• ই-পেপার

বিগত সময়ের অবহেলায় অনেক স্কুলের অবকাঠামো বেহাল : জুবাইদা রহমান

রাতেই বিক্ষোভে নামছে ছাত্রশিবির

অনলাইন ডেস্ক
রাতেই বিক্ষোভে নামছে ছাত্রশিবির
সংগৃহীত ছবি

জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের নারী সংসদ সদস্যদের হিজাব নিয়ে কটূক্তি এবং দেশব্যাপী অব্যাহত ধর্ষণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। রবিবার (১৪ জুন) রাতে সংগঠনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।

ফেসবুক পোস্টে জানানো হয়, জাতীয় সংসদে হিজাব নিয়ে কটাক্ষ এবং সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে চলমান ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে আজ রাত সাড়ে ৯টায় রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল করবে সংগঠনটি। ঢাকার মূল মিছিলটি জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম থেকে শুরু হয়ে তোপখানা রোডের জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বরে গিয়ে শেষ হবে।

জানা গেছে, বাজেট অধিবেশনে প্রবীণ সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক (হিজাব) ইঙ্গিত করে দেওয়া বক্তব্য এবং সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া নারী নির্যাতনের ঘটনায় এই বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে।

জিয়াউর রহমানের জীবন নিয়ে উঁচু মানের গবেষণা প্রয়োজন : মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
জিয়াউর রহমানের জীবন নিয়ে উঁচু মানের গবেষণা প্রয়োজন : মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে নিয়ে আলোচনা করতে গেলে এত অল্প পরিসরে হয় না। তাকে নিয়ে গবেষণাটা এত অপ্রতুল যে ইতিহাসের প্রতি কিছুটা কৃপণতা ও অবিচার করা হয়েছে। তা দূর করতে জিয়াউর রহমানের পুরো জীবন, তার কাজ, চিন্তাভাবনাগুলো নিয়ে অত্যন্ত উঁচু মানের একটা গবেষণা হওয়া প্রয়োজন।’

রবিবার (১৪ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘গণমাধ্যম ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান’ শীর্ষক এক আলোচনাসভায় তিনি এ কথা বলেন। জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে এই আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমি যতগুলো বই পড়েছি, আমার কাছে একমাত্র আমাদের বিশিষ্ট সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ সাহেবের লেখা বইটাই সবচেয়ে ভালো লেগেছে। জিয়াউর রহমান মাত্র সাড়ে তিন-চার বছরে অনেক কাজ করেছেন। রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে তিনি হাত দিয়েছিলেন। তার মৌলিক কাজগুলোর মধ্যে একটি হলো আমাদের আলাদা আইডেন্টিটি দিয়ে গেছেন। আমি যে পশ্চিম বাংলার বাঙালি নই, এই ভূখণ্ডের একজন নাগরিক এবং আমাদের যে আলাদা একটা সত্তা আছে, এটা তিনি এস্টাবলিশ করেছেন তার বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মধ্য দিয়ে। আমার কাছে তার বড় কাজের মধ্যে দ্বিতীয় হচ্ছে, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য কাজ শুরু করেছিলেন।’

দেশের গণমাধ্যম নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘মিডিয়ার সমস্যা এখন বিশাল। আমি অত কিছু বলতে চাই না। সবচেয়ে বড় সমস্যা, মিডিয়া তো এখন মিডিয়া নাই। এখন বিজনেস হাউসের প্রতিনিধি হয়ে গেছে। চাটুকারিতা কাকে বলে, এখন মিডিয়াতে দেখা যায়। কিছু মনে করবেন না, লাস্ট রেজিমে কিভাবে চাটুকারিতা হয়েছে তা আমরা দেখেছি। আশা করব, এখন আপনারা সেখান থেকে বেরিয়ে এসছেন, লড়াই করেছেন, যুদ্ধ করেছেন এর বিরুদ্ধে নিঃসন্দেহে। আপনারা ভালোভাবে এটাকে কাজে লাগান, আমরা আপনাদের সঙ্গে আগেও ছিলাম, এখনো আছি। এই ব্যাপারে আপনাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করব।’

একই অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী এবং ১৬ জুনের সংবাদপত্র বাতিলের কালো আইনের মধ্য দিয়ে দেশের গণমাধ্যম যে অন্ধকার গলিতে ঢুকে পড়েছিল, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্ম না হলে সেখান থেকে গণমাধ্যমকে আবার মুক্ত আকাশে বের করা সম্ভব হতো কি না—ইতিহাসে সেই প্রশ্ন রয়েছে। বাংলাদেশের গণমাধ্যমকে যুগ যুগ ধরে শহীদ জিয়াউর রহমানকে সসম্মানে স্মরণ করতে হবে, কারণ তিনি স্বাধীন গণমাধ্যমের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে কাজ করেছেন।’

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও কালের কণ্ঠের সম্পাদক কবি হাসান হাফিজ বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট জিয়া ছিলেন সাধারণ মানুষের মাটির সন্তান। এখন বিএনপি নতুন চ্যালেঞ্জের মধ্যে আছে। এখানে ফ্যাসিবাদের ষড়যন্ত্র আছে। সীমান্তে রক্ত ঝরছে। ভারতের ১২০ কোটি আর বাংলাদেশের ২০ কোটি মিলে বিশ্বশক্তি হতে পারে, আমরা এই বয়ান গ্রহণ করতে রাজি নই। আমরা ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব চাই সমতার ভিত্তিতে, ন্যায্যতার ভিত্তিতে।’

তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের ওপর অনেক গবেষণার অবকাশ আছে। তাকে নিয়ে গবেষণা করতে হবে, আবিষ্কার করতে হবে, পুনরাবিষ্কার ও পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে তা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। আমাদের গণতন্ত্রের জন্য প্রেসিডেন্ট জিয়ার আদর্শ ও কাজের কাছে দ্বারস্থ হতে হবে।’

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ূব ভূঁইয়া, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শহীদুল ইসলাম এবং দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার, দৈনিক সময়ের আলো পত্রিকার উপদেষ্টা সম্পাদক শায়রুল কবির খান প্রমুখ।

দেশের অর্থনীতি গভীর চাপের মধ্যে রয়েছে : নাহিদ ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
দেশের অর্থনীতি গভীর চাপের মধ্যে রয়েছে : নাহিদ ইসলাম
সংগৃহীত ছবি

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার ঘোষিত বাজেট সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে ব্যর্থ হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি সংকট, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় জনগণ চরম দুর্ভোগে রয়েছে। অথচ বাজেটে এসব সংকট মোকাবেলায় কার্যকর কোনো দিকনির্দেশনা নেই। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে জনগণের জীবনে যে দুর্ভোগ নেমে এসেছে, তা দেশের মানুষকে হতাশ ও ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। সরকার জনগণের কষ্ট উপলব্ধি না করে সমালোচনাকে উপহাসের চোখে দেখছে। বাস্তবতা হলো, দেশের অর্থনীতি ও জনজীবন আজ গভীর চাপের মধ্যে রয়েছে।

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। 

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করে।

নাহিদ ইসলাম আরো বলেন, ব্যাংকিং খাত, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। কোনো গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার জন্য জাতীয় সম্পদকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া যাবে না। জনগণের আমানত ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ভিত্তিতে পরিচালনা করতে হবে।

জামায়াত আমির

৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে অগ্রাহ্য করে কোনো সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে পারে না

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে অগ্রাহ্য করে কোনো সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে পারে না

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে অগ্রাহ্য করে কোনো সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে পারে না। জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করা গণতন্ত্রের চেতনার পরিপন্থী। জনগণ তাদের ভোটাধিকার ও গণরায়ের যথাযথ প্রতিফলন দেখতে চায়। সরকার যদি জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, তাহলে জনগণই তার জবাব দেবে। জনরায় মানে না যে সরকার, সে সরকার জনগণের সরকার হতে পারে না।’

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। 

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করে।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে যোগ্য, সৎ ও দেশপ্রেমিক লোকদের মূল্যায়ন না করে ভিন্নমতাবলম্বীদের দমন এবং দলীয়করণের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা করা হচ্ছে। সংসদে জনগণের সমস্যা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে গেলেও নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। অথচ সংসদ জনগণের কথা বলার জায়গা।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা বিদেশি শক্তির কাছে ইজারা দেওয়া হবে না। দেশের ১৮ কোটি মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে এই দেশকে রক্ষা করবে। আমরা জাতির সঙ্গে বেঈমানি করব না; জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন হলে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতেও প্রস্তুত আছি।’

তিনি বলেন, ‘দেশে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি আজ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে। নির্বাচিত ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে এসব অপসংস্কৃতির অবসান ঘটবে। জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের সংগ্রাম চলবে সংসদেও, রাজপথেও। ভয়ভীতি, মামলা-হামলা কিংবা কারাবাসের হুমকি দিয়ে জনগণের আন্দোলন দমিয়ে রাখা যাবে না।’