গাজীপুরের টঙ্গীতে দুই যুবককে অপহরণ করে আটকে রেখে নির্যাতন, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে সহোদর দুই বোনসহ অপহরণ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে অপহরণের শিকার দুই যুবককে উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ এ তথ্য জানায়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, টঙ্গী পশ্চিম থানার বড় দেওড়া ফকির মার্কেট এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে তারেক হোসেন (১৯), একই এলাকার আতাউর রহমানের মেয়ে আফসানা আক্তার আঁখি (২৮) এবং তার বোন নদী (২৬)।
মামলা সূত্রে জানা যায়, শেরপুর জেলার ফটিয়ামারী এলাকার বাসিন্দা সালেহীন মিয়া (২৮) বর্তমানে টঙ্গীর বড় দেওড়া এলাকায় বসবাস করেন। বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তিনি বন্ধু টিটু মিয়ার সঙ্গে আশুলিয়ার গৌরিপুরে একটি ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টারে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন।
গত ১৬ জুন রাতে প্রশিক্ষণ শেষে বাসায় ফেরার পথে টিটু মিয়ার ফোন পেয়ে বড় দেওড়ার একটি ভবনের কক্ষে যান সালেহীন। সেখানে প্রবেশ করার পর দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তিনি কক্ষে টিটুকে আহত অবস্থায় দেখতে পান। পরে অভিযুক্তরা দুজনের চোখ বেঁধে ভবনের ছাদে নিয়ে যায় এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের কাছে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।
একপর্যায়ে সালেহীনের পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা এবং টিটু মিয়ার পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। পরে উভয় পরিবারের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। এরপরও আরো টাকার জন্য চাপ অব্যাহত রাখা হয়।
পরদিন ১৭ জুন সকালে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার কথা বলে সালেহীনকে আশুলিয়ার গৌরিপুরে নেওয়া হয়। সেখানে সুযোগ বুঝে তিনি নিজেকে অপহরণের শিকার বলে চিৎকার শুরু করলে স্থানীয় লোকজন ও ট্রেনিং সেন্টারের কর্মীরা এগিয়ে এসে সঙ্গে থাকা এক অভিযুক্তকে আটক করেন।
খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সালেহীন মিয়া ও আটক ব্যক্তিকে হেফাজতে নেয়। পরে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ আটক ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরো দুইজনকে গ্রেপ্তার করে।
টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।





