চাঁপাইনবাবগঞ্জের রোকনপুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে ১৫ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবির বাধার মুখে তাদের ভারতে ফিরিয়ে নিয়ে যায় বিএসএফ।
বিজিবি জানায়, শুক্রবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে রোকনপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার মেইন আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ২২০/এমপি-এর কাছ দিয়ে ৮৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কোটালপুর ক্যাম্পের সদস্যরা ৫ শিশু, ৮ নারী ও দুজন পুরুষকে বাংলাদেশে ঢোকানোর চেষ্টা করে। কিন্তু বিজিবির তাৎক্ষণিক ও কার্যকর পদক্ষেপের ফলে বিএসএফ’র সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
বিজিবি আরো জানায়, বিজিবির দৃঢ় অবস্থান ও কঠোর তৎপরতার কারণে শনিবার ভোররাতে বিএসএফ’র কোটালপুর ক্যাম্পের সদস্যরা সীমান্ত পিলার ২২০/এমপি সংলগ্ন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার ভবানীপুর এলাকা দিয়ে তাদের ভারতের ভেতরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, রাত ১টার দিকে বিজিবির কাছ থেকে খবর পেয়ে এলাকায় মাইকিং করে লোক জড়ো করে বিজিবিকে পুশইন ঠেকাতে সাহায্য করা হয়েছে। গ্রাম পুলিশসহ এলাকাবাসী সারা রাত ক্লান্তিহীন পাহারার পর এখনও সতর্ক রয়েছে। সম্মিলিত চেষ্টায় পুশইনের চেষ্টা করা ১৫ জনকে হটিয়ে দেওয়া হয়েছে।
নওগাঁ ব্যাটালিয়নের (১৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, বিজিবি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সীমান্তে সার্বক্ষণিক নজরদারি ও টহল অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরো জানান, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে পুশইন, অবৈধ অনুপ্রবেশ, অবৈধ পারাপার প্রতিরোধে বিজিবি সার্বক্ষণিক সতর্ক রয়েছে এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং এ ধরনের কোনো অপতৎপরতা প্রতিহত করতে বিজিবি বদ্ধপরিকর বলেও জানান এই অধিনায়ক।
প্রসঙ্গত, এর আগে গত ৪ জানুয়ারি গোমস্তাপুরের বাঙ্গাবাড়ী সীমান্ত দিয়ে ২৮ জনকে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। কিন্তু বিজিবির কঠোর প্রতিরোধের মুখে টানা দুদিন সীমান্তে অবস্থানের পর তাদের সীমান্ত থেকে ভারতের ভেতরে সরিয়ে নেয় বিজিবি। এর আগে গত ৬ এপ্রিল রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে দুই নারীকে পুশইন করে বিএসএফ। গোমস্তাপুর সীমান্ত থেকে মালদহ কাছে হওয়ায় এই সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ পুশইনের চেষ্টা করে বলে জানিয়েছেন লে. কর্নেল মাসুম।





