• ই-পেপার

ঢাবিতে সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণার গতি-প্রকৃতি নিয়ে সেমিনার

বিসিএস ক্যাডার হয়ে স্কুল শিক্ষক বাবার স্বপ্নপূরণ করল আশফিক

কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
বিসিএস ক্যাডার হয়ে স্কুল শিক্ষক বাবার স্বপ্নপূরণ করল আশফিক
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার রোয়াইলবাড়ী ইউনিয়নের রাজনগর গ্রামের অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক মোখলেছুর রহমান ভূঞার ছেলে আশফির রহমান ভূঞা।

৪৭তম বিসিএসে আশফিকুর রহমান ভুঞা অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছেন। ২৮ জুন প্রকাশিত ৪৭তম বিশেষ বিসিএসের ফল অনুযায়ী তিনি কৃষি ক্যাডারে সহকারী পরিচালক /উপজেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। এতে তার স্কুল শিক্ষক বাবার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন সফল হলো।

আশফিক রহমান ভূঞা নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার রোয়াইলবাড়ী ইউনিয়নের রাজনগর গ্রামের অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক মোখলেছুর রহমান ভূঞা ছেলে। 

তার শিক্ষাজীবনের ভিত্তি গড়ে ওঠে কেন্দুয়া উপজেলার দক্ষিন রাজনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। পরে প্রয়াত কথা সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ থেকে টেলেন্টপুলে জেএসসি বৃত্তি লাভ করে এবং পাশ্ববর্তী কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর আফতাব উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২০১৫ সালে  জিপিএ ৫ পেয়ে ঢাকা সিটি কলেজ ভর্তি হন এবং সেখান থেকে ২০১৭ সালে জিপিএ ৫ পেয়ে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। এরপর ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৭-২০১৮ সেশনে কৃষি অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হয়ে একাডেমিক উৎকর্ষ, অধ্যবসায় ও লক্ষ্যনিষ্ঠার মাধ্যমে নিজেকে দক্ষ ও প্রতিযোগিতামুখী হিসেবে গড়ে তোলেন। সেখান থেকে তিনি অনার্স ও মাস্টার্সে কৃতিত্বের সহিত ১ম শ্রেণি অর্জন করেন। 

তার বাবা মোখলেছুর রহমান ভূঞা কিশোরগঞ্জ জেলার সরাচর বালিকা বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। মা হোসনে আরা বেগম সরকারি চাকুরীজীবী। ৩ ভাইয়ের মধ্যে আশফিক সবার ছোট। বড় দুই ভাই নোয়াখালী বিজ্ঞান  ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করে একজন প্রাইভেট কোম্পানিতে উচ্চতর পদে চাকুরী করছেন, আরেকজন চাকুরীর জন্য চেষ্টা করছেন। 

কথা হয় আশফিকের বাবা মোখলেছুর রহমান ভূঞার সঙ্গে। তিনি ছেলের খুশির খবর শুনেই প্রথমে আনন্দে কান্না করে দেন। তিনি প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘আমার ছেলে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্নপূরুণ করেছেন। দোয়া করি আমার ছেলে সততার সহিত তার জীবন পরিচালনা করুক এবং অনেক বড় হউক। আশফিক পড়াশোনার পাশাপাশি ক্রিকেট, ফুটবল খেলতে খুব ভালোবাসতেন। তিনি মনে করেন, মনোবল ঠিক রাখার জন্য খেলাধুলার বিকল্প নেই। 

নিজের অনুভূতি জানিয়ে আশফিক বলেন, ‘আল্লাহর রহমত, বাবা-মা ও আত্নীয় স্বজনদের দোয়া এবং শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা ছাড়া এ অর্জন সম্ভব হতো না। তার এ সাফল্যের পেছনে বড়ভাইয়েরাও সবচেয়ে বেশি সাহস ও শক্তি জুগিয়েছেন। বিসিএসে ভালো ফল করার পেছনে নিয়মিত পড়াশোনা, ধৈর্য এবং নিজের উপর আস্থা রাখা সবচেয়ে বেশি সহায়ক ছিল। যারা বিসিএসের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের বলব—পরিকল্পনা মেনে পড়াশোনা করুন, হতাশ না হয়ে ধারাবাহিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যান, সাফল্য আসবেই ইনশাআল্লাহ।

শেষে আশফিক বলেন,আমি আমার গ্রামের মানুষের কাছে চিরকৃতজ্ঞ। তাই ছেলেবেলার স্মৃতিবিজড়িত স্থানের মানুষের পাশে সবসময় থাকতে চাই।’

বিসিএসে সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরব আরো উজ্জ্বল করেছেন। বিশেষ করে  ৪৭তম বিসিএসে কৃষি ক্যাডারে  উপপরিচালক/উপজেলা বিপণন কর্মকর্তা হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়া তাঁর ধারাবাহিক প্রস্তুতি, মেধা ও কঠোর পরিশ্রমের উজ্জ্বল স্বীকৃতি। এই গৌরবোজ্জ্বল অর্জনে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সহপাঠী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যরা তাঁর উত্তরোত্তর সাফল্য ও কর্মজীবনের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৩০ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৩০ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন
সংগৃহীত ছবি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য ৩৩০ কোটি টাকার মূল বাজেট এবং ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের ২৩০ কোটি ৩২ লাখ ৫০ হাজার টাকার সংশোধিত বাজেট অনুমোদন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট।

সোমবার (২৯ জুন) উপাচার্যের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ১১২তম (বিশেষ) সভায় এ বাজেট অনুমোদন করা হয়। সভায় বাজেট উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন। বাজেটের বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেন অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. শেখ রফিকুল ইসলাম।

অনুমোদিত বাজেট অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের পরিমাণ ২৩০ কোটি ৩২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) বরাদ্দ ২০২ কোটি ৮২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় ২৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। অন্যদিকে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৩৩০ কোটি টাকার মূল বাজেটে ইউজিসির বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১৫৯ কোটি ১০ লাখ ৬৩ হাজার টাকা, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় ২৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং ঘাটতি রয়েছে ১৪৩ কোটি ৩৯ লাখ ৩৭ হাজার টাকা।

বাজেটে গবেষণা খাতে ৮ কোটি টাকা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা খাতে ৩০ লাখ টাকা, অন্যান্য অনুদান খাতে ৬২ কোটি ৬ লাখ ৩৪ হাজার টাকা, যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, যানবাহন খাতে ৫ কোটি টাকা, তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং অন্যান্য মূলধন খাতে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া বেতন-ভাতা বাবদ ১২৯ কোটি ৮০ লাখ ৬৬ হাজার টাকা এবং পণ্য ও সেবা খাতে ১০৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বৃত্তি বাবদ ৬০ কোটি টাকা এবং অস্থায়ী হল নির্মাণের জন্য ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাবও বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সিন্ডিকেট সভায় জানানো হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ইউজিসি গবেষণা অনুদান ও যানবাহন খাতের বরাদ্দ আপাতত স্থগিত রেখেছে। পাশাপাশি কয়েকটি খাতে চাহিদার তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ কম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে সংশোধিত বাজেটে এসব বরাদ্দ পাওয়া যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

উন্নয়ন বাজেটের আওতায় ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস স্থাপন: ভূমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন (প্রথম সংশোধিত)’ প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৭৪৬ কোটি ৬ লাখ ৩১ হাজার টাকা। এর মধ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত উন্নয়ন বাজেট ৩৬৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা এবং প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২০১ কোটি ২১ লাখ ১১ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকটের স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত অস্থায়ী হল নির্মাণে ৩০ কোটি টাকা এবং বিশেষ বৃত্তি বাস্তবায়নে ৬০ কোটি টাকাসহ মোট ১৪৩ কোটি ৩৯ লাখ ৩৭ হাজার টাকার ঘাটতি পূরণে ইউজিসির মাধ্যমে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ প্রদানের জন্য জোর সুপারিশ করা হয়।

সভা শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বাজেট প্রণয়ন ও অনুমোদন প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার জন্য অর্থ কমিটির সদস্যবৃন্দ, ট্রেজারার, অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানান

ঢাবি অ্যাকাউন্টিং অ্যালামনাইয়ের নেতৃত্বে ড. এম এ হালিম পাটোয়ারী ও ড. মাহমুদা আক্তার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
ঢাবি অ্যাকাউন্টিং অ্যালামনাইয়ের নেতৃত্বে ড. এম এ হালিম পাটোয়ারী ও ড. মাহমুদা আক্তার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাকাউন্টিং অ্যালামনাইয়ের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি ড. এম এ হালিম পাটোয়ারী ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মাহমুদা আক্তার নির্বাচিত হয়েছেন। 

রবিবার (২৮ জুন) বিকেল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের অডিটরিয়ামে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাকাউন্টিং অ্যালামনাইয়ের সাধারণ সভা ও নির্বাচন ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়।

সাধারণ সভায় ২০২৬-২৭ এবং ২০২৭-২৮ মেয়াদের জন্য ২৭ সদস্যের একটি নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি নির্বাচিত হয়। নির্বাচনে সভাপতি হিসেবে ষষ্ঠ ব্যাচের ড. এম এ হালিম পাটোয়ারী  এবং অষ্টম ব্যাচের অধ্যাপক ড. মাহমুদা আক্তার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। 

নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির সহসভাপতি পদে মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন এবং মো. কায়সার হামিদ। এ ছাড়া কোষাধ্যক্ষ পদে  সাইফুল ইসলাম নির্বাচিত হয়েছেন।

৪ বেসরকারি কলেজের নাম পরিবর্তনের অনুমোদন

অনলাইন ডেস্ক
৪ বেসরকারি কলেজের নাম পরিবর্তনের অনুমোদন

চারটি বেসরকারি কলেজের নাম পরিবর্তনের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। রবিবার (২৮ জুন) এসংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ। এতে সই করেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বেসরকারি কলেজ-৬ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মনজুরুল আলম।

প্রজ্ঞাপনের তথ্যানুযায়ী, বরিশাল অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার নাজিরপুর কলেজের নতুন নাম হবে শহীদ জিয়া কলেজ, নাজিরপুর, পিরোজপুর। একই সঙ্গে ভোলার চরফ্যাশনের জনতা বাজার কলেজের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে জনতা বাজার শহীদ জিয়াউর রহমান কলেজ, চরফ্যাশন, ভোলা।

আরেকটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মৌলানা আছাদ আলী ডিগ্রি কলেজের নাম পরিবর্তন করে সৈয়দ সঈদউদ্দীন ডিগ্রি কলেজ, মাধবপুর, হবিগঞ্জ রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

একই দিনে জারি করা আরো একটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর আয়েশা ছিদ্দিক মহিলা কলেজের নাম পরিবর্তন করে আয়েশা ছিদ্দিক মডেল কলেজ রাখার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি কলেজগুলোর নাম পরিবর্তনের অনুমতি নির্দেশক্রমে প্রদান করা হয়েছে।