বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে সেরা ফুটবলার কে, এই বিতর্কে কয়েকটি নাম ঘুরেফিরে আসে বারবার। পেলে, ডিয়েগো ম্যারাডোনার পর লিওনেল মেসি নাকি ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো সর্বকালের সেরা, তা নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনাটা অন্তহীন। তবে ক্যারিয়ারের শেষ ভাগে এসে ৩৯ ছুঁই ছুঁই বয়সেও রেকর্ড ভাঙা-গড়ার খেলায় থাকা মেসির শ্রেষ্ঠত্ব মানার বিষয়ে অনেক কিংবদন্তিই এখন এক কাতারে। এবার ব্রাজিলের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার রোনালদো নাজারিও ঘোষণা দিয়েছেন, মেসিই সর্বকালের সেরা এবং তা সবারই মেনে নেওয়া উচিত।
এবার বিশ্বকাপে মেসি খেলবেন কি না তা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার স্কোয়াডে জায়গা করে তিনি। আলবিসিলেস্তেদের হয়ে বিশ্বকাপ জেতা বাকি ছিল, সেটিও পূর্ণ করেছেন গতবার। এবার তাহলে কী করবেন মেসি, আলজেরিয়ার বিপক্ষে দলের প্রথম ম্যাচেই তিনি নতুন কিছুই করে দেখালেন। রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নামা প্রথম ফুটবলার হিসেবে নেমে করলেন হ্যাটট্রিক। আগের পাঁচটি আসরে তা করা হয়নি। এতেই ছুঁয়ে ফেলেছেন অবসরে যাওয়া জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার বৈশ্বিক মঞ্চে সর্বাধিক ১৬ গোলের রেকর্ড। গ্রুপ পর্বেই আরো দুটি ম্যাচ বাকি থাকায় আর্জেন্টাইন সুপারস্টারের জন্য দারুণ সুযোগ ক্লোসাকে ছাড়িয়ে নতুন উচ্চতায় ওঠার। একটি মাত্র গোলের প্রয়োজন মেসির, এমন এক ঘটনায় ক্লোসাও চুপ থাকেননি। তিনি বলেছেন, ‘এই টুর্নামেন্টে আমার রেকর্ড ভেঙে যাওয়ার অপেক্ষাতেই ছিলাম। নিশ্চিতভাবেই এটা সঠিকভাবে হয়েছে, এটা করার জন্য মেসিকে অভিবাদন। আমি মেসির অনেক বড় ভক্ত, সব সময়ই থাকব। মেসি নিশ্চিতভাবেই অসাধারণ।’
লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের প্রথম এবং বিশ্বের ইতিহাসে তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে ২০০তম ম্যাচ খেলতে নামার মাইলফলকেই নয়া কীর্তি গড়েছেন তিনি। তাতে মুগ্ধ হয়েছেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিও, ‘যতবারই মেসি মাঠে নামেন, বাকি সবকিছুই ঐতিহাসিক ও দৃষ্টিনন্দন হয়ে ওঠে। বিশ্বের মানুষের এখন আর লুকিয়ে না থেকে এই সত্যটি মেনে নেওয়ার সময় এসেছে যে তিনিই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়। তিনি মাঠে যা করেন, তা সব যুক্তিকে হার মানায়।’ আগের পাঁচ বিশ্বকাপে বয়সে তরুণ থেকেও হ্যাটট্রিক করাটাই বাকি ছিল, যে অপ্রাপ্তিটাও ঘুচিয়েছেন এলএমটেন। তাই রোনালদোর দাবি, ‘এই বয়সেও এমন মঞ্চে এত শান্ত থেকে এবং নিখুঁতভাবে তাঁকে খেলতে দেখাটা ফুটবল ভালোবাসে এমন যেকোনো মানুষের জন্য এক পরম সৌভাগ্য। তিনি প্রতিটি মৌসুমে এবং বিশ্বকাপে পারফরম করে চলেছেন, তবু তাঁকে নিয়ে এখনো মানুষের মনে সন্দেহ জাগে। এটি একটি অবিস্মরণীয় ও ঐতিহাসিক রাত, যা চিরকালের জন্য ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে।’
গত বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই সৌদি আরবের কাছে হৃদয়ভাঙা হার দেখা আর্জেন্টিনাকে আলো ঝলমলে পারফরম্যান্সে শিরোপা জিতিয়েছেন মেসি। তাঁর মানসিক দৃঢ়তা নিয়ে রোনালদোর মত, ‘আর যে মানুষটি এই রেকর্ডগুলো ভাঙছে, তা বিশ্বজুুড়ে ফুটবলভক্তদের জন্য বিস্ময়কর কিছু নয়। আর্জেন্টিনা দারুণ একটি দল, তবে তিনিই (মেসি) এখন পার্থক্য গড়ে দেওয়া খেলোয়াড়। এ বয়সেও তিনি বিজয়ী হওয়ার মানসিকতা নিয়ে নামেন, যা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে রাখে।’ এ জন্যই হারের পরও আলজেরিয়ার কোচ ভ্লাদিমির পেতকোভিচ বলেছিলেন, ‘আমরা কোনো বয়স্ক ফুটবলারকে নিয়ে কথা বলছি না, এমন এক ফুটবলারকে নিয়ে বলছি যে আটবার ব্যালন ডি’র জিতেছে, যার ভাবনাচিন্তা সুস্থির থাকে খেলার কঠিন সময়েও। এক যুগ ধরে তিনি অবিশ্বাস্য কাজগুলো এভাবেই করে যাচ্ছেন।’



