• ই-পেপার

যুক্তরাজ্যে মসজিদের নিরাপত্তা বিষয়ে নতুন নির্দেশনা

কোরআন থেকে শিক্ষা

পর্ব-১১৫৮

কোরআন থেকে শিক্ষা

আয়াতের অর্থ

স্মরণ কোরো, আদ সম্প্রদায়ের ভাইয়ের কথা, যার আগে ও পরেও সতর্ককারীরা এসেছিল। সে তার আহকাফবাসী সম্প্রদায়কে সতর্ক করেছিল এই বলে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া কারো ইবাদত কোরো না। আমি তো তোমাদের জন্য মহাদিবসের শাস্তির আশঙ্কা করছি।...অতঃপর তাদের পরিণাম এই হলো যে তাদের বসতিগুলো ছাড়া আর কিছুই রইল না। এভাবে আমি অপরাধী সম্প্রদায়কে প্রতিফল দিয়ে থাকি। (সুরা : আহকাফ, আয়াত : ২১-২৫)

আয়াতগুলোতে আদ জাতির ঘটনা বর্ণনা হয়েছে।

শিক্ষা ও বিধান

১. আয়াতে আদ সম্প্রদায়ের ভাই দ্বারা হুদ (আ.) উদ্দেশ্য। আদ জাতি আহকাফ নামক স্থানে বসবাস করত। হুদ (আ.)-কে প্রথম তাদের কাছে প্রেরণ করা হয়েছিল।

২. আহকাফ অর্থ বালুর পাহাড়। আলী (রা.) বলেন, আহকাফ হাজারা মাউতের বায়হুত নামক স্থানের একটি উপত্যকা।

৩. রাসুলুল্লাহ (সা.) হুদ (আ.)-এর জন্য দোয়া করেছিলেন, হে আল্লাহ! আমাদের প্রতি ও আদ জাতির ভাইয়ের প্রতি রহম করুন।

৪. আদ জাতি আল্লাহর শাস্তিকে অসম্ভব মনে করত। আল্লাহ শাস্তি দিয়ে তাদের বিশ্বাসকে ভ্রান্ত প্রমাণ করেন।

৫. আয়েশা (রা.) বলেন, আকাশে মেঘ বা ঝোড়ো বাতাস দেখলে মহানবী (সা.) চিন্তিত হতেন এবং তাঁর চেহারার
রং পরিবর্তন হয়ে যেত।

(তাফসিরে ইবনে কাসির : ১০/২২৪)

মনীষীর কথা

মনীষীর কথা

তিনটি বিষয়ের মাধ্যমে দ্বিনের ওপর দৃঢ়তা অর্জিত হয় : ক. বাহ্যিক শিষ্টাচার, খ. অন্তরের পরিশুদ্ধি, গ. আল্লাহর নৈকট্য ও ভালোবাসা।

আবু আলী দাক্কাক (রহ.)

প্রশ্ন-উত্তর

সমাধান : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা

প্রশ্ন-উত্তর

ব্রেইন স্ট্রোকের রোগীর নামাজ

প্রশ্ন : আমার বাবার বয়স ৮০-৮৫ বছর। ব্রেইন স্ট্রোকের রোগী। কথা মনে থাকে না, বিছানায়ই প্রাকৃতিক ডাকের সাড়া দিতে হয়। কথা গুছিয়ে বলতে পারেন না। আবোল-তাবোল কথা বলেন। এক কথা থেকে অন্য কথায় চলে যান। বিছানা থেকে উঠে অজু করার ক্ষমতা তাঁর নেই। মানুষ কোনো সময় চেনেন, কোনো সময় চেনেন না। কখনো ২৪ ঘণ্টাই ঘুমান না, আবার কখনো টানা ঘুমাতে থাকেন। এককথায় তিনি একেবারেই অস্বাভাবিক। দুই বছর ধরে তাঁর অবস্থা একই রকম। এই মুহূর্তে তাঁর মৃত্যু হলে তাঁর নামাজের কাফফারা সম্পর্কে জানানোর জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।

শফিকুল আলম, মাদারীপুর

উত্তর : প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী আপনার বাবা যেহেতু বেশির ভাগ সময় বিবেক-বুদ্ধিহীন অবস্থায় থাকেন, তাই তিনি মাজুর হিসেবে গণ্য হবেন। এ অবস্থায় কেউ তাঁকে নামাজের কথা স্মরণ করিয়ে দিলে যদি স্বজ্ঞানে নামাজ পড়তে পারেন, তাহলে তাঁকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া আবশ্যক। তবে যদি স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পরও তিনি স্বজ্ঞানে নামাজ পড়তে সক্ষম না হন, তবে ওই নামাজগুলো মাফ হয়ে যাবে। এ অবস্থায় মৃত্যু হলে ছুটে যাওয়া নামাজসমূহের কাফফারা আদায় করতে হবে না। (সুরা : বাকারা : ২৮৬, রদ্দুল মুহতার : ২/১২, হিন্দিয়া : ১/১৩৭)

ছয় পবিত্রতায় মুমিনের পরিশুদ্ধি

আলেমা হাবিবা আক্তার
ছয় পবিত্রতায় মুমিনের পরিশুদ্ধি

পার্থিব জীবনে মুমিনের লক্ষ্য মহান আল্লাহর নৈকট্য ও ভালোবাসা অর্জন করা। এই ভালোবাসা অর্জনের অন্যতম শর্ত হলো জীবনকে সব ধরনের পাপ-পঙ্কিলতা ও অপবিত্রতা থেকে দূরে থাকা। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, হে মানুষ! আল্লাহ পবিত্র। তিনি পবিত্র জিনিস ছাড়া কিছু গ্রহণ করেন না। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ২৯৮৯)

বিজ্ঞ আলেমরা বলেন, ছয় ধরনের পবিত্রতার মাধ্যমে মুমিন তার জীবনে পরিশুদ্ধি লাভ করে থাকে। তা হলো

১. বিশ্বাসের পবিত্রতা : মহান স্রষ্টা ও তাঁর সৃষ্টির ব্যাপারে ভুল বিশ্বাস লালন করা হলো বিশ্বাসের অপবিত্রতা। মুমিন বিশ্বাস ও মননে অপবিত্রতা থেকে বেঁচে থাকে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, হে মুমিনরা! নিশ্চয়ই মুশরিকরা নাপাক। সুতরাং তারা যেন এই বছরের পর আর মসজিদুল হারামের নিকটবর্তী না হয়। (সুরা : তাওবা, আয়াত : ২৮)

২. কাজের পবিত্রতা : মুমিন তার দৈনন্দিন কাজ ও আমলের ক্ষেত্রে পবিত্রতা রক্ষা করে এবং অশ্লীলতা, কলুষতা, নোংরামি ও বিপর্যয় সৃষ্টিকারী কাজ পরিহার করে। আল্লাহ বলেন, হে মুমিনরা! মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদি ও ভাগ্য নির্ণায়ক শর ঘৃণ্য বস্তু, শয়তানের কাজ। সুতরাং তোমরা তা বর্জন করো। যাতে তোমরা সফল হও। (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৯০)

৩. খাবারের পবিত্রতা : পানাহারে মুমিনরা পবিত্র রক্ষা করে। আল্লাহ বলেন, হে রাসুলগণ! তোমরা পবিত্র বস্তু হতে আহার কোরো এবং সৎকাজ কোরো। তোমরা যা কোরো সে সম্বন্ধে আমি সবিশেষ অবগত। (সুরা : মুমিনুন, আয়াত ৫১)

৪. পোশাকের পবিত্রতা : মুমিনের পোশাক-পরিচ্ছদও হয় পবিত্র। ইরশাদ হয়েছে, হে বস্ত্রাচ্ছাদিত! দাঁড়ান, (আপনজনদের) সতর্ক করুন, আপনার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করুন এবং আপনার পোশাক পবিত্র রাখুন। (সুরা : মুদ্দাসসির, আয়াত : ১-৪)

৫. ইবাদতে পবিত্রতা : ইবাদত প্রার্থনায় অংশগ্রহণের আগে মুমিন পবিত্রতা অর্জন করে। ইরশাদ হয়েছে, হে মুমিনরা! যখন তোমরা নামাজের জন্য প্রস্তুত হইবে, তখন তোমরা তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করবে এবং তোমাদের মাথা মাসাহ করবে; পা গ্রন্থি পর্যন্ত ধৌত করবে। যদি তোমরা অপবিত্র থাকো, তবে বিশেষভাবে পবিত্র হবে। (সুরা :  মায়িদা, আয়াত : ৬)

৬. ব্যক্তিগত জীবনে পবিত্রতা : শুধু ঈমান ও ইবাদতের ক্ষেত্রে নয়, বরং মুমিন একান্ত ব্যক্তিগত জীবনেও পবিত্রতা রক্ষা করে। ইরশাদ হয়েছে, লোকে তোমাকে রজঃস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলুন, তা অশুচি। সুতরাং তোমরা রজঃস্রাবকালে স্ত্রী সংগম বর্জন করবে এবং পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত স্ত্রী সংগম করবে না। (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২২২)

আল্লাহ সবার জীবনকে পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন করে দেন। আমিন।