ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের স্ট্যাম্প ভেন্ডার ও ব্যবসায়ী মো. কামালকে একটি ডাকাতি মামলায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানোর অভিযোগ করেছে তার পরিবার। তাকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক মামলায় জড়ানো হয়েছে দাবি তুলে পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে তার নিঃশর্ত মুক্তি ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চেয়েছে তার স্ত্রী।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে নবীনগর উপজেলার পৌর এলাকার ৫নং ওয়ার্ডের আলিয়াবাদ গ্রামে নিজ বাড়িতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে কামাল ভেন্ডারের (স্ত্রী) পাপিয়া বেগম ঘটনার বিবরণ দিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, গত শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে হঠাৎ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানা এবং নবীনগর থানার পুলিশসহ দুটি গাড়ি আমাদের বাড়ি ঘেরাও করে। দরজা-জানালায় প্রচণ্ড শব্দ করে তারা দরজা খোলার দাবি জানায়। কামাল দরজা খোলার পর পুলিশ সদস্যরা ঘরে ঢুকে ঘরের আলমারি ও ড্রয়ার তছনছ করে এবং নারীদের সঙ্গে অত্যন্ত দুর্ব্যবহার করে। এ সময় পরিবারের সবার মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
পাপিয়া বেগম পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আরো জানান, রাশেক নামে এক চিহ্নিত ডাকাতের তথ্যের ভিত্তিতে তার স্বামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অথচ এই রাশেক হচ্ছে কামাল ভেন্ডারের বোনের সাবেক স্বামী, যার সঙ্গে প্রায় ৪ বছর আগে পারিবারিকভাবে বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে গেছে। পূর্বশত্রুতার জেরে ওই ডাকাত কামাল ভেন্ডারের নাম বলতে পারে। কিন্তু পুলিশ কোনো রকম পূর্ব তদন্ত ছাড়াই একজন সম্মানিত ব্যবসায়ীকে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দিল।
ভুক্তভোগীর ছোট ভাই জামাল উদ্দিন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমার ভাই একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক। তাকে নবীনগরের আলিয়াবাদ এলাকার নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হলেও মামলার এজাহারে দেখানো হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মেড্ডা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কোনো তদন্ত ছাড়াই সরাসরি তাকে ডাকাতি মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে,যা সম্পূর্ণ হয়রানিমূলক। তিনি এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
ভুক্তভোগীর ছেলে ও নবীনগর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক মো. অপু মিয়া বলেন, ‘আমরা নবীনগর থানার সামনেই দীর্ঘ বছর ধরে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করছি। আমার বাবার কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই। তাকে যখন গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন স্থানীয় সংসদ সদস্যের (এমপি) বাসার সামনে দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ এবং বাবার মোবাইল ট্র্যাকিং করলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে যে তিনি ঘটনার সময় বাড়িতেই ঘুমিয়ে ছিলেন। অথচ পুলিশ কোনো তদন্ত ছাড়াই তাকে ডাকাতির সর্দার সাজিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জাহিদ ও নবীনগর থানা পুলিশের একাংশের অসহযোগিতা এবং দুর্ব্যবহারের অভিযোগও তোলেন।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার তথ্য প্রদানকারী এসআই মো. জাহিদ হোসাইন কালের কণ্ঠকে বলেন, মো. কামাল মিয়াকে ডাকাতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকার কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেড্ডা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন আছে।
নবীনগর থানার ওসি (তদন্ত) রাজীব কান্তি নাথ বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানা কর্তৃক কামাল ভেন্ডারকে নবীনগর থানা পুলিশের সহযোগিতায় তার নিজ বাড়ি থেকে গভীর রাতে গ্রেফতার করা হয়েছিল। কিন্তু তাকে কি কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেড্ডা থেকে গ্রেফতার দেখিয়েছে এবং কোন মামলা দিয়েছে, এটা সম্পূর্ণ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার বিষয়।’
পুলিশের এই দুই ধরনের বক্তব্যের কারণ কী? এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মো. জহিরুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাকে এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মাত্র দুইদিন হলো। তদন্ত ছাড়া এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। আপনি এসে আমার সিনিয়রদের সঙ্গে কথা বলেন।’
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘একজন নিরপরাধ সমাজসেবক ও ব্যবসায়ীকে এভাবে গায়েবি মামলায় ফাঁসানো হলে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা কোথায়? তারা অবিলম্বে কামাল ভেন্ডারের নিঃশর্ত মুক্তি এবং এই ঘটনার পেছনে থাকা প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।