• ই-পেপার

হাম

বড়দেরও হয় হাম

খুশকি নিয়ন্ত্রণ

খুশকি নিয়ন্ত্রণ

চোখ

দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিন ব্যবহার নয়

প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ধরে ডিজিটাল ডিভাইসের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকেন অনেকে। এর প্রভাবে চোখে বাড়তি চাপ পড়ে, দেখা দেয় কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম। এই রোগের উপসর্গ ও প্রতিকার নিয়ে লিখেছেন ডা. শাহেদ হায়দার চৌধুরী

দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিন ব্যবহার নয়

বেশির ভাগ স্মার্ট ডিভাইসে দিনের কতটা সময় স্ক্রিন চালু ছিল সেটি দেখার অপশন রয়েছে। পরীক্ষা করলে দেখা যাবে, অনেকেই হয়তো দিনের পাঁচ থেকে সাত ঘণ্টা স্ক্রিনে তাকিয়েই কাটিয়ে দিয়েছেন। ১২-১৪ ঘণ্টাও ব্যবহার করছেন কেউ কেউ। প্রয়োজন-অপ্রয়োজনে ডিজিটাল ডিভাইসের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের প্রবণতা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। তরুণদের মধ্যে এমনটা বেশি দেখা যায়।

দীর্ঘ সময় ধরে কম্পিউটার, স্মার্টফোন বা ল্যাপটপের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলে দেখা দিতে পারে চোখের রোগ কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম। এতে দৃষ্টিশক্তির স্থায়ী ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

কেন হয়

এই রোগের মূল কারণ রাত জেগে কম্পিউটার বা স্মার্টফোন ব্যবহার। ঘরে কিংবা অফিস রুমে এসি ব্যবহার করলে চোখের শুষ্কতা বেড়ে যায়। অনেকেই বিভিন্ন কারণে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করেন না, এটিও চোখের শুষ্কতার কারণ। পানিশূন্যতাজনিত চোখের শুষ্কতা বেশি দেখা যায় নারী ও শিশুদের মধ্যে।

চিকিৎসকের মতে, এই রোগে আক্রান্তের হার বাড়িয়েছে ডিজিটাল আসক্তি। কিশোর-তরুণদের পাশাপাশি এখন ছোট শিশুরাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে মোবাইল স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকছে। অনেক অভিভাবকের বক্তব্য, সন্তানরা স্মার্টফোন না পেলে খেতে চায় না। অথচ কোমলমতি শিশুদের জন্য যেকোনো ধরনের স্ক্রিন ব্যবহারই চোখের জন্য ক্ষতিকর। এতে দৈহিক ও মানসিক দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা দেখা দিতে পারে।

 

উপসর্গ

এই রোগের প্রাথমিক উপসর্গ হিসেবে দেখা দেয় মাথা ব্যথা, চোখ ব্যথা, ঘাড় ব্যথা ও চোখের শুষ্কতা। যারা চশমা ব্যবহার করে, তাদের অনেকেই ঘন ঘন চশমার পাওয়ার বদলের তাগিদের কথা জানায়। অনেকের স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পায়। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে চোখের পানি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। রোগের প্রকোপ বাড়লে দেখা দেয় তীব্র মাথা ব্যথা। চোখ ও ঘাড়ের ব্যথা অসহ্য হয়ে ওঠে।

 

করণীয়

এই রোগের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। উপসর্গ উপশমের জন্য চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত কৃত্রিম অশ্রু বা আর্টিফিশিয়াল টিয়ার আই ড্রপ ব্যবহার করতে হবে। তবে স্ক্রিন টাইম কমানো এই রোগের মূল চিকিৎসা। সবাইকে ডিজিটাল স্ক্রিন ব্যবহারে সতর্ক হতে হবে। রাত জেগে না করাই শ্রেয়। কোনো অবস্থায়ই শিশুদের হাতে স্মার্টফোন দেওয়া যাবে না। গেম খেলার অভ্যাস থাকলে ত্যাগ করাতে হবে। স্বাভাবিক মানসিক বিকাশের জন্য বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে হবে শিশুদের। গাছপালা ও সবুজ প্রকৃতির সঙ্গে সখ্য বাড়াতে হবে। স্মার্টফোন নয়, প্রয়োজনে টিভি স্ক্রিনে সীমিত সময়ের জন্য কার্টুন কিংবা ছোটদের উপযোগী অনুষ্ঠান দেখতে দেওয়া যেতে পারে।

প্রাপ্তবয়স্কদের উচিত ২০-২০-২০ ফর্মুলা মেনে চলা। এই ফর্মুলায় ডিজিটাল স্ক্রিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে ২০ মিনিট পর পর ন্যূনতম ২০ সেকেন্ডের জন্য স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে অন্তত ২০ ফুট দূরত্বে সবুজের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। কাজের ফাঁকে চা, কফি এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করাও জরুরি। খাদ্যতালিকায় প্রচুর পরিমাণে শাক-সবজি, মাছ, ডাল ও  রসালো ফল থাকতে হবে। এতে চোখের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় থাকে এবং চোখের শুষ্কতা হ্রাস পায়।

প্রত্যেকের উচিত চোখের যত্নে সচেতন হওয়া। চোখ ভালো রেখে নিজেকে দীর্ঘদিন কর্মক্ষম রাখার মানসিকতা গড়তে হবে। শিশুদের চোখের যত্নে প্রত্যেক মা-বাবাকে আরো বেশি সচেষ্ট ও সতর্ক হতে হবে। ছোট শিশুদের যেকোনো ধরনের ভিজিটাল ডিভাইসে আসক্ত না করাই শ্রেয়। আগামী প্রজন্মের চোখ ভালো রাখার দায়িত্ব আপনার, আমার—আমাদের সবার।

ভালো থাকুক আমাদের প্রতিটি চোখ। জনশক্তিতে সমৃদ্ধ হোক আমাদের বাংলাদেশ।

 

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান

চক্ষুরোগ বিভাগ

ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা

 

 

 

লিভার

নীরব ঘাতক ফ্যাটি লিভার

ফ্যাটি লিভার ডিজিজকে বলা হয় ‘সাইলেন্ট এপিডেমিক’। বিশ্বের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত। নীরবে শরীরের ক্ষতি করে এই রোগ। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে সনাক্ত করা গেলে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি প্রতিরোধ করা সম্ভব। বিস্তারিত জানাচ্ছেন ডা. মুহাম্মদ সায়দুল আরেফিন

নীরব ঘাতক ফ্যাটি লিভার

জুনের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার পালিত হয় বিশ্ব ফ্যাটি লিভার দিবস। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা গ্লোবাল লিভার ইনস্টিটিউট (GLI) দিবসটি পালন শুরু করে। ফ্যাটি লিভার ডিজিজ বা ‘চর্বিযুক্ত যকৃৎ’ রোগ বিষয়ে জনশিক্ষা ও সচেতনতা বাড়াতে দিবসটি পালিত হয়ে থাকে।

বিশ্বজুড়ে প্রতিনিয়ত বাড়ছে ফ্যাটি লিভার ডিজিজে আক্রান্তের সংখ্যা। এ বিষয়ে এখনো সচেতন নন অনেকেই। ফলে ফ্যাটি লিভারের প্রকোপ বেড়ে যকৃতের জটিল রোগ দেখা দেওয়ার পরই রোগীরা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন, তত দিনে আর রোগ পুরোপুরি নিরাময়ের সম্ভাবনা থাকে না।

 

ফ্যাটি লিভার কী

‘ফ্যাটি লিভার ডিজিজ’ নামের মধ্যেই রয়েছে এই রোগের পরিচয়। যকৃৎ বা লিভারের মধ্যে চর্বি জমলে এটি হয়ে থাকে। বর্তমানে যেসব রোগী বিভিন্ন কারণে পেটের (Abdomen) আলট্রাসাউন্ড পরীক্ষা করছেন, তাঁদের অনেকের রিপোর্টেই এ রোগের নাম দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ এটিকে অবহেলা করছেন, কেউ আতঙ্কিত হয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হচ্ছেন।

লিভারের কোষে অতিরিক্ত চর্বি জমা হয়ে দেখা দেয় এই রোগ। প্রাথমিক পর্যায়ে এটির তেমন কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না, ফলে অজান্তেই রোগীর লিভারের কার্যক্ষমতা কমতে থাকে। সময়ের সঙ্গে রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেলে লিভারের কার্যক্ষমতা পুরোপুরিই নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

 

রোগের পর্যায়

চর্বি জমার ফলে লিভার কয়েকটি ধাপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে লিভারের কোনো বড় ক্ষতি না করেই চর্বি জমা হতে থাকে। পরবর্তী পর্যায়ে অতিরিক্ত চর্বি জমার ফলে লিভারে প্রদাহ তৈরি হয় এবং এরপর আরো অগ্রসর ধাপে লিভারে সৃষ্টি হয় ক্ষত। এ সময়ই মূলত রোগের লক্ষণ ধীরে ধীরে প্রকাশিত হতে থাকে।

 

উপসর্গ

প্রাথমিক পর্যায়ে ফ্যাটি লিভারের তেমন উপসর্গ না থাকলেও কিছু রোগীর ক্ষেত্রে পেটের ডান পাশে ওপরের দিকে হালকা ব্যথা থাকতে পারে। ফ্যাটি লিভার সিরোসিসে পরিণত হলে কিছু উপসর্গ দেখা দেয়। এর মধ্যে আছে পেটে পানি আসা, জন্ডিস, রক্তবমি ও অজ্ঞান হয়ে যাওয়া ইত্যাদি।

 

করণীয়

পেটের আলট্রাসাউন্ড পরীক্ষায় ‘ফ্যাটি লিভার’ মন্তব্য দেখে ঘাবড়ানো যাবে না। এ পরীক্ষায় অতিরিক্ত চর্বি জমার ফলে লিভারের একটি গঠনগত পরিবর্তন শনাক্ত হয়, কার্যক্ষমতা বা রোগের প্রকোপ নয়। গঠনগত পরিবর্তনের ফলে লিভারের কার্যক্ষমতা বিঘ্নিত হচ্ছে কি না সেটি জানা আবশ্যক। লিভারের কার্যক্ষমতা বিঘ্নিত হলে রক্ত পরীক্ষায় কিছু এনজাইমের মাত্রা (SGPT, SGOT) বেশি পাওয়া যায়। এ ছাড়া অ্যালবুমিন, প্রোথ্রম্বিন টাইম পরীক্ষার মাধ্যমে লিভারের কার্যক্ষমতা পরিমাপ করা হয়। এসব পরীক্ষার রিপোর্ট ভালো থাকলে দুশ্চিন্তার কারণ নেই, চিকিৎসকের ফলোআপে থাকলেই চলবে।

লিভারে চর্বি জমার কারণ জানতে ডায়াবেটিস, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা, হেপাটাইটিস সংক্রমণ পরীক্ষা করতে হবে। এই তিনটির অবস্থার সঙ্গে ফ্যাটি লিভার ডিজিজ ওতপ্রোতভাবে জড়িত, কোনো একটি ধরা পড়লে দ্রুত সঠিক চিকিৎসা করা অত্যন্ত জরুরি।

দীর্ঘদিন চর্বি জমলে লিভারে কোলাজেন নামক ফাইবার টিস্যু তৈরি হয়। এতে লিভার ধীরে ধীরে অমসৃণ ও শক্ত হয়ে যায় এবং লিভার ফাইব্রোসিস নামক জটিল রোগের সৃষ্টি হয়। এটি নির্ণয়ের জন্য ‘ফাইব্রোস্ক্যান’ নামক পরীক্ষা করা হয়ে থাকে। ফাইব্রোস্ক্যান সব রোগীর প্রয়োজন হয় না, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া না করাই শ্রেয়।

 

কেন হয় এ রোগ

ডায়াবেটিক রোগীদের ফ্যাটি লিভার হওয়ার ঝুঁকি বেশি। আবার যাঁদের ফ্যাটি লিভার আছে তাঁদের ডায়াবেটিস হওয়ারও ঝুঁকি রয়েছে। স্থূলতা, কায়িক পরিশ্রমের অভাব, উচ্চ রক্তচাপ, অতিরিক্ত ফাস্ট ফুড ও তৈলাক্ত খাবার গ্রহণের ফলেও ফ্যাটি লিভার হয়ে থাকে।

 

চিকিৎসা ও প্রতিরোধ

ফ্যাটি লিভারের মাত্র একটি স্বীকৃত ওষুধ রয়েছে, সেটি সব রোগীর জন্য প্রযোজ্যও নয়। মূলত খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে পরিবর্তন এনে চিকিৎসা করা হয়। তৈলাক্ত খাবার ও ফাস্ট ফুড পরিহার করে নিয়মিত হাঁটাচলা ও ব্যায়াম করলে ফ্যাটি লিভার অনেকটা হ্রাস পায়। যাঁদের ফ্যাটি লিভার নেই, তাঁদেরও সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। তেল-চর্বি কমিয়ে শাক-সবজি ও ফলমূল খেতে হবে বেশি বেশি। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা শারীরিক কার্যকলাপ করা জরুরি। অ্যালকোহল একেবারেই বাদ দিতে হবে। যাঁদের পরিবারে লিভার সমস্যার ইতিহাস রয়েছে তাঁদের অবশ্যই নিয়মিত ALT, AST, FibroScan ইত্যাদি পরীক্ষা করতে হবে।

 

লেখক : সহকারী অধ্যাপক

জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল

স্বাস্থ্যচিত্র

জ্বরের ঘরোয়া চিকিৎসা

জ্বরের ঘরোয়া চিকিৎসা