• ই-পেপার

সাভার-আশুলিয়ায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১৪ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

গাইবান্ধায় ছাত্রশিবির নেতা হত্যার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৩

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধায় ছাত্রশিবির নেতা হত্যার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৩
সংগৃহীত ছবি

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার পর তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

গতকাল সোমবার রাতে মামলা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) পবিত্র কুমার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তাররা হলেন এজাহার নামীয় সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের বাটি গ্রামের আশরাফ খন্দকার, পার্শ্ববর্তী শিমুল তাইড় গ্রামের রবিউল ইসলাম, বোনারপাড়া গ্রামের শাহ আলম।

মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন, বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান মুকুল, মুকুলের ছোট ভাই পলাশ, মোনারুল ইসলাম।

প্রসঙ্গত, গত ২১ জুন বিকেলে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া চারমাথা এলাকায় প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে নিহত হন ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, বেলা পৌনে ৩টার দিকে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান মুকুল ও তার সহযোগীরা তার ওপর হামলা চালিয়ে ছুরিকাঘাত করেন।

ঘটনার পর একই রাতে জেলা যুবদলের পক্ষ থেকে মোখলেছুর রহমান মুকুলকে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রাথমিক সদস্য পদসহ বহিষ্কার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ জনতা তার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে।

ধর্ষণ মামলায় রিমান্ড শেষে কারাগারে বহিষ্কৃত শিবির নেতা জিসান

কুমিল্লা প্রতিনিধি
ধর্ষণ মামলায় রিমান্ড শেষে কারাগারে বহিষ্কৃত শিবির নেতা জিসান
ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার ইসলামী ছাত্রশিবিরের বহিষ্কৃত নেতা জিসান মিয়াকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার ইসলামী ছাত্রশিবিরের বহিষ্কৃত নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে দু’দিনের রিমান্ড শেষে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।  

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে কুমিল্লার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এর বিচারক তৈয়ব উদ্দিন আহমেদ এই আদেশ দিয়েছেন। এর আগে গত রবিবার একই আদালত জিসানের রিমান্ড মঞ্জুর হয়।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মনির হোসাইন পাটোয়ারী কালের কণ্ঠকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

আদালত সূত্র জানায়, গত ১১ জুন শিবির নেতা জিসান আহমেদ প্রধান নিখোঁজ হন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। পরদিন এ বিষয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। ওইদিন রাতে জেলার লাকসাম জংশন এলাকা থেকে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়।

একই দিন রাতে দাউদকান্দি থানায় ২৫ বছর বয়সী এক বিধবা নারী তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেন। পরে পুলিশ জিসানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১৬ জুন বিকেলে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে কুমিল্লা আদালতে হাজির করে। পরে বিচারক তাকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এরপর গত রবিবার (২১ জুন) দুপুরে তাকে কুমিল্লার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক তৈয়র উদ্দিন আহমেদ আহমেদের আদালতে হাজির করে ৭ সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কুমিল্লা জেলা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল আলম। শুনানি শেষে বিচারক দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে ওই দিন বিকেলেই জিসানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় ডিবি পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিকেলে তাকে পূনরায় আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানো নির্দেশ দেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মনির হোসাইন পাটোয়ারী বলেন, ‘জিসানের দুই দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করেন ডিবি পুলিশ। পরে আদালত তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকায় তাকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।’

কুমিল্লা জেলা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল আলম শাহ বলেন, ‘রিমান্ড শেষে জিসানকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। পরে আদালত তাকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। দুই দিনের জিজ্ঞাসাবাদে জিসান থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গিয়েছে। তদন্তের স্বার্থে সেটি এখন বলা যাচ্ছে না।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ট্রাক খাদে পড়ে শ্রমিক নিহত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ট্রাক খাদে পড়ে শ্রমিক নিহত
ছবি : কালের কণ্ঠ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রাক খাদে পড়ে রাসেল মিয়া নামের এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় চালক ও সহকারীসহ আরো চারজন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে উপজেলার চম্পকনগর ইউনিয়নের মিলন বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত রাসেল মিয়া কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন উপজেলার কাজিরখলা গ্রামের টেনা মিয়ার ছেলে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন চালক আবুল কালাম (৩৫), হেলপার জয়নাল (২২), শ্রমিক আমিনুল হক (২৫) এবং শফিকুল ইসলাম (২২)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলা থেকে সিমেন্টবোঝাই ট্রাকটি চম্পকনগর বাজারের দিকে যাচ্ছিল। মিলন বাজার এলাকায় সড়ক নির্মাণকাজ চলমান থাকায় একটি রোলার অতিক্রম করার সময় ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের খালে পড়ে যায়।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পাঠায়। আহতদের বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক রাসেল মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে মরদেহ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আহসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

নবীগঞ্জ-কাজির বাজার সড়ক : সংস্কারের অভাবে মারণফাঁদে জনজীবন

নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
নবীগঞ্জ-কাজির বাজার সড়ক : সংস্কারের অভাবে মারণফাঁদে জনজীবন
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার নবীগঞ্জ-কাজির বাজার সড়কে খানাখন্দে ভরা।

​হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ নবীগঞ্জ-কাজির বাজার সড়কটি আজ উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি আর দীর্ঘশ্রুত অবহেলার এক ট্র্যাজেডিতে পরিণত হয়েছে। একসময়ের সহজ চলাচলের এই পথটি বর্তমানে পিচঢালা কোনো সড়ক নয়, বরং যেন শত শত খানাখন্দে ঘেরা এক মৃত্যুফাঁদ। সংস্কারহীনতার দীর্ঘসূত্রতায় সড়কটি এখন হাজারো মানুষের যাতায়াতের প্রধান প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় জনপদ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে, আর জনদুর্ভোগ পৌঁছেছে চরম সীমায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের প্রশস্ততা কম নয়, কিন্তু এর বর্তমান রূপ বড্ড বিভীষিকাময়। পিচ, কার্পেটিং ও খোয়া উঠে গিয়ে সড়কের বুক চিরে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে জমে যায় কাদা-পানি, যা পথচারী ও চালকদের কাছে বিষাক্ত এক গোলকধাঁধার মতো। সিএনজি অটোরিকশা, ইজিবাইক থেকে শুরু করে মালবাহী ট্রাক—সব ধরনের যানই এখন এখানে এসে থমকে দাঁড়াচ্ছে। দিনের আলোয় যা কিছুটা এড়ানো সম্ভব হলেও রাতের অন্ধকারে তা হয়ে ওঠে দুর্ঘটনার প্রধান উৎস। প্রতিনিয়ত উল্টে যাচ্ছে ছোট যানবাহন, বিকল হচ্ছে মালবাহী ট্রাক। চাকা ভেঙে যাওয়া কিংবা অ্যাক্সেল ভেঙে যাওয়ার ঘটনা এখানে নিত্যদিনের চিত্র। এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল স্থানীয় কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আজ সবচেয়ে বেশি অসহায়। কৃষি পণ্য বাজারজাত করতে গিয়ে একদিকে পরিবহন খরচ বাড়ছে কয়েক গুণ, অন্যদিকে সময়মতো পণ্য বাজারে পৌঁছাতে না পেরে গুনতে হচ্ছে লোকসান।

স্থানীয় এক ব্যবসায়ী আক্ষেপ করে বলেন, ‘সড়কটির করুণ দশা আমাদের ব্যবসায়িক মেরুদণ্ড ভেঙে দিচ্ছে। মালবাহী গাড়িগুলো এই রাস্তায় আসতে চায় না, আর এলেও ভাড়া দিতে হয় দ্বিগুণ। এই দুর্ভোগের শেষ কোথায়, তা আমরা জানি না।’ ভুক্তভোগী যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়ক সংস্কারের দাবিতে স্থানীয় পর্যায়ে বারবার গুঞ্জন উঠলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের টনক নড়ছে না। প্রশাসনিক উদাসীনতা আর তদারকির অভাবে উন্নয়নের বরাদ্দ যেন এই সড়কের বেহাল দশা দেখেও দেখছে না। এলাকার স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে যাতায়াতকারী রোগী—সবাইকে এই মরণফাঁদ পাড়ি দিয়েই গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়। মুমূর্ষু রোগীদের নিয়ে চলাচলের সময় সড়কের ঝাঁকুনিতে তাদের অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়ে, যা এক মানবিক বিপর্যয়ের শামিল।

স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, কেবল তালি দিয়ে সংস্কার বা দায়সারা মেরামতের দিন শেষ হয়েছে। সড়কটি টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন আধুনিক প্রকৌশলগত সমাধান ও কঠোর মনিটরিং। তারা মনে করেন, প্রশাসন যদি এখনই উদ্যোগী না হয়, তবে অদূর ভবিষ্যতে এখানে বড় ধরনের প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

ইতিমধ্যেই স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, আর কোনো আশ্বাস নয়, তারা এখন সড়কের পূর্ণাঙ্গ সংস্কার ও এর স্থায়ী সমাধান চান। সড়কটি কি ফের চলাচলের উপযোগী হবে, নাকি অবহেলার এই অভিশপ্ত তকমা নিয়ে এটি আরও দীর্ঘ সময় ‘মরণফাঁদ’ হয়েই টিকে থাকবে—এখন সেই উত্তর খুঁজছেন নবীগঞ্জ ও কাজীগঞ্জের হাজারো মানুষ। দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের কাছে এলাকাবাসীর আকুতি একটাই—মানুষের জীবনের মূল্য কোনো প্রকল্পের চেয়ে কম নয়, তাই দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করে এই দুর্গম যাতায়াতের অবসান ঘটানো হোক।