প্রত্নসম্পদ থাকার কথা সযত্নে ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের আওতায়। সেই অমূল্য সম্পদই কিনা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে অযত্ন-অবহেলায়। শুধু তা-ই নয়, সংরক্ষিত প্রত্নস্থাপনা পরিণত হয়েছে স্থানীয় বখাটে ও মাদকাসক্তদের আড্ডাখানায়। গতকাল কালের কণ্ঠের খবরে এমনটিই জানা গেছে মুন্সীগঞ্জের ঐতিহাসিক ‘বিক্রমপুরী বৌদ্ধ বিহার প্রত্নস্থান উন্মুক্ত জাদুঘর’ সম্পর্কে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে হারিয়ে যেতে বসেছে এক হাজার ৩০০ বছরের পুরনো এই প্রত্ননিদর্শন।
জানা গেছে, প্রত্নস্থানটি মহারাজ ধর্মপালের শাসনামলে নির্মিত ৩০টি উল্লেখযোগ্য বিহারের মধ্যে অন্যতম। ২০১০ সালে ‘অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে এটির খননকাজ শুরু হয়। এতে অর্থের জোগান দেয় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। কিন্তু কাজ শেষে ২০২২ সালে মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রত্নস্থানটি অধিগ্রহণ ও সংরক্ষণের জন্য আবেদন করা হলেও আজ পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি।
খবরে বলা হয়েছে, উন্মুক্ত জাদুঘরের ভেতরে একটি পাঠাগার, পুকুর ও দর্শনার্থীদের বসার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে পাঠাগার বন্ধ রাখা হয়েছে। নানা ভোগান্তি হয় বলে দর্শনার্থীর সংখ্যাও কমে গেছে। স্থানীয় লোকজন জানিয়েছে, আগে দর্শনার্থী এলেও এখন আর কেউ আসে না। অভিযোগ রয়েছে, এখানে নিয়মিত মাদকসেবীদের আড্ডা বসে; চলে বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত। প্রত্নস্থানটির দেখভালের দায়িত্বে থাকা হৃদয় মোল্লা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অর্থের অভাবে পুরো প্রকল্প কার্যত এখন বন্ধ।
অধ্যাপক ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এটা হচ্ছে বাংলাদেশে দ্বিতীয় উন্মুক্ত জাদুঘর। জাদুঘরের মনুমেন্টের অংশ ছাড়া বাকি ঘর তৈরি, পুকুর করা, গাছ লাগানোসহ বেশ কিছু জমি অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন কিনে নিয়েছে। কিন্তু এই বৌদ্ধ বিহারের স্ট্রাকচার এত বড় যে বাকিটা উদ্ধার করতে আরো ২০ বছর লাগবে। সব আশপাশের মাটির নিচে।’ তিনি আরো বলেন, ‘প্রকল্পে অর্থায়ন বন্ধ হওয়ায় এখন বিদ্যুতের সংযোগও বন্ধ করতে হয়েছে।’ এদিকে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে চলতি বছরই প্রত্নতত্ত্ব বিভাগে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এরপর রক্ষণাবেক্ষণসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
প্রত্ননির্দশন যেকোনো দেশের, জাতির আদি বর্ণমালার মতো, যা শিকড়ের পরিচয় বহন করে থাকে। কাজেই অতীত জানতে হলে অবশ্যই আমাদের প্রত্ননির্দশনগুলো সংরক্ষণ করতে হবে। আশা করছি, মুন্সীগঞ্জের উন্মুক্ত জাদুঘরটি সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অন্তর্ভুক্ত করে প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা হবে।

