• ই-পেপার

মাদারীপুরে দুর্নীতি প্রতিরোধবিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

পাবনায় গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

পাবনা প্রতিনিধি
পাবনায় গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

পাবনা পৌরসভার গোপালপুর আইবি রোড এলাকার একটি বাসা থেকে আজমিরা খাতুন (২২) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দরজা ভেঙে তার মরদেহটি উদ্ধার করে।

নিহত আজমিরা খাতুন পাবনা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের গোপালপুর আইবি রোড এলাকার বাসিন্দা আরিফ হোসেনের স্ত্রী। তিনি সদর উপজেলার চর বাঙ্গাবাড়িয়া গ্রামের আক্কাস প্রামানিকের মেয়ে।

পুলিশ জানায়, পারিবারিক কলহের জেরে বুধবার (১৭ জুন) রাতে স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে আজমিরা ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন। দীর্ঘ সময় ডাকাডাকির পরও দরজা না খোলায় তার স্বামী অন্য একটি কক্ষে রাত কাটান। বৃহস্পতিবার সকালেও পরিবারের সদস্যরা দরজা বন্ধ দেখতে পেয়ে ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করেন। পরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

তবে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মরদেহ উদ্ধারের সময় গৃহবধূর পা মাটির সঙ্গে স্পর্শ করা অবস্থায় ছিল। এ ছাড়া বাসার জানালার কাঠামো নিয়েও তারা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাদের ধারণা, বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন হতে পারে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে নিহতের স্বামী আরিফ হোসেন বলেন, ‘অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। আমি এ বিষয়ে কথা বলার মতো অবস্থায় নেই।’

নিহতের বাবা আক্কাস প্রামানিক জানান, রাতে মেয়ে ও জামাইয়ের মধ্যে ঝগড়ার বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছিলেন। সকালে জামাই ফোন করে জানান, আজমিরা দরজা খুলছেন না। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজার ফাঁক দিয়ে তিনি মেয়েকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সঞ্জয় সাহা বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।’

তিনি আরো জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি।

বিএনপির ৫ বারের এমপি হারুণ-অর-রশিদ মারা গেছেন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
বিএনপির ৫ বারের এমপি হারুণ-অর-রশিদ মারা গেছেন
সংগৃহীত ছবি

প্রবীণ রাজনীতিবিদ, বিএনপির নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসন থেকে ৫ বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাড. হারুণ-অর-রশিদ (৮৭) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত পৌনে ৯টার দিকে ঢাকার বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

হারুণ-অর-রশিদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার মৌলভীপাড়ার বাসিন্দা। বেশ কিছুদিন ধরে বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন তিনি। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়েসহ আত্মীয় স্বজন রেখে গেছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, অ্যাড. হারুণ-অর-রশিদ দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তাঁর নামাজে জানাজা ও দাফনের সময়সূচি পরে জানানো হবে বলে তিনি জানান।

স্থানীয় নেতারা জানান, হারুণ-অর-রশিদ ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসন থেকে নির্বাচিত হন। সংসদ সদস্য থাকাকালে তিনি জাতীয় সংসদের হুইপ ও পরবর্তীতে চিফ হুইপ নির্বাচিত হন।

প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রথম মন্ত্রিসভায় অ্যাড. হারুণ-অর রশিদ ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী নিযুক্ত হন। ১৯৯৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯৯৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরে তিনি নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

অ্যাড. হারুণ-অর রশিদ বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির সাবেক চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পেশাগত জীবনে তিনি আইনজীবী ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বোনের জানাজা শেষে সড়কেই প্রাণ গেল ভাইয়ের

তিতাস-হোমনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
বোনের জানাজা শেষে সড়কেই প্রাণ গেল ভাইয়ের
প্রতীকী ছবি

কুমিল্লার হোমনায় মৃত বড় বোনের বাড়ি থেকে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় রুপ মিয়া (৩৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) হোমনা-গৌরীপুর সড়কের বিএডিসি হিমাগারের সামনে অটোরিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রুপ মিয়া উপজেলার বাঙ্গরা বাজার এলাকার দীঘলদি গ্রামের বাসিন্দা। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন হনুফা বেগম (৪২), তার স্বামী বাবুল মিয়া (৪৮) এবং অটোরিকশাচালক তানভির। তানভির হোমনা চৌরাস্তা এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে ঢাকায় রুপ মিয়ার বড় বোন মারা যান। তার জানাজা ও অন্যান্য ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্বজনদের সঙ্গে অটোরিকশাযোগে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন রুপ মিয়া। পথে হোমনা চৌরাস্তা থেকে গৌরীপুরগামী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে তাদের বহনকারী অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে অটোরিকশার যাত্রীরা গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে তাদের হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রুপ মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। 

হোমনা থানার ওসি (তদন্ত) দীনেশ চন্দ্র দাশ গুপ্ত জানান, কয়েকদিন আগে নিহতের বড় বোন মারা যান। তার জানাজা ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষে বাড়ি ফেরার পথে সিএনজি ও ইজিবাইকের সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে রুপ মিয়া নিহত হয়েছেন এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

২৫ হাজারে শিশু বিক্রি করল বাবা, ৫২ দিন পর উদ্ধার

মাগুরা প্রতিনিধি
২৫ হাজারে শিশু বিক্রি করল বাবা, ৫২ দিন পর উদ্ধার
মাগুরা সদর থানা। সংগৃহীত ছবি

মাগুরা সদর উপজেলা বেরইল পলিতা ইউনিয়ন রামদেরগাতী এলাকায় ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে এক শিশুকে বিক্রি করে দেন বাবা সাগর হোসেন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে বিক্রির ৫২ দিন পর শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ।

উপজেলার মঘি ইউনিয়ন দক্ষিণ বীরপুর গ্রামে শাহাবুরের কাছে শিশুটিকে বিক্রি করেছিলেন সাগর।

বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ সুপার মোল্ল্যা আজাদ হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, গত ২৭ এপ্রিল ২৫ হাজার টাকার স্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তির মাধ্যমে শিশুটিকে বিক্রি করা হয়েছিল।

পুলিশ সুপার বলেন, গত ২৭ এপ্রিল শিশুটির মা তানজিলা খাতুন সন্তানের খোঁজ করতে থাকলে অভিযুক্ত বাবা সাগর হোসেন তাকে নানাভাবে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা তথ্য দেন। সাগর বলেন, শিশুটিকে জিনে নিয়ে গেছে। জিনের মাধ্যমে ফেরত আনার আশ্বাস দিয়ে প্রায় ২ মাস পার করেন তিনি।

পরে তথ্য-প্রযুক্তির সহযোগিতা ও স্থানীয়দের মাধ্যমে বিক্রি হওয়া শিশুটিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে মঘি ইউনিয়ন দক্ষিণ বীরপুর শাহাবুর ও মনিরা খাতুন দম্পতির কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় উদ্ধার হওয়া শিশুটি তার মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।