• ই-পেপার

গাজীপুরে সদর উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্থাপনের দাবি

শেরপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগের মিছিলের প্রস্তুতিকালে আটক ৫

নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি
শেরপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগের মিছিলের প্রস্তুতিকালে আটক ৫
সংগৃহীত ছবি

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ব্যানারে মিছিলের প্রস্তুতিকালে পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে উপজেলার কাপাসিয়া এলাকায় নকলা-নালিতাবাড়ী মহাসড়কে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়।

আটকরা হলেন—উপজেলার গেরামারা গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজান মিয়া (৩৩), যোগানিয়া ভাটি গাংপাড় গ্রামের জাবেদ আলীর ছেলে ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রুহুল আমিন (৫০), বাজার ছিটপাড়া গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে ও ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম (৩৬), উজান গাংপাড় এলাকার মৃত কফিল উদ্দিনের ছেলে আব্দুল কাদির (৪০) এবং গোবিন্দনগর গ্রামের মৃত আফতাব উদ্দিনের ছেলে ও উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক আতাউর রহমান সুমন (৪২)।

পুলিশ জানায়, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ব্যানারে মিছিল বের করার প্রস্তুতির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অভিযান চালানো হয়। এ সময় মিছিলে অংশ নিতে জড়ো হওয়া পাঁচজনকে আটক করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অন্যরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান বলেন, ‘এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।’

এদিকে সন্ধ্যায় নালিতাবাড়ী উপজেলা বিএনপির নেতা ও নয়াবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের প্রতিবাদে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

টিকটকের প্রেমে বিয়ে, স্বর্ণালংকার ও টাকা নিয়ে উধাও; স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ

বাগেরহাট প্রতিনিধি
টিকটকের প্রেমে বিয়ে, স্বর্ণালংকার ও টাকা নিয়ে উধাও; স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ
ছবি: কালের কণ্ঠ

বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় টিকটকের পরিচয় থেকে প্রেম। এরপর ধর্মান্তর হয়ে বিয়ে। সেই সংসার ভেঙেছে প্রতারণার অভিযোগে।

ভুক্তভোগী খাদিজা (পূর্বনাম চম্পা কুমারী) অভিযোগ করেন, স্বামী ঈসা রুহুল্লা তার স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে উধাও হয়েছেন। একই সঙ্গে শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগও করেন তিনি।

খাদিজা জানান, প্রায় এক বছর আগে ঢাকায় থাকাকালে টিকটকে ঈসা রুহুল্লার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তিনি স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এরপর আদালতে এফিডেভিটের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়।

বিয়ের পর তারা প্রায় ছয় মাস ঢাকায় সংসার করেন। এ সময় কৌশলে তার স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিজের কাছে নেন ঈসা। পরে তিনি নিখোঁজ হয়ে যান বলে অভিযোগ করেন খাদিজা।

এরপর স্বামীর গ্রামের বাড়িতে যান তিনি। সেখানে শাশুড়ি ও ননদের হাতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন বলে দাবি করেন। গত মঙ্গলবার তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বর্তমানে তিনি স্বামীর এক চাচার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন বলে জানান।

ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়রা তার পাশে দাঁড়ান। তারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

মোল্লাহাট থানার ওসি কাজী রমজানুল হক বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নাটোরে বিএনপি কর্মীর বাড়িতে আ. লীগের নেতাকর্মীদের ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগ

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
নাটোরে বিএনপি কর্মীর বাড়িতে আ. লীগের নেতাকর্মীদের ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগ
ফাইল ছবি

নাটোরের লালপুর উপজেলায় আব্দুল হালিম নামের এক বিএনপি কর্মীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (২৬ জুন) ভোরে উপজেলার জোতদৈবকি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

ভুক্তভোগী আব্দুল হালিম বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী ও সাবেক ছাত্রদল নেতা।

অভিযোগে বলা হয়, ভোর প্রায় ৪টার দিকে দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল আব্দুল হালিমের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলায় দক্ষিণ লালপুর গ্রামের সানাউল্লাহর ছেলে সাকলাইন নেতৃত্ব দেন এবং তাঁর সঙ্গে লোকমানের ছেলে মোহনসহ আরো কয়েকজন অংশ নেন।

অভিযুক্ত সাকলাইন ও তার পরিবারের সদস্যরা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

আব্দুল হালিম দাবি করেন, হামলাকারীরা তাঁর বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে নগদ ৩২ লাখ টাকা, প্রায় ১১ ভরি স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৫৭ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। তিনি অভিযোগ করেন, হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং এতে ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, থানা থেকে তাঁর বাড়ির দূরত্ব প্রায় এক কিলোমিটার হলেও ৯৯৯ ও থানায় বারবার ফোন করার পরও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেরি করে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ভাঙচুর ও লুটপাট চলার পর পুলিশ এসে তাঁর স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে উদ্ধার করে।

আব্দুল হালিমের স্ত্রী মুন্নি বেগম অভিযোগ করেন, হামলার সময় সাকলাইন তাঁদের মেয়ের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে আলমারির চাবি নিয়ে যান। পরে আলমারি থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল নিয়ে যান হামলাকারীরা। এ সময় পরিবারের সদস্যরা চরম আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সাকলাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ধূমকেতু এক্সপ্রেসে ১০ লাখ টাকার হেরোইনসহ দম্পতি গ্রেপ্তার

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি
ধূমকেতু এক্সপ্রেসে ১০ লাখ টাকার হেরোইনসহ দম্পতি গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

পাবনার ঈশ্বরদীতে আন্তঃনগর ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনে অভিযান চালিয়ে ১০০ গ্রাম হেরোইনসহ এক দম্পতিকে আটক করেছে রেলওয়ে পুলিশ পাকশী জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। উদ্ধারকৃত হেরোইনের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা। 

শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে রেলওয়ে পাকশী জেলা পুলিশ সুপার মো. মেহেদী হাসান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।
 
আটকরা হলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার কল্যাণপুর এলাকার মোছা. সাজেমা বেগম (৪২) ও তার স্বামী মো. কাজল আহম্মেদ (৪৩)।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দিবাগত রাত পনে একটার দিকে  ঈশ্বরদী বাইপাস রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় প্রবেশ করা আন্তঃনগর ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনে  অভিযান চালিয়ে ওই দম্পতিকে আটক করা হয়।

ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানা পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর ধূমকেতু এক্সপ্রেসে ট্রেনে অভিযান পরিচালনা করা হয়। ট্রেনের ‘জ’ বগির ৭৬ ও ৭৭ নম্বর আসনে বসা ওই দম্পতিকে সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাদের তল্লাশি করা হয়। তল্লাশির সময় সাজেমা বেগমের ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে ৫০ গ্রাম এবং কাজল আহম্মেদের প্যান্টের পকেট থেকে ৫০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। দম্পতির নিকট থেকে উদ্ধার হওয়া হেরোইনের পরিমাণ ১০০ গ্রাম। উদ্ধার হওয়া হেরোইনের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা।

ঈশ্বরদী জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমান জানান, আটক স্বামী-স্ত্রীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করে  আদালতে পাঠানো হয়েছে।