দিকে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

এনামুলের মামাতো ভাই আল আমিন বলেন, এনামুল কিছুটা রাগী প্রকৃতির ছিলেন। গত কয়েক দিন ধরে তিনি যেকোনো বিষয়ে হুটহাট রেগে যেতেন। তার মধ্যে কিছু মানসিক সমস্যাও দেখা দিয়েছিল।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শ্যামপুর থানার উপপরিদর্শক হাফিজুর রহমান বলেন, দুপুরে খবর পেয়ে ওই বাসা থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তরুণটির মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সে আত্মহত্যা করেছেন।

এসআই আরো জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

পথকুকুর নিধনের প্রতিবাদে ঢাবিতে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক
পথকুকুর নিধনের প্রতিবাদে ঢাবিতে মানববন্ধন
ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশের বিভিন্ন স্থানে পথকুকুর নিধনের ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন করেছেন প্রাণিকল্যাণকর্মী, স্বেচ্ছাসেবী ও আইনজীবীরা।

শনিবার (২০ জুন) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এএলবি অ্যানিম্যাল শেল্টার (অ্যানিম্যাল লাভার্স অব বাংলাদেশ), গ্রিট ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন প্রাণিকল্যাণ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

কর্মসূচি থেকে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো— প্রাণিকল্যাণ আইন, ২০১৯ এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন; কুকুর নিধন ও অবৈধ স্থানান্তরের সব উদ্যোগ বন্ধ; দেশব্যাপী পুনরায় সিএনভিআর কার্যক্রম চালু; জলাতঙ্ক প্রতিরোধে গণটিকা কর্মসূচির সম্প্রসারণ ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করা; এবং সামাজিক মাধ্যমে আতঙ্ক ও বিদ্বেষ ছড়ানো বিভ্রান্তিকর প্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ।

মানববন্ধনে গ্রিট ফাউন্ডেশনের পরিচালক নিলুফার ইয়াসমিন টুম্পা বলেন, একটি সমাজের সভ্যতা, মানবিকতা ও নৈতিকতার প্রকৃত পরিচয় নির্ভর করে সে সমাজ দুর্বল ও অসহায়দের কতটা সুরক্ষা দিতে পারে তার ওপর। যে সমাজে দুর্বলরা নিরাপত্তা ও মর্যাদা পায় না, সেই সমাজকে পুরোপুরি মানবিক বলা যায় না।

তিনি বলেন, প্রাণীদের প্রতি নিষ্ঠুরতা সমাজে সহিংসতার সংস্কৃতি তৈরি করে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত মানুষের ওপরও পড়ে। অসহায় প্রাণীর প্রতি দয়া ও সহমর্মিতার শিক্ষা মানুষকে আরও দায়িত্বশীল ও সহনশীল সমাজ গঠনে সহায়তা করে।

এএলবি অ্যানিম্যাল শেল্টারের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান দীপান্বিতা হৃদি বলেন, বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে সরকার যেন মানুষ ও পথপ্রাণীর নিরাপদ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করে। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।